০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

লন্ডনে স্বপ্নের পোস্টিং থেকে ইতিহাস বদলানো পলায়ন, কোল্ড ওয়ারের ছায়ায় ওলেগ ল্যালিনের বিস্ময়কর অধ্যায়

সত্তরের দশকের শুরুতে লন্ডনে পৌঁছানো ছিল এক সোভিয়েত কর্মকর্তার কাছে স্বপ্নের মতো। বাল্টিক উপকূলের ক্লাইপেদায় একঘেয়ে সময় কাটিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন ঝলমলে রাজধানীতে। বাহ্যত বাণিজ্য মিশনের সদস্য হলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন কেজিবির গোপন শাখার কর্মকর্তা, যার কাজ নাশকতা ও হত্যার মতো ছায়াযুদ্ধ। এই মানুষটিই পরে ব্রিটেনের গোয়েন্দা ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাতক হয়ে ওঠেন।

লন্ডনে আসা ও গোপন পরিচয়
ওলেগ ল্যালিন নামে ওই কর্মকর্তা উনিশশো ঊনসত্তরে লন্ডনে পৌঁছান। কাগজে-কলমে বাণিজ্যিক দায়িত্ব থাকলেও তাঁর প্রকৃত কাজ ছিল কেজিবির বিশেষ বিভাগের হয়ে অপারেশন চালানো। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বেপরোয়া ও অস্থির, একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।

Image

হঠাৎ মোড় ঘোরা ও পুলিশের দরজায় হাজিরা
দুই বছরের মাথায় নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। আদর্শগত কারণে নয়, একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে নিজেকে কেজিবি কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফিরে নায়ক সাজার সুযোগ তৈরি করা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়া। এর বিনিময়ে তিনি ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাকে কেজিবির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

গ্রেপ্তার, সন্দেহ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
কয়েক মাস পর লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে। একই সময়ে তাঁর অসন্তুষ্ট স্ত্রী মস্কোতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলাফল হিসেবে আসে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার নির্দেশ। দেশে ফিরে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া ছাড়া আর পথ খোলা ছিল না। তখনই পলায়নই হয়ে ওঠে একমাত্র উপায়।

Image

গণবহিষ্কার ও গোয়েন্দা দুনিয়ার পালাবদল
পলায়নের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার একযোগে একশ পাঁচজন সোভিয়েত গুপ্তচরকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় ব্রিটেনের নিরাপত্তা সংস্থা এমআই ফাইভ এর ভেতরে নতুন আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। আগের দশকের এক ব্রিটিশ গুপ্তচরের বিশ্বাসঘাতকতায় যে ধাক্কা লেগেছিল, ল্যালিন এর দেওয়া তথ্য তা অনেকটাই সামাল দেয়।

আজকের প্রেক্ষাপটে পুরোনো কাহিনির তাৎপর্য
সময়ের সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল বদলালেও গল্পটির আবেদন আজও অটুট। আধুনিক রাশিয়ার নেতৃত্বে থাকা ভ্লাদিমির পুতিনও পশ্চিমের বিরুদ্ধে ধূসর এলাকার অপারেশনে একই ধাঁচের কৌশল ব্যবহার করছেন বলে পর্যবেক্ষকদের মত। বিদায়ী গোয়েন্দা প্রধানদের বক্তব্যে স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসা তথ্যদাতাদের জন্য দরজা এখনো খোলা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

লন্ডনে স্বপ্নের পোস্টিং থেকে ইতিহাস বদলানো পলায়ন, কোল্ড ওয়ারের ছায়ায় ওলেগ ল্যালিনের বিস্ময়কর অধ্যায়

০১:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সত্তরের দশকের শুরুতে লন্ডনে পৌঁছানো ছিল এক সোভিয়েত কর্মকর্তার কাছে স্বপ্নের মতো। বাল্টিক উপকূলের ক্লাইপেদায় একঘেয়ে সময় কাটিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন ঝলমলে রাজধানীতে। বাহ্যত বাণিজ্য মিশনের সদস্য হলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন কেজিবির গোপন শাখার কর্মকর্তা, যার কাজ নাশকতা ও হত্যার মতো ছায়াযুদ্ধ। এই মানুষটিই পরে ব্রিটেনের গোয়েন্দা ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাতক হয়ে ওঠেন।

লন্ডনে আসা ও গোপন পরিচয়
ওলেগ ল্যালিন নামে ওই কর্মকর্তা উনিশশো ঊনসত্তরে লন্ডনে পৌঁছান। কাগজে-কলমে বাণিজ্যিক দায়িত্ব থাকলেও তাঁর প্রকৃত কাজ ছিল কেজিবির বিশেষ বিভাগের হয়ে অপারেশন চালানো। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বেপরোয়া ও অস্থির, একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।

Image

হঠাৎ মোড় ঘোরা ও পুলিশের দরজায় হাজিরা
দুই বছরের মাথায় নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। আদর্শগত কারণে নয়, একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে নিজেকে কেজিবি কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফিরে নায়ক সাজার সুযোগ তৈরি করা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়া। এর বিনিময়ে তিনি ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাকে কেজিবির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

গ্রেপ্তার, সন্দেহ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
কয়েক মাস পর লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে। একই সময়ে তাঁর অসন্তুষ্ট স্ত্রী মস্কোতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলাফল হিসেবে আসে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার নির্দেশ। দেশে ফিরে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া ছাড়া আর পথ খোলা ছিল না। তখনই পলায়নই হয়ে ওঠে একমাত্র উপায়।

Image

গণবহিষ্কার ও গোয়েন্দা দুনিয়ার পালাবদল
পলায়নের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার একযোগে একশ পাঁচজন সোভিয়েত গুপ্তচরকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় ব্রিটেনের নিরাপত্তা সংস্থা এমআই ফাইভ এর ভেতরে নতুন আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। আগের দশকের এক ব্রিটিশ গুপ্তচরের বিশ্বাসঘাতকতায় যে ধাক্কা লেগেছিল, ল্যালিন এর দেওয়া তথ্য তা অনেকটাই সামাল দেয়।

আজকের প্রেক্ষাপটে পুরোনো কাহিনির তাৎপর্য
সময়ের সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল বদলালেও গল্পটির আবেদন আজও অটুট। আধুনিক রাশিয়ার নেতৃত্বে থাকা ভ্লাদিমির পুতিনও পশ্চিমের বিরুদ্ধে ধূসর এলাকার অপারেশনে একই ধাঁচের কৌশল ব্যবহার করছেন বলে পর্যবেক্ষকদের মত। বিদায়ী গোয়েন্দা প্রধানদের বক্তব্যে স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসা তথ্যদাতাদের জন্য দরজা এখনো খোলা।