০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রাশিয়া ইরানকে দিচ্ছে মার্কিন বাহিনীর গোপন অবস্থানের তথ্য দিচ্ছে,  বাড়ছে বৈশ্বিক যুদ্ধের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সেনা, জাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া তাদের উন্নত স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত আকাশচিত্র ও অন্যান্য তথ্য ইরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাচ্ছে তেহরান।

তবে এই সহযোগিতার বিনিময়ে রাশিয়া কী পাচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। মস্কো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

US soldiers were killed in Iranian drone strike on operations center at  Kuwait civilian port

মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার সঙ্গে তথ্যের যোগ?

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে। গত কয়েক দিনে ইরানের কয়েকটি ড্রোন এমন স্থানে আঘাত হেনেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন।

রোববার কুয়েতে মার্কিন সেনাদের একটি অস্থায়ী ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর গোয়েন্দা মহলে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

চীনের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

একই সময়ে আরেকটি তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, চীনও ইরানকে আর্থিক সহায়তা, যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উপাদান সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে পারে।

China presses Iran to allow safe passage for oil, LNG ships through Strait  of Hormuz – Firstpost

যদিও এখন পর্যন্ত চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন মূলত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কারণ যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাদের জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চীনের অর্থনীতি ইরানের তেলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার জন্যও বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতির ওপর তারা ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের মতে, কারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে তা সম্পর্কে তাদের পূর্ণ ধারণা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি সেনা, দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে।

The New Iran War: Trajectory of the War and its Impact on Ukraine and the  Pacific.

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই সক্ষমতাকেই ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে প্রতিরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাশিয়া–ইরান সামরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস

গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।

এর বিপরীতে ইরানও তার পারমাণবিক কর্মসূচি শক্তিশালী করতে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা চাইছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সহযোগিতা আরও গভীর হয়, তাহলে বর্তমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রাশিয়া ইরানকে দিচ্ছে মার্কিন বাহিনীর গোপন অবস্থানের তথ্য দিচ্ছে,  বাড়ছে বৈশ্বিক যুদ্ধের আশঙ্কা

০৬:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সেনা, জাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া তাদের উন্নত স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত আকাশচিত্র ও অন্যান্য তথ্য ইরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাচ্ছে তেহরান।

তবে এই সহযোগিতার বিনিময়ে রাশিয়া কী পাচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। মস্কো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

US soldiers were killed in Iranian drone strike on operations center at  Kuwait civilian port

মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার সঙ্গে তথ্যের যোগ?

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে। গত কয়েক দিনে ইরানের কয়েকটি ড্রোন এমন স্থানে আঘাত হেনেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন।

রোববার কুয়েতে মার্কিন সেনাদের একটি অস্থায়ী ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর গোয়েন্দা মহলে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

চীনের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

একই সময়ে আরেকটি তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, চীনও ইরানকে আর্থিক সহায়তা, যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উপাদান সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে পারে।

China presses Iran to allow safe passage for oil, LNG ships through Strait  of Hormuz – Firstpost

যদিও এখন পর্যন্ত চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন মূলত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কারণ যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাদের জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চীনের অর্থনীতি ইরানের তেলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার জন্যও বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতির ওপর তারা ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের মতে, কারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে তা সম্পর্কে তাদের পূর্ণ ধারণা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি সেনা, দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে।

The New Iran War: Trajectory of the War and its Impact on Ukraine and the  Pacific.

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই সক্ষমতাকেই ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে প্রতিরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাশিয়া–ইরান সামরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস

গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।

এর বিপরীতে ইরানও তার পারমাণবিক কর্মসূচি শক্তিশালী করতে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা চাইছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সহযোগিতা আরও গভীর হয়, তাহলে বর্তমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে।