০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
  • 229

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘তুমি খাদের ডাইনে উৎরাইয়ের মাথায় যাও,’ চুবুক আমাকে হুকুম করলেন। ‘শাকভ যাক বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। আমি খাদের নিচে লামব, এক্কেবারে মাঝখানে। কিছু দেখতে পেলি অনি ইসারা করি জানাবে, কেমন?’

ধীরে ধীরে এগোতে লাগলুম আমরা। আধ ঘণ্টার মধ্যে শুমাকভকে দেখতে পেলুম আমার পেছনে বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। মাথাটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে উবু হয়ে হাঁটছিল ও। সাধারণভাবে ওর মুখখানা দেখতে ছিল ভালোমানুষের মতো, কিন্তু দুষ্টুমিতে-ভরা। সেই মুখ এখন দেখাচ্ছিল গম্ভীর আর কঠিন।

এক জায়গায় খাদটা এসে বাঁক নিয়েছিল। সেখানে এসে স্মাকভ বা চুক কাউকে দেখতে পেলুম না। অবিশ্যি জানতুম, ওঁরা ওইখানেই কাছাকাছি কোথাও আছেন। আমারই মতো আন্তে-আস্তে এগোচ্ছেন ওঁরাও, তবে হয়তো ঝোপের আড়ালে পড়ে গেছেন এই-যা। আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, একই কাজের দায়িত্ব আর একই রকম বিপদের ঝুঁকি যে আমাদের তিনজনকে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে এই চেতনা আমার মনে সাহস যোগাল। একটা জায়গায় এসে দেখলুম খাদটা চওড়া হয়ে গেছে। ঝোপ-জঙ্গলও আগের চেয়ে উঠেছে ঘন হয়ে। এরপরই এসে গেল আরেকটা বাঁক। আর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মাটিতে সটান শুয়ে পড়তে হল।

দেখলুম, ডানদিকের উৎরাইয়ের মাথার সমান্তরাল একটা চওড়া পাথরে-বাঁধানো রাস্তা ধরে বেশ বড় একটা ঘোড়সওয়ার-বাহিনী আমার থেকে শ-খানেক হাত দূর দিয়ে চলেছে।

কালো, মসৃণ, চকচকে ঘোড়াগুলো সওয়ার পিঠে নিয়ে বেশ তেজীভাবেই চলছিল। দলটার আগে-আগে যাচ্ছিল তিনজন কি চারজন অফিসার। ঠিক আমার সামনাসামনি এসে দলটা থামল, দলের সেনাপতি একটা ম্যাপ বের করে দেখতে লাগলেন।

পিছিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে খানিকটা নেমে এলুম আমি। তারপর আমাদের আগের ব্যবস্থামতো ওঁকে ইসারা করে জানানোর জন্যে চারিদিক তাকিয়ে চুবুককে খুজতে লাগলুম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৩)

০৮:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘তুমি খাদের ডাইনে উৎরাইয়ের মাথায় যাও,’ চুবুক আমাকে হুকুম করলেন। ‘শাকভ যাক বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। আমি খাদের নিচে লামব, এক্কেবারে মাঝখানে। কিছু দেখতে পেলি অনি ইসারা করি জানাবে, কেমন?’

ধীরে ধীরে এগোতে লাগলুম আমরা। আধ ঘণ্টার মধ্যে শুমাকভকে দেখতে পেলুম আমার পেছনে বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। মাথাটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে উবু হয়ে হাঁটছিল ও। সাধারণভাবে ওর মুখখানা দেখতে ছিল ভালোমানুষের মতো, কিন্তু দুষ্টুমিতে-ভরা। সেই মুখ এখন দেখাচ্ছিল গম্ভীর আর কঠিন।

এক জায়গায় খাদটা এসে বাঁক নিয়েছিল। সেখানে এসে স্মাকভ বা চুক কাউকে দেখতে পেলুম না। অবিশ্যি জানতুম, ওঁরা ওইখানেই কাছাকাছি কোথাও আছেন। আমারই মতো আন্তে-আস্তে এগোচ্ছেন ওঁরাও, তবে হয়তো ঝোপের আড়ালে পড়ে গেছেন এই-যা। আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, একই কাজের দায়িত্ব আর একই রকম বিপদের ঝুঁকি যে আমাদের তিনজনকে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে এই চেতনা আমার মনে সাহস যোগাল। একটা জায়গায় এসে দেখলুম খাদটা চওড়া হয়ে গেছে। ঝোপ-জঙ্গলও আগের চেয়ে উঠেছে ঘন হয়ে। এরপরই এসে গেল আরেকটা বাঁক। আর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মাটিতে সটান শুয়ে পড়তে হল।

দেখলুম, ডানদিকের উৎরাইয়ের মাথার সমান্তরাল একটা চওড়া পাথরে-বাঁধানো রাস্তা ধরে বেশ বড় একটা ঘোড়সওয়ার-বাহিনী আমার থেকে শ-খানেক হাত দূর দিয়ে চলেছে।

কালো, মসৃণ, চকচকে ঘোড়াগুলো সওয়ার পিঠে নিয়ে বেশ তেজীভাবেই চলছিল। দলটার আগে-আগে যাচ্ছিল তিনজন কি চারজন অফিসার। ঠিক আমার সামনাসামনি এসে দলটা থামল, দলের সেনাপতি একটা ম্যাপ বের করে দেখতে লাগলেন।

পিছিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে খানিকটা নেমে এলুম আমি। তারপর আমাদের আগের ব্যবস্থামতো ওঁকে ইসারা করে জানানোর জন্যে চারিদিক তাকিয়ে চুবুককে খুজতে লাগলুম।