০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

স্টার ওয়ার্সের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন, ডিজনির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

প্রায় ছয় বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টার ওয়ার্স। নতুন সিনেমা ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ মুক্তির মাধ্যমে ডিজনি এখন বুঝতে চাইছে, দীর্ঘ বিরতির পর দর্শকদের মধ্যে স্টার ওয়ার্সের আগের সেই উন্মাদনা এখনও টিকে আছে কি না।

২০১৯ সালে ‘দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার’ মুক্তির পর আর কোনো স্টার ওয়ার্স সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসেনি। সেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে বিপুল আয় করলেও গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভক্তদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পুরনো খলনায়ক সম্রাট প্যালপাটাইনের প্রত্যাবর্তন অনেক দর্শকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। পাশাপাশি ছবিটি ভবিষ্যৎ গল্পের জন্য শক্ত ভিতও তৈরি করতে পারেনি।

টেলিভিশনের দুনিয়ায় ঝুঁকে পড়ে ডিজনি

স্টার ওয়ার্সকে সিনেমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধু সৃজনশীল সমস্যাই নয়, ডিজনির ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও বড় কারণ ছিল। সিনেমা বন্ধ থাকলেও টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে স্টার ওয়ার্সের উপস্থিতি বরং আরও বেড়েছে।

২০১৯ সালে ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’ দিয়ে শুরু করে ডিজনি একের পর এক ধারাবাহিক তৈরি করেছে। লাইভ অ্যাকশন ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে বহু সিরিজ তৈরি হয়েছে, যা ডিজনির নিজস্ব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখে। স্ট্রিমিং প্রতিযোগিতার বাজারে এই কনটেন্ট ডিজনিকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে।

তবে এত বেশি সিরিজ ও গল্পের বিস্তারের কারণে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন আর পুরো স্টার ওয়ার্স জগতের গল্পের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করতে পারছেন না। ফলে ব্র্যান্ডটির আগের রহস্য ও বিশেষত্বও কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Star Wars: Return of the Jedi' on the Big Screen Reignites a Childhood Love of 'Star Wars'

নতুন সিনেমা নিয়ে অনিশ্চয়তা

নতুন ছবি ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ এখন ডিজনির জন্য এক ধরনের পরীক্ষা। কারণ এবার একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজকে বড় পর্দার সিনেমায় রূপ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যান্ডালোরিয়ান চরিত্র ও ছোট সবুজ গ্রোগু বেশ জনপ্রিয় হলেও বিশ্বের অন্য অনেক বাজারে তাদের পরিচিতি তুলনামূলক কম।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ছবিটির উদ্বোধনী আয় আগের কিছু স্টার ওয়ার্স স্পিন-অফ সিনেমার চেয়েও কম হতে পারে। যদিও প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেট স্টার ওয়ার্সের মানদণ্ডে তুলনামূলক কম, তবু ডিজনির নতুন নেতৃত্বের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারণ আগামী বছর আরও বড় বাজেটের নতুন স্টার ওয়ার্স সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তাই বর্তমান ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু সিনেমা নয়, পুরো ব্যবসার প্রশ্ন

ডিজনির জন্য স্টার ওয়ার্স শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য। নতুন ছবি সফল হলে খেলনা বিক্রি বাড়বে, থিম পার্কে দর্শক বাড়বে এবং স্টার ওয়ার্স ঘিরে বহু পুরনো ভক্তদের আগ্রহ আবারও নতুন করে জেগে উঠবে।

প্রায় অর্ধশতক ধরে স্টার ওয়ার্স যে সাংস্কৃতিক প্রভাব ধরে রেখেছে, সেটি এখন নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ডিজনির সামনে। আর যদি এই প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি শুধু একটি সিনেমার ব্যর্থতা হবে না, বরং ডিজনির সবচেয়ে মূল্যবান বিনোদন ব্র্যান্ডগুলোর একটির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

স্টার ওয়ার্সের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন, ডিজনির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

০৯:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

প্রায় ছয় বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টার ওয়ার্স। নতুন সিনেমা ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ মুক্তির মাধ্যমে ডিজনি এখন বুঝতে চাইছে, দীর্ঘ বিরতির পর দর্শকদের মধ্যে স্টার ওয়ার্সের আগের সেই উন্মাদনা এখনও টিকে আছে কি না।

২০১৯ সালে ‘দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার’ মুক্তির পর আর কোনো স্টার ওয়ার্স সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসেনি। সেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে বিপুল আয় করলেও গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভক্তদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পুরনো খলনায়ক সম্রাট প্যালপাটাইনের প্রত্যাবর্তন অনেক দর্শকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। পাশাপাশি ছবিটি ভবিষ্যৎ গল্পের জন্য শক্ত ভিতও তৈরি করতে পারেনি।

টেলিভিশনের দুনিয়ায় ঝুঁকে পড়ে ডিজনি

স্টার ওয়ার্সকে সিনেমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধু সৃজনশীল সমস্যাই নয়, ডিজনির ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও বড় কারণ ছিল। সিনেমা বন্ধ থাকলেও টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে স্টার ওয়ার্সের উপস্থিতি বরং আরও বেড়েছে।

২০১৯ সালে ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’ দিয়ে শুরু করে ডিজনি একের পর এক ধারাবাহিক তৈরি করেছে। লাইভ অ্যাকশন ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে বহু সিরিজ তৈরি হয়েছে, যা ডিজনির নিজস্ব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখে। স্ট্রিমিং প্রতিযোগিতার বাজারে এই কনটেন্ট ডিজনিকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে।

তবে এত বেশি সিরিজ ও গল্পের বিস্তারের কারণে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন আর পুরো স্টার ওয়ার্স জগতের গল্পের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করতে পারছেন না। ফলে ব্র্যান্ডটির আগের রহস্য ও বিশেষত্বও কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Star Wars: Return of the Jedi' on the Big Screen Reignites a Childhood Love of 'Star Wars'

নতুন সিনেমা নিয়ে অনিশ্চয়তা

নতুন ছবি ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ এখন ডিজনির জন্য এক ধরনের পরীক্ষা। কারণ এবার একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজকে বড় পর্দার সিনেমায় রূপ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যান্ডালোরিয়ান চরিত্র ও ছোট সবুজ গ্রোগু বেশ জনপ্রিয় হলেও বিশ্বের অন্য অনেক বাজারে তাদের পরিচিতি তুলনামূলক কম।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ছবিটির উদ্বোধনী আয় আগের কিছু স্টার ওয়ার্স স্পিন-অফ সিনেমার চেয়েও কম হতে পারে। যদিও প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেট স্টার ওয়ার্সের মানদণ্ডে তুলনামূলক কম, তবু ডিজনির নতুন নেতৃত্বের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারণ আগামী বছর আরও বড় বাজেটের নতুন স্টার ওয়ার্স সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তাই বর্তমান ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু সিনেমা নয়, পুরো ব্যবসার প্রশ্ন

ডিজনির জন্য স্টার ওয়ার্স শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য। নতুন ছবি সফল হলে খেলনা বিক্রি বাড়বে, থিম পার্কে দর্শক বাড়বে এবং স্টার ওয়ার্স ঘিরে বহু পুরনো ভক্তদের আগ্রহ আবারও নতুন করে জেগে উঠবে।

প্রায় অর্ধশতক ধরে স্টার ওয়ার্স যে সাংস্কৃতিক প্রভাব ধরে রেখেছে, সেটি এখন নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ডিজনির সামনে। আর যদি এই প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি শুধু একটি সিনেমার ব্যর্থতা হবে না, বরং ডিজনির সবচেয়ে মূল্যবান বিনোদন ব্র্যান্ডগুলোর একটির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করবে।