০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

সংলাপের প্রস্তাব কি কেবলই লোকদেখানো?

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আবারও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি অর্থনীতির অগ্রগতি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার স্বার্থে বিরোধীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আলোচনার জন্য দুই পক্ষেরই প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, এখন বিরোধীরা কত দ্রুত গঠনমূলক সংলাপে সম্মত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

এর কয়েক দিন আগেও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী সিনেটে বিরোধীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, সমস্যার সমাধান নির্ভর করছে আন্তরিকতার ওপর। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার এবং চৌধুরী বিরোধীদলীয় সিনেট ও জাতীয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার আহ্বানে আস্থার সংকট

তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে সরকারের সর্বশেষ এই উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী হওয়ার মতো কারণ খুব বেশি নেই। এর আগে আলোচনার যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারেনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সরকার যেভাবে মোকাবিলা করেছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে এবং দলের ভেতরের সংঘাতমুখী অংশগুলোও শক্তিশালী হয়েছে।

Pakistan's Parliament Elects Shahbaz Sharif as Prime Minister After Khan  Exit

অন্যদিকে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জোটসঙ্গী পাকিস্তান পিপলস পার্টি এখন নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বিরোধীদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে সরকারের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। একই সময়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এবং সরকারবিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসার আগ্রহের চেয়ে মুখোমুখি অবস্থানের প্রবণতাই এখন বেশি স্পষ্ট।

ক্ষমতাসীন দলেও মতের মিল নেই

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য। শুক্রবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আবারও পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও তেহরিক-ই-ইনসাফের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এক দলকে দুর্নীতির জন্য এবং অন্য দলকে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

এতে বোঝা যায়, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যেও রাজনৈতিক অবস্থানে ফারাক রয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা যেখানে সমঝোতার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে আগ্রহী, সেখানে তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ফলে নেতারা যতই জাতীয় সংলাপের কথা বলুন না কেন, বাস্তবে সেখানে পৌঁছানোর সুস্পষ্ট কোনো পথ এখনো তৈরি হয়নি।

Pakistan People's Party nominates Hindu woman from Thar to contest Senate  seat | World News

সংলাপই হতে পারে একমাত্র পথ

তারপরও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে আলোচনাই। দেশের বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উপলব্ধি করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্ব অনেকাংশেই নির্ভর করে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অস্তিত্বের ওপর।

গণতন্ত্রে ভিন্নমত, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি ও বিভিন্ন ধরনের চিন্তার উপস্থিতি আইন প্রণয়নকে ভারসাম্যপূর্ণ করে এবং ক্ষমতার ওপর নজরদারি নিশ্চিত করে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেও বিভিন্ন পক্ষকে অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

শুধু আলোচনার আহ্বান জানালেই হবে না; সেই আলোচনার শর্ত মেনে চলার রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। নইলে সংলাপের প্রতিটি নতুন প্রস্তাবই শেষ পর্যন্ত অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

সংলাপের প্রস্তাব কি কেবলই লোকদেখানো?

০২:১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আবারও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি অর্থনীতির অগ্রগতি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার স্বার্থে বিরোধীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আলোচনার জন্য দুই পক্ষেরই প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, এখন বিরোধীরা কত দ্রুত গঠনমূলক সংলাপে সম্মত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

এর কয়েক দিন আগেও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী সিনেটে বিরোধীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, সমস্যার সমাধান নির্ভর করছে আন্তরিকতার ওপর। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার এবং চৌধুরী বিরোধীদলীয় সিনেট ও জাতীয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার আহ্বানে আস্থার সংকট

তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে সরকারের সর্বশেষ এই উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী হওয়ার মতো কারণ খুব বেশি নেই। এর আগে আলোচনার যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারেনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সরকার যেভাবে মোকাবিলা করেছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে এবং দলের ভেতরের সংঘাতমুখী অংশগুলোও শক্তিশালী হয়েছে।

Pakistan's Parliament Elects Shahbaz Sharif as Prime Minister After Khan  Exit

অন্যদিকে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জোটসঙ্গী পাকিস্তান পিপলস পার্টি এখন নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বিরোধীদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে সরকারের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। একই সময়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এবং সরকারবিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসার আগ্রহের চেয়ে মুখোমুখি অবস্থানের প্রবণতাই এখন বেশি স্পষ্ট।

ক্ষমতাসীন দলেও মতের মিল নেই

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য। শুক্রবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আবারও পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও তেহরিক-ই-ইনসাফের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এক দলকে দুর্নীতির জন্য এবং অন্য দলকে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

এতে বোঝা যায়, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যেও রাজনৈতিক অবস্থানে ফারাক রয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা যেখানে সমঝোতার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে আগ্রহী, সেখানে তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ফলে নেতারা যতই জাতীয় সংলাপের কথা বলুন না কেন, বাস্তবে সেখানে পৌঁছানোর সুস্পষ্ট কোনো পথ এখনো তৈরি হয়নি।

Pakistan People's Party nominates Hindu woman from Thar to contest Senate  seat | World News

সংলাপই হতে পারে একমাত্র পথ

তারপরও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে আলোচনাই। দেশের বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উপলব্ধি করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্ব অনেকাংশেই নির্ভর করে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অস্তিত্বের ওপর।

গণতন্ত্রে ভিন্নমত, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি ও বিভিন্ন ধরনের চিন্তার উপস্থিতি আইন প্রণয়নকে ভারসাম্যপূর্ণ করে এবং ক্ষমতার ওপর নজরদারি নিশ্চিত করে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেও বিভিন্ন পক্ষকে অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

শুধু আলোচনার আহ্বান জানালেই হবে না; সেই আলোচনার শর্ত মেনে চলার রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। নইলে সংলাপের প্রতিটি নতুন প্রস্তাবই শেষ পর্যন্ত অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে।