০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

হরমুজে জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে, তেলের বাজারে নতুন ধাক্কার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল এখনো ফেরেনি। বরং ইরানের কড়া সতর্কতা, বিকল্প নৌপথের নির্দেশনা, খনি আতঙ্ক এবং টোল আদায়ের জল্পনায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি-পথে অচলাবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল নেমে এসেছে ১০ শতাংশেরও নিচে।

এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নৌ-নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, গ্যাসের বাজার এবং এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে আছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুদ্ধবিরতি, কিন্তু স্বস্তি নেই

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যেখানে সাধারণত প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭টি জাহাজ পার হয়েছে। এর মধ্যে ছিল একটি তেলজাত পণ্যবাহী জাহাজ এবং ছয়টি শুকনা পণ্যবাহী জাহাজ। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির রাজনৈতিক ঘোষণা থাকলেও বাণিজ্যিক জাহাজ মালিক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো এখনো পরিস্থিতিকে নিরাপদ বলে মনে করছে না।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলাচল হঠাৎ বাড়লেও কয়েক দিনের মধ্যে জট কাটবে না। কারণ এতদিনে যে জাহাজজট তৈরি হয়েছে, তা সরাতে আরও সময় লাগবে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির কাগুজে পরিবেশের সঙ্গে বাস্তব সমুদ্রপথের অবস্থার বড় ফারাক তৈরি হয়েছে।

ইরানের নিয়ন্ত্রণ বার্তা আরও স্পষ্ট

সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান কার্যত দেখিয়ে দিচ্ছে যে হরমুজে তার প্রভাব এখনো প্রবল। ইরানের বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে প্রচলিত পথের বদলে লারাক দ্বীপের আশপাশের ইরানি জলসীমা ব্যবহার করতে বলেছে। তাদের যুক্তি, প্রচলিত চলাচলপথে নৌমাইনের ঝুঁকি রয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু নিরাপত্তা বিষয়ক নয়, বরং এটি কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারও একটি বার্তা।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো, হরমুজ কি এখন আন্তর্জাতিক নৌপথের বদলে বাস্তবে ইরানের শর্তনির্ভর করিডরে পরিণত হচ্ছে? কারণ অনুমোদনহীন জাহাজ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিবেচিত জাহাজের জন্য ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এমনকি অনুমতি পেয়েও কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

Hormuz at near standstill as Iran warns ships to keep to its waters | Arab News

টোল, ডিজিটাল মুদ্রা ও নতুন অনিশ্চয়তা

এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে টোল আদায়ের আলোচনা। বিভিন্ন মহলে এমন খবর ছড়িয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য ইরান বিপুল অঙ্কের ফি চাইতে পারে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বলা হয়েছে। আরও বিতর্কের বিষয় হলো, ইরান নাকি এই অর্থ ডিজিটাল মুদ্রায় নিতে চাইতে পারে। যদিও এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়, তবু শুধু এই আলোচনা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বলেছে, আন্তর্জাতিক প্রণালিতে চলাচলের ওপর একতরফাভাবে টোল বসানোর কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিভিত্তিক ভিত্তি নেই। তাদের ভাষায়, এমন উদ্যোগ বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের প্রশ্নেও রূপ নিচ্ছে।

তেলের দাম, গ্যাস সংকট ও এশিয়ার চাপ

হরমুজে অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। কিছু বাস্তব তেলধরনের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো বেশি চাপে আছে, কারণ তাদের বড় অংশের জ্বালানি আমদানি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের মতো দেশে রান্নার গ্যাস সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে এবং সেখানে রেশনিং পর্যন্ত চালু করতে হয়েছে।

এ অবস্থায় বোঝা যাচ্ছে, হরমুজের সংকট কেবল তেলবাজারের ওঠানামার খবর নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎ খরচ এবং আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যদি এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর অভিঘাত আরও বিস্তৃত হবে।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট কি

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সংশয় হলো, ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আদৌ কার্যকর স্বস্তি আনতে পারবে কি না। কারণ সমুদ্রে নিরাপত্তা ফেরাতে শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আস্থার পরিবেশ, নৌপথের বাস্তব নিরাপত্তা, মাইন-ঝুঁকি দূর করা এবং জাহাজ চলাচলের স্পষ্ট আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা। এর কোনোটিই এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ফলে হরমুজে এখন যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত অচলাবস্থা। যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে থামলেও তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অভিঘাত এখনো পুরোদমে চলছে।

এই সংকট কেন গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের হৃদপথগুলোর একটি। এখানে অচলাবস্থা মানে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নয়, বরং তা বিশ্ববাজার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি করা। তাই হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া কেবল সামরিক উত্তেজনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়, এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি সরাসরি সতর্কবার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

হরমুজে জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে, তেলের বাজারে নতুন ধাক্কার আশঙ্কা

০৫:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল এখনো ফেরেনি। বরং ইরানের কড়া সতর্কতা, বিকল্প নৌপথের নির্দেশনা, খনি আতঙ্ক এবং টোল আদায়ের জল্পনায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি-পথে অচলাবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল নেমে এসেছে ১০ শতাংশেরও নিচে।

এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নৌ-নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, গ্যাসের বাজার এবং এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে আছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুদ্ধবিরতি, কিন্তু স্বস্তি নেই

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যেখানে সাধারণত প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭টি জাহাজ পার হয়েছে। এর মধ্যে ছিল একটি তেলজাত পণ্যবাহী জাহাজ এবং ছয়টি শুকনা পণ্যবাহী জাহাজ। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির রাজনৈতিক ঘোষণা থাকলেও বাণিজ্যিক জাহাজ মালিক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো এখনো পরিস্থিতিকে নিরাপদ বলে মনে করছে না।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলাচল হঠাৎ বাড়লেও কয়েক দিনের মধ্যে জট কাটবে না। কারণ এতদিনে যে জাহাজজট তৈরি হয়েছে, তা সরাতে আরও সময় লাগবে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির কাগুজে পরিবেশের সঙ্গে বাস্তব সমুদ্রপথের অবস্থার বড় ফারাক তৈরি হয়েছে।

ইরানের নিয়ন্ত্রণ বার্তা আরও স্পষ্ট

সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান কার্যত দেখিয়ে দিচ্ছে যে হরমুজে তার প্রভাব এখনো প্রবল। ইরানের বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে প্রচলিত পথের বদলে লারাক দ্বীপের আশপাশের ইরানি জলসীমা ব্যবহার করতে বলেছে। তাদের যুক্তি, প্রচলিত চলাচলপথে নৌমাইনের ঝুঁকি রয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু নিরাপত্তা বিষয়ক নয়, বরং এটি কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারও একটি বার্তা।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো, হরমুজ কি এখন আন্তর্জাতিক নৌপথের বদলে বাস্তবে ইরানের শর্তনির্ভর করিডরে পরিণত হচ্ছে? কারণ অনুমোদনহীন জাহাজ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিবেচিত জাহাজের জন্য ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এমনকি অনুমতি পেয়েও কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

Hormuz at near standstill as Iran warns ships to keep to its waters | Arab News

টোল, ডিজিটাল মুদ্রা ও নতুন অনিশ্চয়তা

এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে টোল আদায়ের আলোচনা। বিভিন্ন মহলে এমন খবর ছড়িয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য ইরান বিপুল অঙ্কের ফি চাইতে পারে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বলা হয়েছে। আরও বিতর্কের বিষয় হলো, ইরান নাকি এই অর্থ ডিজিটাল মুদ্রায় নিতে চাইতে পারে। যদিও এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়, তবু শুধু এই আলোচনা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বলেছে, আন্তর্জাতিক প্রণালিতে চলাচলের ওপর একতরফাভাবে টোল বসানোর কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিভিত্তিক ভিত্তি নেই। তাদের ভাষায়, এমন উদ্যোগ বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের প্রশ্নেও রূপ নিচ্ছে।

তেলের দাম, গ্যাস সংকট ও এশিয়ার চাপ

হরমুজে অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। কিছু বাস্তব তেলধরনের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো বেশি চাপে আছে, কারণ তাদের বড় অংশের জ্বালানি আমদানি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের মতো দেশে রান্নার গ্যাস সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে এবং সেখানে রেশনিং পর্যন্ত চালু করতে হয়েছে।

এ অবস্থায় বোঝা যাচ্ছে, হরমুজের সংকট কেবল তেলবাজারের ওঠানামার খবর নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎ খরচ এবং আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যদি এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর অভিঘাত আরও বিস্তৃত হবে।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট কি

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সংশয় হলো, ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আদৌ কার্যকর স্বস্তি আনতে পারবে কি না। কারণ সমুদ্রে নিরাপত্তা ফেরাতে শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আস্থার পরিবেশ, নৌপথের বাস্তব নিরাপত্তা, মাইন-ঝুঁকি দূর করা এবং জাহাজ চলাচলের স্পষ্ট আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা। এর কোনোটিই এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ফলে হরমুজে এখন যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত অচলাবস্থা। যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে থামলেও তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অভিঘাত এখনো পুরোদমে চলছে।

এই সংকট কেন গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের হৃদপথগুলোর একটি। এখানে অচলাবস্থা মানে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নয়, বরং তা বিশ্ববাজার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি করা। তাই হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া কেবল সামরিক উত্তেজনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়, এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি সরাসরি সতর্কবার্তা।