০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

লোহিত সাগরে হামলার পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি, উত্তেজনায় তেলের বাজারে নতুন ধাক্কা

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার জন্য ভবিষ্যতে হুথিদের যেকোনো হামলার দায় ইরানের ওপর বর্তাবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এমন হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

লোহিত সাগরে নতুন সংকট

ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজ দুটি তাদের ঘোষিত নৌ অবরোধ অমান্য করেছিল। এই হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরানকে সরাসরি দায়ী করার ঘোষণা

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হুথিরা ইরানের মদদপুষ্ট একটি গোষ্ঠী। ফলে ভবিষ্যতে তাদের যেকোনো হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করা হবে। তিনি আরও বলেন, জাহাজ, পণ্য বা সংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ও ইরানকে বহন করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

Houthi blockade of Saudi shipping threatens global oil and trade routes

বাড়ছে সামরিক প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সেনা, বিশেষ বাহিনী, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের চিকিৎসার প্রস্তুতি বাড়াতে ইউরোপের একটি সামরিক চিকিৎসা কেন্দ্রে অতিরিক্ত চিকিৎসাকর্মী পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের সামরিক স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, বিমানঘাঁটি এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুথিদের সাম্প্রতিক হামলাকে অনেকেই এই সংঘাতের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

লোহিত সাগরে হামলার পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি, উত্তেজনায় তেলের বাজারে নতুন ধাক্কা

০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার জন্য ভবিষ্যতে হুথিদের যেকোনো হামলার দায় ইরানের ওপর বর্তাবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এমন হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

লোহিত সাগরে নতুন সংকট

ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজ দুটি তাদের ঘোষিত নৌ অবরোধ অমান্য করেছিল। এই হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরানকে সরাসরি দায়ী করার ঘোষণা

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হুথিরা ইরানের মদদপুষ্ট একটি গোষ্ঠী। ফলে ভবিষ্যতে তাদের যেকোনো হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করা হবে। তিনি আরও বলেন, জাহাজ, পণ্য বা সংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ও ইরানকে বহন করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

Houthi blockade of Saudi shipping threatens global oil and trade routes

বাড়ছে সামরিক প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সেনা, বিশেষ বাহিনী, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের চিকিৎসার প্রস্তুতি বাড়াতে ইউরোপের একটি সামরিক চিকিৎসা কেন্দ্রে অতিরিক্ত চিকিৎসাকর্মী পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের সামরিক স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, বিমানঘাঁটি এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুথিদের সাম্প্রতিক হামলাকে অনেকেই এই সংঘাতের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।