০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

সুমাত্রাজুড়ে ১৭ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভ, ক্ষতিপূরণ দাবি বাসিন্দাদের

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমেনি। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের কারণে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় ১৭ ঘণ্টা থেকে কোথাও কোথাও ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি পিএলএনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

পিএলএনের নর্থ সুমাত্রা ইউনিটের মুখপাত্র ডিকি নাসুতিওন জানিয়েছেন, রবিবার ভোর ৫টা ৭ মিনিটের মধ্যে উত্তর সুমাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আর কোনও ব্ল্যাকআউট নেই। তবে এই বিভ্রাট শুধু উত্তর সুমাত্রায় সীমাবদ্ধ ছিল না; আচেহ, পশ্চিম সুমাত্রা, রিয়াউ, জাম্বি ও দক্ষিণ সুমাত্রাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে।

ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে

মেদান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মাজদা এল মুহতাজ বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পরিবার নিয়ে আতঙ্ক ও মানসিক ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে, ফলে যোগাযোগ ও কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল কমানো বা নির্দিষ্ট হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে বলে জানান তিনি।

একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে মেদান লিগ্যাল এইড ইনস্টিটিউটও। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইরভান সাপুত্রা বলেন, ভোক্তা সুরক্ষা আইন ও বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই এই বিপর্যয়ের জন্য পিএলএনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধাক্কা

দীর্ঘ ব্ল্যাকআউটের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বাজার, খাবারের দোকান ও স্যুভেনির শপগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এটিএম কাজ না করায় নগদ লেনদেনও ব্যাহত হয়।

লাংকাট অঞ্চলের বাসিন্দা আবদুররহমান আজহার জানান, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া রাত কাটানো ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

খাবারের দোকান মালিক ফ্রিদায়াহ শিন্তা মাহারানি বলেন, মানুষ মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য ক্যাফেতে ভিড় করছিল। ফলে সাধারণ দোকানে ক্রেতা কমে যায় এবং তার আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

ব্ল্যাকআউটের কারণ যা বলছে পিএলএন

পিএলএনের প্রেসিডেন্ট পরিচালক দারমাওয়ান প্রসোদজো সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান, জাম্বি প্রদেশে ২৭৫ কিলোভোল্ট ট্রান্সমিশন লাইনে চরম আবহাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পুরো সুমাত্রাজুড়ে সংযুক্ত বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, কোথাও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাপ তৈরি হয়, আবার কোথাও ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের মধ্যে ৮৩ লাখের বেশি গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ ফেরত পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সুমাত্রা ব্ল্যাকআউট

সুমাত্রাজুড়ে দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবন বড় ধাক্কায় পড়েছে।

সুমাত্রায় টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্যবসা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবন থমকে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

সুমাত্রাজুড়ে ১৭ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভ, ক্ষতিপূরণ দাবি বাসিন্দাদের

০৮:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমেনি। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের কারণে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় ১৭ ঘণ্টা থেকে কোথাও কোথাও ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি পিএলএনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

পিএলএনের নর্থ সুমাত্রা ইউনিটের মুখপাত্র ডিকি নাসুতিওন জানিয়েছেন, রবিবার ভোর ৫টা ৭ মিনিটের মধ্যে উত্তর সুমাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আর কোনও ব্ল্যাকআউট নেই। তবে এই বিভ্রাট শুধু উত্তর সুমাত্রায় সীমাবদ্ধ ছিল না; আচেহ, পশ্চিম সুমাত্রা, রিয়াউ, জাম্বি ও দক্ষিণ সুমাত্রাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে।

ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে

মেদান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মাজদা এল মুহতাজ বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পরিবার নিয়ে আতঙ্ক ও মানসিক ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে, ফলে যোগাযোগ ও কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল কমানো বা নির্দিষ্ট হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে বলে জানান তিনি।

একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে মেদান লিগ্যাল এইড ইনস্টিটিউটও। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইরভান সাপুত্রা বলেন, ভোক্তা সুরক্ষা আইন ও বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই এই বিপর্যয়ের জন্য পিএলএনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধাক্কা

দীর্ঘ ব্ল্যাকআউটের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বাজার, খাবারের দোকান ও স্যুভেনির শপগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এটিএম কাজ না করায় নগদ লেনদেনও ব্যাহত হয়।

লাংকাট অঞ্চলের বাসিন্দা আবদুররহমান আজহার জানান, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া রাত কাটানো ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

খাবারের দোকান মালিক ফ্রিদায়াহ শিন্তা মাহারানি বলেন, মানুষ মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য ক্যাফেতে ভিড় করছিল। ফলে সাধারণ দোকানে ক্রেতা কমে যায় এবং তার আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

ব্ল্যাকআউটের কারণ যা বলছে পিএলএন

পিএলএনের প্রেসিডেন্ট পরিচালক দারমাওয়ান প্রসোদজো সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান, জাম্বি প্রদেশে ২৭৫ কিলোভোল্ট ট্রান্সমিশন লাইনে চরম আবহাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পুরো সুমাত্রাজুড়ে সংযুক্ত বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, কোথাও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাপ তৈরি হয়, আবার কোথাও ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের মধ্যে ৮৩ লাখের বেশি গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ ফেরত পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সুমাত্রা ব্ল্যাকআউট

সুমাত্রাজুড়ে দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবন বড় ধাক্কায় পড়েছে।

সুমাত্রায় টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্যবসা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবন থমকে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।