০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি জেল আপিলে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে দাবি করেছেন, চরম আর্থিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকাসক্তির কারণে তিনি এই ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে পরিবারের ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে তার একমাত্র সন্তানের কথা বিবেচনা করে আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন।

আদালতে আসামির বক্তব্য

রোববার হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিলের শুনানিতে সোহেল রানা নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, পেশায় অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে নিয়মিত কলহ ও অশান্তি লেগে থাকত।

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। নিজের আর্থিক দুরবস্থা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সংকটের কথাও আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

মাদকাসক্ত অবস্থার দাবি

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তার দাবি, আর্থিক অনটন, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকের প্রভাবে তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। এ কারণেই ঘটনাটি ঘটে যায় এবং পরে কীভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে আদালতকে জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার পরিবারের দেখভাল এবং একমাত্র সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করেছেন।

স্ত্রীর খালাসের আবেদন

এদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি এবং সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। জেল আপিলে তিনি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি ও খালাস প্রার্থনা করেছেন।

আদালতের কার্যক্রম

গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামি হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। রোববার হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।

রামিসা হত্যা মামলা
রামিসা হত্যা মামলায় জেল আপিলে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। হাইকোর্ট শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

০৯:১২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি জেল আপিলে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে দাবি করেছেন, চরম আর্থিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকাসক্তির কারণে তিনি এই ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে পরিবারের ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে তার একমাত্র সন্তানের কথা বিবেচনা করে আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন।

আদালতে আসামির বক্তব্য

রোববার হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিলের শুনানিতে সোহেল রানা নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, পেশায় অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে নিয়মিত কলহ ও অশান্তি লেগে থাকত।

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। নিজের আর্থিক দুরবস্থা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সংকটের কথাও আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

মাদকাসক্ত অবস্থার দাবি

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তার দাবি, আর্থিক অনটন, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকের প্রভাবে তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। এ কারণেই ঘটনাটি ঘটে যায় এবং পরে কীভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে আদালতকে জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার পরিবারের দেখভাল এবং একমাত্র সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করেছেন।

স্ত্রীর খালাসের আবেদন

এদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি এবং সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। জেল আপিলে তিনি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি ও খালাস প্রার্থনা করেছেন।

আদালতের কার্যক্রম

গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামি হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। রোববার হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।

রামিসা হত্যা মামলা
রামিসা হত্যা মামলায় জেল আপিলে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। হাইকোর্ট শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করেছে।