০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

সঞ্চয়পত্রে আবারও ইতিবাচক ধারা, তিন মাসের পতন কাটিয়ে সরকারের নিট বিনিয়োগে ফিরল গতি

টানা তিন মাস নেতিবাচক অবস্থায় থাকার পর জাতীয় সঞ্চয়পত্রে (সঞ্চয়পত্র) নিট বিনিয়োগ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে এপ্রিল ও মে মাসে বিক্রি বৃদ্ধি এবং পরিপক্ব সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর হার কমে আসায় সরকারের বাজেট অর্থায়নে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০৫ কোটি টাকা। এর আগে টানা তিন মাস নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক থাকলেও এপ্রিল ও মে মাসের উন্নতি সেই প্রবণতা বদলে দিয়েছে।

জনআস্থায় ফিরেছে সঞ্চয়পত্র

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ আবারও বেড়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প এখনও সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পরিবর্তে নির্দিষ্ট আয়ের বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

কীভাবে হিসাব করা হয় নিট বিনিয়োগ

সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধ কিংবা আগাম ভাঙানোর অর্থ বাদ দিয়ে যে পরিমাণ থাকে, সেটিই নিট বিনিয়োগ হিসেবে গণনা করা হয়। সরকার বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের একটি উৎস হিসেবে এই অর্থ ব্যবহার করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে বছরের শুরুতে বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় পরে সেই লক্ষ্য কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

এপ্রিল-মেতে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। একই সময়ে নগদায়ন হয়েছে ৫ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে নিট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা।

এর আগের মাস এপ্রিলে বিক্রি ছিল ৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা এবং নগদায়ন ৫ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে নিট বিনিয়োগ হয় ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। এই দুই মাসের ইতিবাচক ফলাফল আগের তিন মাসের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে।

অর্থবছরের সার্বিক চিত্র

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। তবে এপ্রিল ও মে মাসের উন্নতির ফলে প্রথম ১১ মাস শেষে নিট বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৮০৩-৮০৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ৫ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা, কারণ তখন নতুন বিক্রির তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল।

মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, ডিসেম্বর, এপ্রিল ও মে মাসে নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে নভেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তা ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল।

সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কেন কমেছিল

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুনাফার হার কমে যাওয়া, বাধ্যতামূলক টিআইএন, বিনিয়োগের কঠোর নিয়ম এবং ট্রেজারি বিল, সরকারি বন্ড ও ব্যাংক আমানতে তুলনামূলক আকর্ষণীয় মুনাফার কারণে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ধীর হয়ে পড়েছিল।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকা কম।

তিন মাসের পতনের পর সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ আবার ইতিবাচক হয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের শক্তিশালী বিক্রি সরকারের বাজেট অর্থায়নে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

সঞ্চয়পত্রে আবারও ইতিবাচক ধারা, তিন মাসের পতন কাটিয়ে সরকারের নিট বিনিয়োগে ফিরল গতি

০৮:২৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টানা তিন মাস নেতিবাচক অবস্থায় থাকার পর জাতীয় সঞ্চয়পত্রে (সঞ্চয়পত্র) নিট বিনিয়োগ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে এপ্রিল ও মে মাসে বিক্রি বৃদ্ধি এবং পরিপক্ব সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর হার কমে আসায় সরকারের বাজেট অর্থায়নে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০৫ কোটি টাকা। এর আগে টানা তিন মাস নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক থাকলেও এপ্রিল ও মে মাসের উন্নতি সেই প্রবণতা বদলে দিয়েছে।

জনআস্থায় ফিরেছে সঞ্চয়পত্র

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ আবারও বেড়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প এখনও সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পরিবর্তে নির্দিষ্ট আয়ের বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

কীভাবে হিসাব করা হয় নিট বিনিয়োগ

সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধ কিংবা আগাম ভাঙানোর অর্থ বাদ দিয়ে যে পরিমাণ থাকে, সেটিই নিট বিনিয়োগ হিসেবে গণনা করা হয়। সরকার বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের একটি উৎস হিসেবে এই অর্থ ব্যবহার করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে বছরের শুরুতে বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় পরে সেই লক্ষ্য কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

এপ্রিল-মেতে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। একই সময়ে নগদায়ন হয়েছে ৫ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে নিট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা।

এর আগের মাস এপ্রিলে বিক্রি ছিল ৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা এবং নগদায়ন ৫ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে নিট বিনিয়োগ হয় ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। এই দুই মাসের ইতিবাচক ফলাফল আগের তিন মাসের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে।

অর্থবছরের সার্বিক চিত্র

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। তবে এপ্রিল ও মে মাসের উন্নতির ফলে প্রথম ১১ মাস শেষে নিট বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৮০৩-৮০৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ৫ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা, কারণ তখন নতুন বিক্রির তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল।

মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, ডিসেম্বর, এপ্রিল ও মে মাসে নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে নভেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তা ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল।

সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কেন কমেছিল

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুনাফার হার কমে যাওয়া, বাধ্যতামূলক টিআইএন, বিনিয়োগের কঠোর নিয়ম এবং ট্রেজারি বিল, সরকারি বন্ড ও ব্যাংক আমানতে তুলনামূলক আকর্ষণীয় মুনাফার কারণে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ধীর হয়ে পড়েছিল।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকা কম।

তিন মাসের পতনের পর সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ আবার ইতিবাচক হয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের শক্তিশালী বিক্রি সরকারের বাজেট অর্থায়নে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।