০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১১২)

একাদশ পরিচ্ছেদ

নিজের ওপর ফু’সে-ওঠা উন্মত্ত ক্রোধের সঙ্গে চারিদিকের সেই অভিশপ্ত বুক-

খাঁখাঁ-করা নৈঃশব্দ্যের প্রতি বিতৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল আমার মধ্যে। আর, নিষ্ফল আক্রোশ, মনস্তাপ আর হতাশায় পাগল হয়ে গিয়ে আচমকা লাফিয়ে উঠে পড়ে আমি পকেট থেকে বোমাটা টেনে বের করলুম। তারপর বোমার সেফটি ক্যাচ খুলে দিয়ে ঘাসফুল, ঘন ক্লোভার-ঘাস আর শিশিরে-ভেজা ব্লু-বেল ফুলের মাঝখানে সেই সবুজ মাঠের ওপর সজোরে ছুড়ে মারলুম সেটা।

আমি একান্তভাবে যা চাইছিলুম তাই হল। কান-ফাটানো আওয়াজ করে ফাটল বোমাটা। আর তার উন্মত্ত প্রতিধ্বনি দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল।

জঙ্গলের ধার ঘে’ষে এরপর হে’টে চললুম আমি।

‘হেই, কে যায় ওখেনে?’ সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের আড়াল থেকে একটা গলার আওয়াজ পেলুম।

চলতে চলতেই জবাব দিলুম, ‘আমি।’

‘আরে, আমিটা কে? না-কইলি এখখুনি গুলি চালাব।’

‘চুলোয় যা. চালা গুলি, দেখি!’ রেগে চে’চিয়ে মাওজারটা টেনে বের করলুম।

‘এই পাগল্য, থাম্।’ এবার আরেকটা, যেন একটু চেনা-চেনা, একটা গলা শোনা গেল। ‘এই ভাস্কা, দাঁড়া দিকি এক মিনিট। ও যেন আমাদের বরিস বলে মনে লিচ্ছে?’

আমাদের বাহিনীরই একজন, খনি-মজুর মালিগিনের দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করতে যাব এমন সময় নিজেকে সংযত করার মতো সুবুদ্ধি দেখা দিল আমার।

‘আরে, কোন চুলো থেকে আসচ বাপু? আমাদের বাহিনী এই কাছেই আচে। বোমটা ফাটাল কে তাই দেখতে পাঠিয়েচে আমাদের। তুমিই বোম ফাটালে নাকি?’

‘হ্যাঁ।’

‘বলি, মতলবখানা কী? ইদিক-উদিক বোম ফাটাচ্চ কোন্ আক্কেলে? নড়াইয়ের জন্যি কি হাত নিল্পিশ করচে? তা, মাতাল হও নি তো রে বাপু?’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১১২)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

একাদশ পরিচ্ছেদ

নিজের ওপর ফু’সে-ওঠা উন্মত্ত ক্রোধের সঙ্গে চারিদিকের সেই অভিশপ্ত বুক-

খাঁখাঁ-করা নৈঃশব্দ্যের প্রতি বিতৃষ্ণা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল আমার মধ্যে। আর, নিষ্ফল আক্রোশ, মনস্তাপ আর হতাশায় পাগল হয়ে গিয়ে আচমকা লাফিয়ে উঠে পড়ে আমি পকেট থেকে বোমাটা টেনে বের করলুম। তারপর বোমার সেফটি ক্যাচ খুলে দিয়ে ঘাসফুল, ঘন ক্লোভার-ঘাস আর শিশিরে-ভেজা ব্লু-বেল ফুলের মাঝখানে সেই সবুজ মাঠের ওপর সজোরে ছুড়ে মারলুম সেটা।

আমি একান্তভাবে যা চাইছিলুম তাই হল। কান-ফাটানো আওয়াজ করে ফাটল বোমাটা। আর তার উন্মত্ত প্রতিধ্বনি দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল।

জঙ্গলের ধার ঘে’ষে এরপর হে’টে চললুম আমি।

‘হেই, কে যায় ওখেনে?’ সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের আড়াল থেকে একটা গলার আওয়াজ পেলুম।

চলতে চলতেই জবাব দিলুম, ‘আমি।’

‘আরে, আমিটা কে? না-কইলি এখখুনি গুলি চালাব।’

‘চুলোয় যা. চালা গুলি, দেখি!’ রেগে চে’চিয়ে মাওজারটা টেনে বের করলুম।

‘এই পাগল্য, থাম্।’ এবার আরেকটা, যেন একটু চেনা-চেনা, একটা গলা শোনা গেল। ‘এই ভাস্কা, দাঁড়া দিকি এক মিনিট। ও যেন আমাদের বরিস বলে মনে লিচ্ছে?’

আমাদের বাহিনীরই একজন, খনি-মজুর মালিগিনের দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করতে যাব এমন সময় নিজেকে সংযত করার মতো সুবুদ্ধি দেখা দিল আমার।

‘আরে, কোন চুলো থেকে আসচ বাপু? আমাদের বাহিনী এই কাছেই আচে। বোমটা ফাটাল কে তাই দেখতে পাঠিয়েচে আমাদের। তুমিই বোম ফাটালে নাকি?’

‘হ্যাঁ।’

‘বলি, মতলবখানা কী? ইদিক-উদিক বোম ফাটাচ্চ কোন্ আক্কেলে? নড়াইয়ের জন্যি কি হাত নিল্পিশ করচে? তা, মাতাল হও নি তো রে বাপু?’