০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল, ভিএআরের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে ইরানের স্বপ্নে ধাক্কা

বিশ্বকাপের মঞ্চে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে জয়ের উল্লাসে ভেসেছিল ইরান। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আনন্দ পরিণত হয় হতাশায়। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে শোজা খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর বাতিল হয়ে যায়। ফলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয় এবং নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খায় ইরান।

ম্যাচের শেষ দিকে একটি ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতিতে বল গোলমুখে ভেসে আসে। একাধিক খেলোয়াড়ের চেষ্টার পর বল খলিলজাদেহর সামনে চলে গেলে তিনি জালে পাঠাতে সক্ষম হন। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্টেডিয়ামে উল্লাস শুরু হয়। নিজের জার্সিও খুলে উদযাপন করেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার।

তবে উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিকে ভিএআর কক্ষে থাকা কর্মকর্তারা ঘটনাটি পুনরায় দেখতে বলেন। এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

কেন বাতিল হলো গোল?

ফুটবলের অফসাইড আইন অনুযায়ী, গোলের আগে কোনো সতীর্থ খেলোয়াড় বল স্পর্শ করার মুহূর্তটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত শট নেওয়ার সময় নয়, বরং বল প্রথম স্পর্শ বা ফ্লিক করার সময় খেলোয়াড়দের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এই আক্রমণের শুরুতে একটি উঁচু ফ্রি-কিক মিশরের পেনাল্টি বক্সে পাঠানো হয়। সেখানে ইরানের এক খেলোয়াড় বলটিতে মাথা ছুঁইয়ে গোলমুখের আরও কাছে পাঠান। ঠিক সেই মুহূর্তে দেখা যায়, ইরানের দুই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মিশরের দ্বিতীয়-শেষ ডিফেন্ডারের সামনে অবস্থান করছিলেন।

Iran pulls off World Cup classic against dumbfounded Belgium before goal  cruelly disallowed

শুধু অফসাইড অবস্থানে থাকা নিজেই অপরাধ নয়। কিন্তু যখন সেই খেলোয়াড়রা বলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বা প্রতিপক্ষের খেলায় সরাসরি প্রভাব ফেলেন, তখন তা অফসাইড অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

সক্রিয় ভূমিকার প্রভাব

পর্যালোচনায় দেখা যায়, অফসাইড অবস্থানে থাকা ইরানি খেলোয়াড়রা পরবর্তী গোলমুখের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি ও নড়াচড়া মিশরের ডিফেন্ডারদের বল ক্লিয়ার করার সুযোগকে প্রভাবিত করে। ফলে পুরো আক্রমণপর্বটিই নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

ফুটবলের আইন অনুসারে, অফসাইড অবস্থানে থাকা কোনো খেলোয়াড় যদি ওই অবস্থান থেকে সুবিধা নিয়ে খেলায় প্রভাব ফেলেন, তাহলে সেই আক্রমণ থেকে হওয়া গোল বৈধ থাকে না। সেই কারণেই খলিলজাদেহর করা গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইরানের জন্য এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ড্র নিয়ে। অন্যদিকে মিশর গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট নিয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পথে বড় সুবিধা পেয়েছে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভিএআরের এমন সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে ক্ষুদ্রতম ব্যবধানও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

মিশরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ায় ড্র করেছে ইরান। অফসাইড আইনের ব্যাখ্যায় বদলে যায় ম্যাচের ফল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল, ভিএআরের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে ইরানের স্বপ্নে ধাক্কা

০৬:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে জয়ের উল্লাসে ভেসেছিল ইরান। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আনন্দ পরিণত হয় হতাশায়। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে শোজা খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর বাতিল হয়ে যায়। ফলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয় এবং নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খায় ইরান।

ম্যাচের শেষ দিকে একটি ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতিতে বল গোলমুখে ভেসে আসে। একাধিক খেলোয়াড়ের চেষ্টার পর বল খলিলজাদেহর সামনে চলে গেলে তিনি জালে পাঠাতে সক্ষম হন। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্টেডিয়ামে উল্লাস শুরু হয়। নিজের জার্সিও খুলে উদযাপন করেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার।

তবে উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিকে ভিএআর কক্ষে থাকা কর্মকর্তারা ঘটনাটি পুনরায় দেখতে বলেন। এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

কেন বাতিল হলো গোল?

ফুটবলের অফসাইড আইন অনুযায়ী, গোলের আগে কোনো সতীর্থ খেলোয়াড় বল স্পর্শ করার মুহূর্তটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত শট নেওয়ার সময় নয়, বরং বল প্রথম স্পর্শ বা ফ্লিক করার সময় খেলোয়াড়দের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এই আক্রমণের শুরুতে একটি উঁচু ফ্রি-কিক মিশরের পেনাল্টি বক্সে পাঠানো হয়। সেখানে ইরানের এক খেলোয়াড় বলটিতে মাথা ছুঁইয়ে গোলমুখের আরও কাছে পাঠান। ঠিক সেই মুহূর্তে দেখা যায়, ইরানের দুই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মিশরের দ্বিতীয়-শেষ ডিফেন্ডারের সামনে অবস্থান করছিলেন।

Iran pulls off World Cup classic against dumbfounded Belgium before goal  cruelly disallowed

শুধু অফসাইড অবস্থানে থাকা নিজেই অপরাধ নয়। কিন্তু যখন সেই খেলোয়াড়রা বলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বা প্রতিপক্ষের খেলায় সরাসরি প্রভাব ফেলেন, তখন তা অফসাইড অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

সক্রিয় ভূমিকার প্রভাব

পর্যালোচনায় দেখা যায়, অফসাইড অবস্থানে থাকা ইরানি খেলোয়াড়রা পরবর্তী গোলমুখের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি ও নড়াচড়া মিশরের ডিফেন্ডারদের বল ক্লিয়ার করার সুযোগকে প্রভাবিত করে। ফলে পুরো আক্রমণপর্বটিই নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

ফুটবলের আইন অনুসারে, অফসাইড অবস্থানে থাকা কোনো খেলোয়াড় যদি ওই অবস্থান থেকে সুবিধা নিয়ে খেলায় প্রভাব ফেলেন, তাহলে সেই আক্রমণ থেকে হওয়া গোল বৈধ থাকে না। সেই কারণেই খলিলজাদেহর করা গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইরানের জন্য এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ড্র নিয়ে। অন্যদিকে মিশর গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট নিয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পথে বড় সুবিধা পেয়েছে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভিএআরের এমন সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে ক্ষুদ্রতম ব্যবধানও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

মিশরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ায় ড্র করেছে ইরান। অফসাইড আইনের ব্যাখ্যায় বদলে যায় ম্যাচের ফল।