১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশের ঝুঁকি দেখছে টিআইবি

সাইবার নিরাপত্তা সংশোধন আইন ২০২৬ এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলছে, খসড়ার কয়েকটি বিধান মৌলিক মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার ভিত্তিতে খসড়াটি সার্বিকভাবে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনটি সাইবার অপরাধ, সাইবার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার নামের তিনটি ভিন্ন ও জটিল বিষয়কে একটি আইনের আওতায় এনেছে। কোনোটিকেই যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হয়নি। বরং তিন ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃত ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
খসড়া সাইবার আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি: টিআইবি | জাতীয় | Daily  Bangladesh
তার বক্তব্য অনুযায়ী, খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, হেয় প্রতিপন্ন, মানহানিকর ও রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননাকর ধরনের ধারণাগুলোর সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যাতে উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। যৌন হয়রানি ও সেক্সটরশনের সংজ্ঞা অপেশাদার ও অসম্পূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে অপরাধের প্রকৃত রূপ আড়াল হতে পারে এবং ভুক্তভোগী অধিকারবঞ্চিত হতে পারেন। ৪৬ ধারার ২ উপধারায় ২৩ ধারাকে অজামিনযোগ্য অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরনের ধারণাও যুক্ত হয়েছে, যার স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই।
প্রস্তাবিত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের এই কাউন্সিলে বেসরকারি খাত থেকে থাকবেন মাত্র দুজন বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকার ক্ষেত্র থেকে। সেই দুজনকেও মনোনয়ন দেবে সরকার। সংস্থাটির দাবি, কাউন্সিল সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে এবং বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের বদলে কাউন্সিলের হাতে থাকা উচিত। সরল বিশ্বাসে করা কাজের জন্য কাউন্সিল সদস্য ও কর্মকর্তাদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি দায়মুক্তি দেওয়ার বিধানকেও আইনের চোখে সবাই সমান নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেছেন তিনি।
সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি রয়েছে:  টিআইবি | জাতীয় | বাংলাদেশ বুলেটিন || BD Bulletin
বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব নাগরিকের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ছিল। খসড়াটি বর্তমান রূপে অনুমোদন পেলে সাইবার পরিসর নজরদারি ও দায়মুক্তির পরিবেশে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে টিআইবি। আইনটির চূড়ান্ত রূপ কী দাঁড়ায়, তা এখন সংসদের টেবিলের অপেক্ষায়।
জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশের ঝুঁকি দেখছে টিআইবি

১১:০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাইবার নিরাপত্তা সংশোধন আইন ২০২৬ এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলছে, খসড়ার কয়েকটি বিধান মৌলিক মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার ভিত্তিতে খসড়াটি সার্বিকভাবে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনটি সাইবার অপরাধ, সাইবার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার নামের তিনটি ভিন্ন ও জটিল বিষয়কে একটি আইনের আওতায় এনেছে। কোনোটিকেই যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হয়নি। বরং তিন ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃত ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
খসড়া সাইবার আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি: টিআইবি | জাতীয় | Daily  Bangladesh
তার বক্তব্য অনুযায়ী, খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, হেয় প্রতিপন্ন, মানহানিকর ও রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননাকর ধরনের ধারণাগুলোর সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যাতে উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। যৌন হয়রানি ও সেক্সটরশনের সংজ্ঞা অপেশাদার ও অসম্পূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে অপরাধের প্রকৃত রূপ আড়াল হতে পারে এবং ভুক্তভোগী অধিকারবঞ্চিত হতে পারেন। ৪৬ ধারার ২ উপধারায় ২৩ ধারাকে অজামিনযোগ্য অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরনের ধারণাও যুক্ত হয়েছে, যার স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই।
প্রস্তাবিত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের এই কাউন্সিলে বেসরকারি খাত থেকে থাকবেন মাত্র দুজন বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকার ক্ষেত্র থেকে। সেই দুজনকেও মনোনয়ন দেবে সরকার। সংস্থাটির দাবি, কাউন্সিল সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে এবং বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের বদলে কাউন্সিলের হাতে থাকা উচিত। সরল বিশ্বাসে করা কাজের জন্য কাউন্সিল সদস্য ও কর্মকর্তাদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি দায়মুক্তি দেওয়ার বিধানকেও আইনের চোখে সবাই সমান নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেছেন তিনি।
সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি রয়েছে:  টিআইবি | জাতীয় | বাংলাদেশ বুলেটিন || BD Bulletin
বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব নাগরিকের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ছিল। খসড়াটি বর্তমান রূপে অনুমোদন পেলে সাইবার পরিসর নজরদারি ও দায়মুক্তির পরিবেশে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে টিআইবি। আইনটির চূড়ান্ত রূপ কী দাঁড়ায়, তা এখন সংসদের টেবিলের অপেক্ষায়।