০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬১)

সপ্তম পরিচ্ছেদ

দিন দুই পরে বাচ্চা বেদে একটু ভালো বোধ করতে লাগল। সন্ধেবেলা আমি যখন ওর কাছে গিয়ে বসলুম, দেখলুম একরাশ শুকনো পাতার ওপর শুয়ে তারাভরা কালো আকাশটার দিকে তাকিয়ে ও গুনগুন করে কী একটা সূর ভাঁজছে।

বললুম, ‘বাচ্চা বেদে, আমি তোমার পাশেই একটা আগুনের কুণ্ড জেলে খানিকটা জল গরম করি। তারপর চা খাওয়া যাবে। আমার ফ্লাস্কে খানিকটা দুধ আছে। চা করি, কেমন?’

দৌড়ে গিয়ে খানিকটা জল সংগ্রহ করলুম। তারপর আগুনের দু-পাশে মাটিতে দুটো বেয়োনেট পু’তে তাদের ওপর বন্দুকের নল সাফ করার ডান্ডাটা এমনভাবে আটকে দিলুম যাতে ডান্ডাটা আগুনের কুন্ডের ওপর আড়াআড়িভাবে

কূলে থাকে আর সেই ডাণ্ডার ওপর জল ভরে বসিয়ে দিলুম আমার কানাউ’চু খাওয়ার খালিটা। এরপর জখম-হওয়া ছেলেটার কাছে গিয়ে বসলুম।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘বাচ্চা বেদে, কী গান গাইছ তুমি?’

জবাব দিতে একটু দেরি করল ও। তারপর বলল:

‘খুব পুরনো এটা গান করচি গো। গানটা বুলচে, বেদেদের লিজের কোনো দেশ নাই, যে-দেশে তারা ভালো ব্যাভার পায় সেটি তাদের দেশ। গানটা আরও বুলচে: ‘বল্ তো বেদে, কোন দেশে তোরা ভালো ব্যাভার পেয়েছিস?’ তা গানটাই জবাব দিচ্ছে: ‘কত দেশের ইধার-সিধার ছুঁড়ে বেড়ালম। হাঙ্গারিয়ান দেখলম, বুলগেরিয়ান দেখলম, তুর্ক’দের দেশেও গেলম, কিন্তুক এমন দেশটি দেখলম নাই যে-দেশের মানুষ আমার জাতভাইদের সাথে ভালো ব্যাভার করে’।’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬১)

০৮:০০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

সপ্তম পরিচ্ছেদ

দিন দুই পরে বাচ্চা বেদে একটু ভালো বোধ করতে লাগল। সন্ধেবেলা আমি যখন ওর কাছে গিয়ে বসলুম, দেখলুম একরাশ শুকনো পাতার ওপর শুয়ে তারাভরা কালো আকাশটার দিকে তাকিয়ে ও গুনগুন করে কী একটা সূর ভাঁজছে।

বললুম, ‘বাচ্চা বেদে, আমি তোমার পাশেই একটা আগুনের কুণ্ড জেলে খানিকটা জল গরম করি। তারপর চা খাওয়া যাবে। আমার ফ্লাস্কে খানিকটা দুধ আছে। চা করি, কেমন?’

দৌড়ে গিয়ে খানিকটা জল সংগ্রহ করলুম। তারপর আগুনের দু-পাশে মাটিতে দুটো বেয়োনেট পু’তে তাদের ওপর বন্দুকের নল সাফ করার ডান্ডাটা এমনভাবে আটকে দিলুম যাতে ডান্ডাটা আগুনের কুন্ডের ওপর আড়াআড়িভাবে

কূলে থাকে আর সেই ডাণ্ডার ওপর জল ভরে বসিয়ে দিলুম আমার কানাউ’চু খাওয়ার খালিটা। এরপর জখম-হওয়া ছেলেটার কাছে গিয়ে বসলুম।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘বাচ্চা বেদে, কী গান গাইছ তুমি?’

জবাব দিতে একটু দেরি করল ও। তারপর বলল:

‘খুব পুরনো এটা গান করচি গো। গানটা বুলচে, বেদেদের লিজের কোনো দেশ নাই, যে-দেশে তারা ভালো ব্যাভার পায় সেটি তাদের দেশ। গানটা আরও বুলচে: ‘বল্ তো বেদে, কোন দেশে তোরা ভালো ব্যাভার পেয়েছিস?’ তা গানটাই জবাব দিচ্ছে: ‘কত দেশের ইধার-সিধার ছুঁড়ে বেড়ালম। হাঙ্গারিয়ান দেখলম, বুলগেরিয়ান দেখলম, তুর্ক’দের দেশেও গেলম, কিন্তুক এমন দেশটি দেখলম নাই যে-দেশের মানুষ আমার জাতভাইদের সাথে ভালো ব্যাভার করে’।’