০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রয়েল বেঙ্গল টাইগার: সুন্দরবনের প্রাণ, বাংলাদেশের গৌরবের প্রতীক

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের সুন্দরবনে মানুষ কীভাবে এই বনের আরেক বাসিন্দা—রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সঙ্গে সহাবস্থান করে? পরিবেশবিষয়ক গবেষক টেসা ম্যাকগ্রেগর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ওমনিবাস অনুষ্ঠানের জন্য।

জাতীয় গৌরবের প্রতীক

রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী। দেশের কাগুজে মুদ্রাতেও এই বাঘের ছবি স্থান পেয়েছে।

এই বিশাল আকৃতির ডোরাকাটা বিড়ালজাতীয় প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর পূর্বপুরুষের উৎস সাইবেরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য যেকোনো স্থানের তুলনায় সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ বন ও জলাভূমিতেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন অসংখ্য দ্বীপের সমষ্টি। প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বন বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলকে ঘিরে রেখেছে। এই বন চিত্রা হরিণ, কুমির, বুনো শূকর, অসংখ্য পাখি এবং অবশ্যই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বন যেখানে বাঘ স্বাভাবিকভাবে বাস করে, সেটিও সুন্দরবন।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger) হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও  সুন্দর বাঘের একটি উপপ্রজাতি। এটি মূলত ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের ...

তবে এত বিস্তৃত আবাসস্থল থাকা সত্ত্বেও বাঘের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কম। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৩৫০ থেকে ৬০০-এর মধ্যে হতে পারে। ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তখন মাত্র প্রায় ৩ হাজার বাঘ অবশিষ্ট ছিল।

মানুষখেকো বাঘের ভয়

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষের বসবাস নদীবিধৌত বদ্বীপ অঞ্চলে, যার শেষ প্রান্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলেছে।

অন্যদিকে সুন্দরবনে স্থায়ী জনবসতি নেই। কারণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মানুষখেকো হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে চায় না, আর যারা যায় তারাও নানা ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

টেসা ম্যাকগ্রেগর জানতে চেয়েছিলেন মানুষ ও বাঘ কীভাবে একই পরিবেশে টিকে আছে। কিন্তু বনভ্রমণে যাওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ছিল জরুরি।

আশীর্বাদের লাল রুমাল

টেসার গাইড ও দোভাষী মুগলি তাঁর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন নওয়াপাড়ার পীর সাহেবের সঙ্গে। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, সুন্দরবনে প্রবেশের আগে তাঁর আশীর্বাদ বাঘের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

টেসা একটি লাল রুমাল কিনে নিয়ে যান, যাতে পীর সাহেব আশীর্বাদ করেন। সাদা পোশাকে তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন—

সুন্দরবনের প্রাণীজগত | Travel Blog Bangladesh

“আমি সুন্দরবনে যাচ্ছি। বনের মধ্যে হাঁটব এবং বাঘের সন্ধান করব। আমি চাই আপনি এই রুমালটি আশীর্বাদ করুন। আমি জানি, সুন্দরবনে যারা কাজ করেন তারা দীর্ঘদিন ধরে আপনার কাছ থেকেই সুরক্ষা কামনা করেন।”

পীর সাহেব আল্লাহর নামে আশীর্বাদ করলেও তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে আসা মানুষের মধ্যে হিন্দুরাও ছিলেন।

বন বিভাগ ও সশস্ত্র পাহারা

আশীর্বাদ পাওয়ার পর টেসাকে খুলনা বন বিভাগের কাছ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি নিতে হয়। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে দুইজন সশস্ত্র বনরক্ষীর সঙ্গে ভ্রমণ করতে হয়—যাতে বাঘ এবং চোরাশিকারি উভয়ের হাত থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সোনালি-বাদামি গায়ের কালো ডোরাকাটা চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় বাঘের হাড়ের ঔষধি গুণ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেকে এর মাংসকেও যৌনশক্তি বৃদ্ধিকারক মনে করেন। এসব কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বাঘ শিকার হয়ে আসছে।

গ্রামে ঢুকে পড়া বাঘ

সুন্দরবনের আশপাশে টেসা ও মুগলি যেখানেই গেছেন, সেখানেই শুনেছেন বাঘের নানা গল্প—যার অনেকগুলোই ছিল হৃদয়বিদারক।

