০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা?

কেবল ব্যাংক হিসাবের অঙ্ক, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা দামি গাড়ি দিয়ে কি একজন মানুষের সাফল্য বিচার করা যায়? আধুনিক সমাজে এই প্রশ্নটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক। অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রদর্শনী সংস্কৃতি এবং ভোগবাদী জীবনধারা এমন এক মানসিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে অনেকেই সম্পদকে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সফলতার সমার্থক হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

অর্থ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ জীবন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সন্তানের শিক্ষা কিংবা বার্ধক্যের নিশ্চয়তার জন্য আর্থিক সক্ষমতার বিকল্প নেই। কিন্তু অর্থ যখন জীবনের লক্ষ্য না হয়ে পরিচয়ের একমাত্র মানদণ্ডে পরিণত হয়, তখন তা মানুষকে অদৃশ্য এক প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেয়। সেই প্রতিযোগিতার শেষ নেই, কারণ সম্পদের আকাঙ্ক্ষারও কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

সমস্যা আরও গভীর হয় যখন মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে অর্থই সব প্রশ্নের উত্তর। তখন আর্থিক সিদ্ধান্তেও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা, যাচাই করা তথ্যকে সন্দেহের চোখে দেখা কিংবা দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে জড়িয়ে পড়া—এসব প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। অর্থ উপার্জনের ইচ্ছা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ইচ্ছা যদি বিচক্ষণতাকে গ্রাস করে, তবে সম্পদ রক্ষাই কঠিন হয়ে পড়ে।

Why Is it So Difficult to Save Money? | SoFi

বাহ্যিক চাকচিক্যও প্রায়ই বিভ্রান্তিকর। উচ্চ আয় মানেই আর্থিক নিরাপত্তা নয়। অনেকে বিপুল উপার্জন করেও অযৌক্তিক ব্যয়, ঋণের চাপ কিংবা জীবনযাত্রার বাড়তি খরচের কারণে সঞ্চয় গড়ে তুলতে পারেন না। আবার তুলনামূলক সংযমী জীবনযাপনকারী অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে থাকেন। ফলে মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থান বাহ্যিক প্রদর্শন দিয়ে বিচার করা প্রায় অসম্ভব।

আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো সম্পদের নৈতিক ব্যবহার। অর্থ যদি কেবল ব্যক্তিগত ভোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে তার সামাজিক মূল্য সীমিত। কিন্তু একই সম্পদ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ কিংবা অন্য মানুষের সম্ভাবনা বিকাশে ব্যয় হলে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। তাই সম্পদের পরিমাণের চেয়ে তার ব্যবহারই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে।

এশীয় সমাজে পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টিও এই আলোচনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অনেক পরিবারে এখনো সন্তানদের ওপর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা প্রবল। অন্যদিকে একই ব্যক্তি আবার নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার চাপও বহন করেন। ফলে মাঝের প্রজন্ম এক ধরনের দ্বিমুখী আর্থিক দায়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় কেবল পারিবারিক কর্তব্যের কথা বললেই চলবে না; প্রত্যেক মানুষের নিজের অবসরজীবনের পরিকল্পনাও সমান জরুরি। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বার্ধক্য শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই নিশ্চিত করে না, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমায়।

স্বাস্থ্য নিয়েও একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে—সুস্থ থাকতে হলে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেই হবে। বাস্তবে নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, লবণ ও চিনি নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন সক্রিয় জীবনযাপন এমন অনেক অভ্যাস, যেগুলোর জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয় না। ব্যয়বহুল জীবনধারা নয়, ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি গড়ে তোলে।

Inheritances and inequality within generations | Institute for Fiscal  Studies

প্রজন্মগত মানসিকতার পরিবর্তনও লক্ষণীয়। তরুণদের একটি বড় অংশ অর্থকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখতে চায় না। তারা কাজের অর্থপূর্ণতা, মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিবর্তন ইতিবাচক হতে পারে, যদি তা পরিশ্রম থেকে দূরে সরে যাওয়ার অজুহাতে পরিণত না হয়। স্বপ্ন অনুসরণ করা এক বিষয়, আর দায়িত্ব এড়িয়ে চলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

এখানেই উত্তরাধিকার বা পারিবারিক সম্পদের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সবকিছু প্রস্তুত অবস্থায় তুলে দিলে অনেক সময় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা আত্মনির্ভরতার শক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পরিবার যদি কেবল সম্পদ নয়, কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং অধ্যবসায়ের মূল্যবোধও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, তবেই প্রকৃত উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

অবশেষে প্রশ্নটি আবারও সেই পুরোনো জায়গায় ফিরে আসে—সাফল্য আসলে কী? সম্পদ মানুষের জীবনকে সহজ করে, কিন্তু তা সুখ, সম্মান কিংবা অর্থপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করে না। যে মানুষ নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন, পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল, সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখে এবং সুস্থ ও সুষম জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেয়, প্রকৃত অর্থে সফলতার সংজ্ঞা তার মধ্যেই বেশি প্রতিফলিত হয়।

অর্থের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যদি কিছু হয়, তা কেবল সম্পদ নয়—সুস্থতা, প্রজ্ঞা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি ইতিবাচক অবদান রাখার সক্ষমতা। সমাজ যত দ্রুত এই সত্য উপলব্ধি করবে, সাফল্যের ধারণাও তত বেশি মানবিক হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা?

