০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৫৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 153

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

জারের কাছে অমনধারা বিচার তো আমাদের দেশের নোক হামেশাই পেয়ে এসেছে, ও আমাদের গা-সহা হয়ে গিইছিল। কিন্তু এই মোসাহেবদের কাছে অমনধারা ব্যাভার কোন্ শালা আশা করেছিল, কও দেখি। জেনারেল আর অফিসারবাবুরা লাল ফিতে পরি প্যাখম মেলে বেড়াচ্ছে, দেখলি মনে হবে বাবুরা বুঝি বিপ্লবের পেয়ারের দোস্ত। এদিকে আমরা শালা একটু কিছু করলেই সটান একদম গারদবাস। সব্বদা আমাদের পেছনে তাড়া করা হচ্ছে, আমাদের হয়রান করা হচ্ছে। এ আমার একার নালিশ লয়। আমি আমার সকল কমরেডের কথা বলছি, বাড়তি দু-মাস আমি জেল খেটেছি সে কথা লয়। আমি যা বলছি, তা আপনাদের নালিশ, শ্রমিকভাইদের সকলের নালিশ।’

হঠাৎ কাশির দমক শুরু হয়ে গেল বক্তার। কিছুক্ষণ পর কাশি থামলে তিনি ফের শুরু করতে যাবেন, কিন্তু মুখ খোলামাত্র ফের সেই কাশি শুরু হল। বেশ কিছুক্ষণ তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন ওইভাবে, মঞ্চের সি’ড়ির রেলিঙ চেপে ধরে কাশির দমকে কাঁপতে থাকলেন। তারপর মাথা নেড়ে নিচে নেমে পড়লেন।

ভিড়ের মধ্যে থেকে কে একজন চিৎকার করে রাগত গলায় বললে, ‘ওর জান বিলকুল খতম করে দিয়েচে শালারা!’

পাঁশুটে, মেঘেঢাকা আকাশ থেকে গাঁড়ো-গুড়ো তুষার ঝরতে শুরু করল। বছরের সেই প্রথম তুষারপাত। শুকনো, ঠান্ডা বাতাস গাছের শেষ পচা পাতাগুলো খসিয়ে নিল। আমার পাদুটো জমে যাচ্ছিল ঠান্ডায়। ভিড়ের বাইরে বেরিয়ে জোরে-জোরে হে’টে গা-টা গরম করতে ইচ্ছে হল। দুই কনুইয়ের গুতো দিয়ে পথ করে বাইরে আসার সময় পেছনের বক্তাদের আমি দেখতে পাচ্ছিলুম না। এমন সময় হঠাৎ আমার পরিচিত একটা উঁচু গলার আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে মন্ডের দিকে তাকালুম। তুষারের গুঁড়োয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। লোকে আমায় ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিল। কে একজন আমার পা মাড়িয়ে যেন গুঁড়িয়ে দিল। তা সত্ত্বেও পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে ডিঙি মেরে যা দেখলুম তাতে আমার বিস্ময়ের আর আনন্দের পরিসীমা রইল না। দেখলুম, মঞ্চের ওপর দাঁড়কাকের সেই পরিচিত দাড়িভর্তি মুখখানা দেখা যাচ্ছে।

প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে প্রাণপণ কষ্ট করে ভিড় ঠেলে এগোতে লাগলুম। প্রতি মুহূর্তে ভয় হচ্ছিল, এই বুঝি দাঁড়কাক বক্তৃতা শেষ করে ভিড়ে মিশে যান। তাহলে হাজার চিৎকার করে ডাকলেও উনি শুনতে পাবেন না, আর ওঁকে ধরতেও পারব না। ওঁর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে আমি মাথার টুপিটা হাতে নিয়ে নাড়তে লাগলুম, কিন্তু তা ওঁর চোখে পড়ল বলে মনে হল না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৫৬)

০৮:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

জারের কাছে অমনধারা বিচার তো আমাদের দেশের নোক হামেশাই পেয়ে এসেছে, ও আমাদের গা-সহা হয়ে গিইছিল। কিন্তু এই মোসাহেবদের কাছে অমনধারা ব্যাভার কোন্ শালা আশা করেছিল, কও দেখি। জেনারেল আর অফিসারবাবুরা লাল ফিতে পরি প্যাখম মেলে বেড়াচ্ছে, দেখলি মনে হবে বাবুরা বুঝি বিপ্লবের পেয়ারের দোস্ত। এদিকে আমরা শালা একটু কিছু করলেই সটান একদম গারদবাস। সব্বদা আমাদের পেছনে তাড়া করা হচ্ছে, আমাদের হয়রান করা হচ্ছে। এ আমার একার নালিশ লয়। আমি আমার সকল কমরেডের কথা বলছি, বাড়তি দু-মাস আমি জেল খেটেছি সে কথা লয়। আমি যা বলছি, তা আপনাদের নালিশ, শ্রমিকভাইদের সকলের নালিশ।’

হঠাৎ কাশির দমক শুরু হয়ে গেল বক্তার। কিছুক্ষণ পর কাশি থামলে তিনি ফের শুরু করতে যাবেন, কিন্তু মুখ খোলামাত্র ফের সেই কাশি শুরু হল। বেশ কিছুক্ষণ তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন ওইভাবে, মঞ্চের সি’ড়ির রেলিঙ চেপে ধরে কাশির দমকে কাঁপতে থাকলেন। তারপর মাথা নেড়ে নিচে নেমে পড়লেন।

ভিড়ের মধ্যে থেকে কে একজন চিৎকার করে রাগত গলায় বললে, ‘ওর জান বিলকুল খতম করে দিয়েচে শালারা!’

পাঁশুটে, মেঘেঢাকা আকাশ থেকে গাঁড়ো-গুড়ো তুষার ঝরতে শুরু করল। বছরের সেই প্রথম তুষারপাত। শুকনো, ঠান্ডা বাতাস গাছের শেষ পচা পাতাগুলো খসিয়ে নিল। আমার পাদুটো জমে যাচ্ছিল ঠান্ডায়। ভিড়ের বাইরে বেরিয়ে জোরে-জোরে হে’টে গা-টা গরম করতে ইচ্ছে হল। দুই কনুইয়ের গুতো দিয়ে পথ করে বাইরে আসার সময় পেছনের বক্তাদের আমি দেখতে পাচ্ছিলুম না। এমন সময় হঠাৎ আমার পরিচিত একটা উঁচু গলার আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে মন্ডের দিকে তাকালুম। তুষারের গুঁড়োয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। লোকে আমায় ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিল। কে একজন আমার পা মাড়িয়ে যেন গুঁড়িয়ে দিল। তা সত্ত্বেও পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে ডিঙি মেরে যা দেখলুম তাতে আমার বিস্ময়ের আর আনন্দের পরিসীমা রইল না। দেখলুম, মঞ্চের ওপর দাঁড়কাকের সেই পরিচিত দাড়িভর্তি মুখখানা দেখা যাচ্ছে।

প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে প্রাণপণ কষ্ট করে ভিড় ঠেলে এগোতে লাগলুম। প্রতি মুহূর্তে ভয় হচ্ছিল, এই বুঝি দাঁড়কাক বক্তৃতা শেষ করে ভিড়ে মিশে যান। তাহলে হাজার চিৎকার করে ডাকলেও উনি শুনতে পাবেন না, আর ওঁকে ধরতেও পারব না। ওঁর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে আমি মাথার টুপিটা হাতে নিয়ে নাড়তে লাগলুম, কিন্তু তা ওঁর চোখে পড়ল বলে মনে হল না।