একটি ঘটনায়, এক ব্যক্তিকে বাঘ আক্রমণ করে হত্যা করলে তাঁর পাঁচ সন্তান এতিম হয়ে যায়। তাঁর স্ত্রী কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি, আর সেই বাঘটিকেও হত্যা করা হয়নি।

ভালুকায় বন বিভাগের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন জরুরি

মুগলি জানান, বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তখনই কোনো বাঘটিকে হত্যা করা হয়, যখন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানুষখেকো’ ঘোষণা করা হয়।

তাঁর ভাষায়—

“সরকার সহজে কোনো বাঘটিকে মানুষখেকো ঘোষণা করতে চায় না। কারণ তখন সেটিকে হত্যা করতে হয়, আর সরকার বাঘ হত্যা করেছে—এমন খবর প্রকাশ পায়।”

মুগলির মতে, বন বিভাগ গ্রামে ঢুকে পড়া বাঘ মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল তৈরি করতে পারেনি। তাঁর মতে, বাঘটিকে মেরে ফেলার প্রয়োজন নেই; শব্দ করে বা অন্য উপায়ে তাকে নিরাপদে বনাঞ্চলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

বন বাঁচলে বাঘ বাঁচবে, বাঘ বাঁচলে বন

সুন্দরবনে মানুষ ও বাঘের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

টেসা ম্যাকগ্রেগরের বিশ্বাস, এমন একটি পথ খুঁজে বের করা জরুরি যাতে একদিকে বাঘের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে, অন্যদিকে বননির্ভর মানুষও উপকৃত হয়।

তাঁর কথায়—

“আমি সত্যিই আশা করি এমন একটি সমাধান বের হবে, যাতে বাঘের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে এবং মানুষও উপকৃত হয়। কারণ বাঘ না থাকলে বনও থাকবে না। বাঘই এই বনের রক্ষক, এই বনের প্রকৃত প্রাণ। তাকে ছাড়া সুন্দরবন অনেক বেশি দরিদ্র হয়ে পড়বে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রয়েল বেঙ্গল টাইগার: সুন্দরবনের প্রাণ, বাংলাদেশের গৌরবের প্রতীক

০১:২৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের সুন্দরবনে মানুষ কীভাবে এই বনের আরেক বাসিন্দা—রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সঙ্গে সহাবস্থান করে? পরিবেশবিষয়ক গবেষক টেসা ম্যাকগ্রেগর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ওমনিবাস অনুষ্ঠানের জন্য।

জাতীয় গৌরবের প্রতীক

রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী। দেশের কাগুজে মুদ্রাতেও এই বাঘের ছবি স্থান পেয়েছে।

এই বিশাল আকৃতির ডোরাকাটা বিড়ালজাতীয় প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর পূর্বপুরুষের উৎস সাইবেরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য যেকোনো স্থানের তুলনায় সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ বন ও জলাভূমিতেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন অসংখ্য দ্বীপের সমষ্টি। প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বন বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলকে ঘিরে রেখেছে। এই বন চিত্রা হরিণ, কুমির, বুনো শূকর, অসংখ্য পাখি এবং অবশ্যই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বন যেখানে বাঘ স্বাভাবিকভাবে বাস করে, সেটিও সুন্দরবন।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger) হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও  সুন্দর বাঘের একটি উপপ্রজাতি। এটি মূলত ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের ...

তবে এত বিস্তৃত আবাসস্থল থাকা সত্ত্বেও বাঘের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কম। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৩৫০ থেকে ৬০০-এর মধ্যে হতে পারে। ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তখন মাত্র প্রায় ৩ হাজার বাঘ অবশিষ্ট ছিল।

মানুষখেকো বাঘের ভয়

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষের বসবাস নদীবিধৌত বদ্বীপ অঞ্চলে, যার শেষ প্রান্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলেছে।

অন্যদিকে সুন্দরবনে স্থায়ী জনবসতি নেই। কারণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মানুষখেকো হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে চায় না, আর যারা যায় তারাও নানা ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

টেসা ম্যাকগ্রেগর জানতে চেয়েছিলেন মানুষ ও বাঘ কীভাবে একই পরিবেশে টিকে আছে। কিন্তু বনভ্রমণে যাওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ছিল জরুরি।

আশীর্বাদের লাল রুমাল

টেসার গাইড ও দোভাষী মুগলি তাঁর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন নওয়াপাড়ার পীর সাহেবের সঙ্গে। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, সুন্দরবনে প্রবেশের আগে তাঁর আশীর্বাদ বাঘের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

টেসা একটি লাল রুমাল কিনে নিয়ে যান, যাতে পীর সাহেব আশীর্বাদ করেন। সাদা পোশাকে তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন—

সুন্দরবনের প্রাণীজগত | Travel Blog Bangladesh

“আমি সুন্দরবনে যাচ্ছি। বনের মধ্যে হাঁটব এবং বাঘের সন্ধান করব। আমি চাই আপনি এই রুমালটি আশীর্বাদ করুন। আমি জানি, সুন্দরবনে যারা কাজ করেন তারা দীর্ঘদিন ধরে আপনার কাছ থেকেই সুরক্ষা কামনা করেন।”

পীর সাহেব আল্লাহর নামে আশীর্বাদ করলেও তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে আসা মানুষের মধ্যে হিন্দুরাও ছিলেন।

বন বিভাগ ও সশস্ত্র পাহারা

আশীর্বাদ পাওয়ার পর টেসাকে খুলনা বন বিভাগের কাছ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি নিতে হয়। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে দুইজন সশস্ত্র বনরক্ষীর সঙ্গে ভ্রমণ করতে হয়—যাতে বাঘ এবং চোরাশিকারি উভয়ের হাত থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সোনালি-বাদামি গায়ের কালো ডোরাকাটা চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় বাঘের হাড়ের ঔষধি গুণ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেকে এর মাংসকেও যৌনশক্তি বৃদ্ধিকারক মনে করেন। এসব কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বাঘ শিকার হয়ে আসছে।

গ্রামে ঢুকে পড়া বাঘ

সুন্দরবনের আশপাশে টেসা ও মুগলি যেখানেই গেছেন, সেখানেই শুনেছেন বাঘের নানা গল্প—যার অনেকগুলোই ছিল হৃদয়বিদারক।

একটি ঘটনায়, এক ব্যক্তিকে বাঘ আক্রমণ করে হত্যা করলে তাঁর পাঁচ সন্তান এতিম হয়ে যায়। তাঁর স্ত্রী কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি, আর সেই বাঘটিকেও হত্যা করা হয়নি।

ভালুকায় বন বিভাগের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন জরুরি

মুগলি জানান, বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তখনই কোনো বাঘটিকে হত্যা করা হয়, যখন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানুষখেকো’ ঘোষণা করা হয়।

তাঁর ভাষায়—

“সরকার সহজে কোনো বাঘটিকে মানুষখেকো ঘোষণা করতে চায় না। কারণ তখন সেটিকে হত্যা করতে হয়, আর সরকার বাঘ হত্যা করেছে—এমন খবর প্রকাশ পায়।”

মুগলির মতে, বন বিভাগ গ্রামে ঢুকে পড়া বাঘ মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল তৈরি করতে পারেনি। তাঁর মতে, বাঘটিকে মেরে ফেলার প্রয়োজন নেই; শব্দ করে বা অন্য উপায়ে তাকে নিরাপদে বনাঞ্চলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

বন বাঁচলে বাঘ বাঁচবে, বাঘ বাঁচলে বন

সুন্দরবনে মানুষ ও বাঘের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

টেসা ম্যাকগ্রেগরের বিশ্বাস, এমন একটি পথ খুঁজে বের করা জরুরি যাতে একদিকে বাঘের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে, অন্যদিকে বননির্ভর মানুষও উপকৃত হয়।

তাঁর কথায়—

“আমি সত্যিই আশা করি এমন একটি সমাধান বের হবে, যাতে বাঘের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে এবং মানুষও উপকৃত হয়। কারণ বাঘ না থাকলে বনও থাকবে না। বাঘই এই বনের রক্ষক, এই বনের প্রকৃত প্রাণ। তাকে ছাড়া সুন্দরবন অনেক বেশি দরিদ্র হয়ে পড়বে।”