১২:৪৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কেবল ব্যাংক হিসাবের অঙ্ক, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা দামি গাড়ি দিয়ে কি একজন মানুষের সাফল্য বিচার করা যায়? আধুনিক সমাজে এই প্রশ্নটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক। অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রদর্শনী সংস্কৃতি এবং ভোগবাদী জীবনধারা এমন এক মানসিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে অনেকেই সম্পদকে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সফলতার সমার্থক হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

অর্থ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ জীবন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সন্তানের শিক্ষা কিংবা বার্ধক্যের নিশ্চয়তার জন্য আর্থিক সক্ষমতার বিকল্প নেই। কিন্তু অর্থ যখন জীবনের লক্ষ্য না হয়ে পরিচয়ের একমাত্র মানদণ্ডে পরিণত হয়, তখন তা মানুষকে অদৃশ্য এক প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেয়। সেই প্রতিযোগিতার শেষ নেই, কারণ সম্পদের আকাঙ্ক্ষারও কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

সমস্যা আরও গভীর হয় যখন মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে অর্থই সব প্রশ্নের উত্তর। তখন আর্থিক সিদ্ধান্তেও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা, যাচাই করা তথ্যকে সন্দেহের চোখে দেখা কিংবা দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে জড়িয়ে পড়া—এসব প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। অর্থ উপার্জনের ইচ্ছা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ইচ্ছা যদি বিচক্ষণতাকে গ্রাস করে, তবে সম্পদ রক্ষাই কঠিন হয়ে পড়ে।

Why Is it So Difficult to Save Money? | SoFi

বাহ্যিক চাকচিক্যও প্রায়ই বিভ্রান্তিকর। উচ্চ আয় মানেই আর্থিক নিরাপত্তা নয়। অনেকে বিপুল উপার্জন করেও অযৌক্তিক ব্যয়, ঋণের চাপ কিংবা জীবনযাত্রার বাড়তি খরচের কারণে সঞ্চয় গড়ে তুলতে পারেন না। আবার তুলনামূলক সংযমী জীবনযাপনকারী অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে থাকেন। ফলে মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থান বাহ্যিক প্রদর্শন দিয়ে বিচার করা প্রায় অসম্ভব।

আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো সম্পদের নৈতিক ব্যবহার। অর্থ যদি কেবল ব্যক্তিগত ভোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে তার সামাজিক মূল্য সীমিত। কিন্তু একই সম্পদ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ কিংবা অন্য মানুষের সম্ভাবনা বিকাশে ব্যয় হলে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। তাই সম্পদের পরিমাণের চেয়ে তার ব্যবহারই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে।

এশীয় সমাজে পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টিও এই আলোচনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অনেক পরিবারে এখনো সন্তানদের ওপর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা প্রবল। অন্যদিকে একই ব্যক্তি আবার নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার চাপও বহন করেন। ফলে মাঝের প্রজন্ম এক ধরনের দ্বিমুখী আর্থিক দায়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় কেবল পারিবারিক কর্তব্যের কথা বললেই চলবে না; প্রত্যেক মানুষের নিজের অবসরজীবনের পরিকল্পনাও সমান জরুরি। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বার্ধক্য শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই নিশ্চিত করে না, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমায়।

স্বাস্থ্য নিয়েও একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে—সুস্থ থাকতে হলে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেই হবে। বাস্তবে নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, লবণ ও চিনি নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন সক্রিয় জীবনযাপন এমন অনেক অভ্যাস, যেগুলোর জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয় না। ব্যয়বহুল জীবনধারা নয়, ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি গড়ে তোলে।

Inheritances and inequality within generations | Institute for Fiscal  Studies

প্রজন্মগত মানসিকতার পরিবর্তনও লক্ষণীয়। তরুণদের একটি বড় অংশ অর্থকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখতে চায় না। তারা কাজের অর্থপূর্ণতা, মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিবর্তন ইতিবাচক হতে পারে, যদি তা পরিশ্রম থেকে দূরে সরে যাওয়ার অজুহাতে পরিণত না হয়। স্বপ্ন অনুসরণ করা এক বিষয়, আর দায়িত্ব এড়িয়ে চলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

এখানেই উত্তরাধিকার বা পারিবারিক সম্পদের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সবকিছু প্রস্তুত অবস্থায় তুলে দিলে অনেক সময় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা আত্মনির্ভরতার শক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পরিবার যদি কেবল সম্পদ নয়, কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং অধ্যবসায়ের মূল্যবোধও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, তবেই প্রকৃত উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

অবশেষে প্রশ্নটি আবারও সেই পুরোনো জায়গায় ফিরে আসে—সাফল্য আসলে কী? সম্পদ মানুষের জীবনকে সহজ করে, কিন্তু তা সুখ, সম্মান কিংবা অর্থপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করে না। যে মানুষ নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন, পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল, সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখে এবং সুস্থ ও সুষম জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেয়, প্রকৃত অর্থে সফলতার সংজ্ঞা তার মধ্যেই বেশি প্রতিফলিত হয়।

অর্থের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যদি কিছু হয়, তা কেবল সম্পদ নয়—সুস্থতা, প্রজ্ঞা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি ইতিবাচক অবদান রাখার সক্ষমতা। সমাজ যত দ্রুত এই সত্য উপলব্ধি করবে, সাফল্যের ধারণাও তত বেশি মানবিক হয়ে উঠবে।