০১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

লেবাননের সমুদ্র কচ্ছপের অভিভাবক মোনা খলিল আর নেই, হামলায় আহত হয়ে মৃত্যু

লেবাননের দক্ষিণ উপকূলে সমুদ্র কচ্ছপ সংরক্ষণে আজীবন কাজ করা পরিবেশবিদ মোনা খলিল আর নেই। ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর ৭৭ বছর বয়সী এই সংরক্ষণকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ মহলে গভীর শোক নেমে এসেছে।

দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক বিমান হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যেই গত সপ্তাহে নিজ বাড়িতে আঘাতপ্রাপ্ত হন মোনা খলিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই সময়ে ওই অঞ্চলে চলমান হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সমুদ্র কচ্ছপ রক্ষায় আজীবনের লড়াই

মোনা খলিল বহু দশক ধরে লেবাননের উপকূলে বিপন্ন সমুদ্র কচ্ছপ সংরক্ষণে কাজ করে আসছিলেন। বিশেষ করে লজারহেড ও সবুজ সমুদ্র কচ্ছপের প্রজননস্থল রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ।

উপকূলীয় উন্নয়ন, প্লাস্টিক দূষণ, মাছ ধরার জাল এবং অতিরিক্ত আলোক দূষণের কারণে এসব কচ্ছপের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য কাজ করেন।

একটি ঘটনার পর বদলে যায় জীবন

১৯৪৯ সালে নাইজেরিয়ার লাগোসে জন্ম নেওয়া মোনা খলিল জীবনের একটি বড় সময় বিদেশে কাটালেও পরে দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

১৯৯৯ সালে আল-মানসৌরি সৈকতে একটি সমুদ্র কচ্ছপকে ডিম পাড়তে দেখতে পান তিনি। সেই দৃশ্যই তাঁর জীবন বদলে দেয়। এরপর থেকেই তিনি সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং কচ্ছপ সংরক্ষণে নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেন।

Mona Khalil, Defender of Sea Turtles, Killed in an Israeli Strike in Lebanon - The New York Times

পরিবেশ রক্ষায় বহুমুখী উদ্যোগ

২০০০ সালে তিনি আল-মানসৌরি সৈকতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগ ‘অরেঞ্জ হাউস’ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা এবং উপকূলীয় দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

তাঁর সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের কাজ থেকে সরে যাননি। সমুদ্র কচ্ছপ এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বকে তিনি জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন।

অপূর্ণ থেকে গেল এক সংগ্রামের গল্প

মোনা খলিলের মৃত্যু শুধু একজন পরিবেশবিদের বিদায় নয়, বরং প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধার প্রস্থান। তাঁর কাজ ও অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সমুদ্র কচ্ছপ সংরক্ষণ, উপকূল রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সমুদ্র কচ্ছপ রক্ষায় আজীবন লড়াই করা পরিবেশবিদ মোনা খলিল ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন। শোকে স্তব্ধ পরিবেশ মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

লেবাননের সমুদ্র কচ্ছপের অভিভাবক মোনা খলিল আর নেই, হামলায় আহত হয়ে মৃত্যু

০৭:০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

লেবাননের দক্ষিণ উপকূলে সমুদ্র কচ্ছপ সংরক্ষণে আজীবন কাজ করা পরিবেশবিদ মোনা খলিল আর নেই। ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর ৭৭ বছর বয়সী এই সংরক্ষণকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ মহলে গভীর শোক নেমে এসেছে।

দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক বিমান হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যেই গত সপ্তাহে নিজ বাড়িতে আঘাতপ্রাপ্ত হন মোনা খলিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই সময়ে ওই অঞ্চলে চলমান হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সমুদ্র কচ্ছপ রক্ষায় আজীবনের লড়াই

মোনা খলিল বহু দশক ধরে লেবাননের উপকূলে বিপন্ন সমুদ্র কচ্ছপ সংরক্ষণে কাজ করে আসছিলেন। বিশেষ করে লজারহেড ও সবুজ সমুদ্র কচ্ছপের প্রজননস্থল রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ।

উপকূলীয় উন্নয়ন, প্লাস্টিক দূষণ, মাছ ধরার জাল এবং অতিরিক্ত আলোক দূষণের কারণে এসব কচ্ছপের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য কাজ করেন।

একটি ঘটনার পর বদলে যায় জীবন

১৯৪৯ সালে নাইজেরিয়ার লাগোসে জন্ম নেওয়া মোনা খলিল জীবনের একটি বড় সময় বিদেশে কাটালেও পরে দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

১৯৯৯ সালে আল-মানসৌরি সৈকতে একটি সমুদ্র কচ্ছপকে ডিম পাড়তে দেখতে পান তিনি। সেই দৃশ্যই তাঁর জীবন বদলে দেয়। এরপর থেকেই তিনি সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং কচ্ছপ সংরক্ষণে নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেন।

Mona Khalil, Defender of Sea Turtles, Killed in an Israeli Strike in Lebanon - The New York Times

পরিবেশ রক্ষায় বহুমুখী উদ্যোগ

২০০০ সালে তিনি আল-মানসৌরি সৈকতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগ ‘অরেঞ্জ হাউস’ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা এবং উপকূলীয় দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

তাঁর সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের কাজ থেকে সরে যাননি। সমুদ্র কচ্ছপ এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বকে তিনি জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন।

অপূর্ণ থেকে গেল এক সংগ্রামের গল্প

মোনা খলিলের মৃত্যু শুধু একজন পরিবেশবিদের বিদায় নয়, বরং প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধার প্রস্থান। তাঁর কাজ ও অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সমুদ্র কচ্ছপ সংরক্ষণ, উপকূল রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সমুদ্র কচ্ছপ রক্ষায় আজীবন লড়াই করা পরিবেশবিদ মোনা খলিল ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন। শোকে স্তব্ধ পরিবেশ মহল।