০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

রেমিট্যান্সে ধাক্কা, জুনের প্রথম ছয় দিনেই কমলো প্রায় ২১ শতাংশ

চলতি জুন মাসের শুরুতেই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। জুনের প্রথম ছয় দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৮৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৮৬২ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন অর্থবছরের আগমুহূর্তে প্রবাসী আয়ের এই পতন অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাসের শুরুতেই ধীরগতি

জুনের ৪ থেকে ৬ তারিখ—এই তিন দিনে দেশে এসেছে ২০০ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। মাসের শুরু থেকেই অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কিছুটা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও জুনের প্রথম সপ্তাহের এই পরিসংখ্যান নজর কাড়ছে।

অক্টোবরেও রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা - প্রবাসীর দিগন্ত

পুরো অর্থবছরের চিত্র এখনও ইতিবাচক

যদিও জুন মাসের শুরুতে পতন দেখা গেছে, তবে সামগ্রিক অর্থবছরের হিসাব এখনও আশাব্যঞ্জক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এখনও বজায় রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে আলোচনা

সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স পতনের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়ে প্রবাসী মহলের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

ইসলামী ব্যাংক দখল ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন | আমার দেশ

কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করছেন, ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে বিদেশে অবস্থানরত কিছু গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার কারণে গ্রাহকদের একটি অংশ আন্দোলনও করছে। একটি গ্রাহক সংগঠন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের দাবি, বিতর্কের কারণে ব্যাংকের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই

তবে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সঙ্গে ব্যাংকের নেতৃত্বসংক্রান্ত বিতর্কের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদ-পরবর্তী সময়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার, হুন্ডি কার্যক্রম এবং মৌসুমি অর্থ পাঠানোর প্রবণতাসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্সে সাময়িক ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের তথ্যই বলে দেবে বর্তমান পতন সাময়িক নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

রেমিট্যান্সে ধাক্কা, জুনের প্রথম ছয় দিনেই কমলো প্রায় ২১ শতাংশ

১০:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

চলতি জুন মাসের শুরুতেই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। জুনের প্রথম ছয় দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৮৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৮৬২ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন অর্থবছরের আগমুহূর্তে প্রবাসী আয়ের এই পতন অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাসের শুরুতেই ধীরগতি

জুনের ৪ থেকে ৬ তারিখ—এই তিন দিনে দেশে এসেছে ২০০ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। মাসের শুরু থেকেই অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কিছুটা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও জুনের প্রথম সপ্তাহের এই পরিসংখ্যান নজর কাড়ছে।

অক্টোবরেও রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা - প্রবাসীর দিগন্ত

পুরো অর্থবছরের চিত্র এখনও ইতিবাচক

যদিও জুন মাসের শুরুতে পতন দেখা গেছে, তবে সামগ্রিক অর্থবছরের হিসাব এখনও আশাব্যঞ্জক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এখনও বজায় রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে আলোচনা

সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স পতনের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়ে প্রবাসী মহলের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

ইসলামী ব্যাংক দখল ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন | আমার দেশ

কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করছেন, ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে বিদেশে অবস্থানরত কিছু গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার কারণে গ্রাহকদের একটি অংশ আন্দোলনও করছে। একটি গ্রাহক সংগঠন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের দাবি, বিতর্কের কারণে ব্যাংকের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই

তবে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সঙ্গে ব্যাংকের নেতৃত্বসংক্রান্ত বিতর্কের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদ-পরবর্তী সময়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার, হুন্ডি কার্যক্রম এবং মৌসুমি অর্থ পাঠানোর প্রবণতাসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্সে সাময়িক ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের তথ্যই বলে দেবে বর্তমান পতন সাময়িক নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে।