০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

শ্রাবণ সন্ধ্যায় সুরের মূর্ছনা: ঢাকায় বর্ষাবন্দনায় মুখর ভারতীয় হাইকমিশনের সাংস্কৃতিক আয়োজন

বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেগ এবং বাংলা-ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনকে সামনে রেখে ঢাকায় আয়োজন করা হলো ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক এক মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান। শনিবার ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) এই বর্ষাবিষয়ক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে, যেখানে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সঙ্গীতের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে এবং হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উদ্যোগ

আয়োজকদের মতে, সাংস্কৃতিক কূটনীতির ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশনশিল্পের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বর্ষা ঋতুর সৌন্দর্যকে সঙ্গীতের মাধ্যমে তুলে ধরা এবং ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদযাপন করা। শ্রাবণ মাস ভারতীয় ও বাংলা সাহিত্য-সংগীতের ঐতিহ্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবেগ ও সৃজনশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয় অনুষ্ঠানের পরিবেশনা।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসংগীতের সমাহার

অনুষ্ঠানে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও সঙ্গীতগুরু অনিল কুমার সাহা এবং আলোক কুমার সেন। পরে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. চঞ্চল খান।

বর্ষাকে ঘিরে বাংলা ও হিন্দি ভাষার নির্বাচিত গান পরিবেশনের মাধ্যমে শিল্পীরা দর্শকদের সামনে এক আবেগঘন সঙ্গীতানুষ্ঠান উপহার দেন। পরিবেশনায় এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সঙ্গীতঐতিহ্য এবং বর্ষার নান্দনিক আবহ ফুটে ওঠে।

IGCC India in Bangladesh (High Commission of India, Dhaka) organized a  musical evening on 16 July 2026 at HCI, Dhaka to commemorate the death  anniversary of legendary Indian playback singer Mohammed Rafi.

প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের অবদান

অনিল কুমার সাহা বাংলাদেশের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীতগুরু। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অসংখ্য শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে আলোক কুমার সেন অন্যতম। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে আলোক কুমার সেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় ও অর্ধশাস্ত্রীয় সঙ্গীতে দক্ষতার জন্য পরিচিত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে তিনি গজল, রবীন্দ্রসংগীত এবং আধুনিক বাংলা গান পরিবেশন করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। তাঁর বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা তাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

ড. চঞ্চল খান রবীন্দ্রসংগীতের একজন স্বনামধন্য শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষক। বাংলাদেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবেশনা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার ও সংরক্ষণে তাঁর অবদান তাঁকে এই ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বর্ষার আবহ, সঙ্গীতের আবেদন এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটি প্রাণবন্ত প্রতিফলন দর্শকদের সামনে উঠে আসে।

ঢাকায় ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ আয়োজনে বর্ষার গান ও হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

শ্রাবণ সন্ধ্যায় সুরের মূর্ছনা: ঢাকায় বর্ষাবন্দনায় মুখর ভারতীয় হাইকমিশনের সাংস্কৃতিক আয়োজন

০৫:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেগ এবং বাংলা-ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনকে সামনে রেখে ঢাকায় আয়োজন করা হলো ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক এক মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান। শনিবার ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) এই বর্ষাবিষয়ক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে, যেখানে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সঙ্গীতের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে এবং হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উদ্যোগ

আয়োজকদের মতে, সাংস্কৃতিক কূটনীতির ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশনশিল্পের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বর্ষা ঋতুর সৌন্দর্যকে সঙ্গীতের মাধ্যমে তুলে ধরা এবং ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদযাপন করা। শ্রাবণ মাস ভারতীয় ও বাংলা সাহিত্য-সংগীতের ঐতিহ্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবেগ ও সৃজনশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয় অনুষ্ঠানের পরিবেশনা।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসংগীতের সমাহার

অনুষ্ঠানে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও সঙ্গীতগুরু অনিল কুমার সাহা এবং আলোক কুমার সেন। পরে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. চঞ্চল খান।

বর্ষাকে ঘিরে বাংলা ও হিন্দি ভাষার নির্বাচিত গান পরিবেশনের মাধ্যমে শিল্পীরা দর্শকদের সামনে এক আবেগঘন সঙ্গীতানুষ্ঠান উপহার দেন। পরিবেশনায় এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সঙ্গীতঐতিহ্য এবং বর্ষার নান্দনিক আবহ ফুটে ওঠে।

IGCC India in Bangladesh (High Commission of India, Dhaka) organized a  musical evening on 16 July 2026 at HCI, Dhaka to commemorate the death  anniversary of legendary Indian playback singer Mohammed Rafi.

প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের অবদান

অনিল কুমার সাহা বাংলাদেশের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীতগুরু। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অসংখ্য শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে আলোক কুমার সেন অন্যতম। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে আলোক কুমার সেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় ও অর্ধশাস্ত্রীয় সঙ্গীতে দক্ষতার জন্য পরিচিত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে তিনি গজল, রবীন্দ্রসংগীত এবং আধুনিক বাংলা গান পরিবেশন করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। তাঁর বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা তাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

ড. চঞ্চল খান রবীন্দ্রসংগীতের একজন স্বনামধন্য শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষক। বাংলাদেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবেশনা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার ও সংরক্ষণে তাঁর অবদান তাঁকে এই ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বর্ষার আবহ, সঙ্গীতের আবেদন এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটি প্রাণবন্ত প্রতিফলন দর্শকদের সামনে উঠে আসে।

ঢাকায় ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ আয়োজনে বর্ষার গান ও হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপিত হয়েছে।