০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

হরমুজ প্রণালিতে স্বস্তি নাকি নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। তেলের দামও তাৎক্ষণিকভাবে কমেছে। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হওয়ার পথে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সমঝোতাকে অনেকেই স্থায়ী শান্তির পথ নয়, বরং নতুন সংকটের আগে সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছেন।

কূটনৈতিক অগ্রগতি, কিন্তু সমাধান নয়

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি। কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। বরং এটি এমন একটি কাঠামো, যেখানে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

A toll for using Hormuz would be a 'dangerous precedent', UN's ship agency  says - The Economic Times

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

সমঝোতার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট সমাধানের অভাব। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা চালানোর কথা বলা হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। নতুন আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হলে বর্তমান সমঝোতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা বড় ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি ইসরায়েল ও লেবাননকে ঘিরে। অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। ইরান ও ইসরায়েলের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে বিরোধ নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা হলেও আঞ্চলিক বাস্তবতা পরিস্থিতিকে আবার অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Fragile Iran deal offers oil relief, but Hormuz risks remain | Ron Bousso |  MEO

বাজারের আশাবাদ কতটা বাস্তব?

সমঝোতার ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তেলের দাম কমে গেছে এবং বাজারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অস্পষ্ট।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সামান্য কোনো উত্তেজনাও বাজারে নতুন ধাক্কা তৈরি করতে পারে।

৬০ দিনের পরীক্ষার সামনে চুক্তি

বর্তমান সমঝোতার পেছনে উভয় পক্ষের বাস্তব প্রয়োজন কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে চায়, আর ইরান চায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হোক এবং আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাক।

তবে এই সমঝোতার প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে আগামী ৬০ দিনের ওপর। যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালির বর্তমান শান্ত পরিবেশ দ্রুতই নতুন উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বলছে, অনেক সময় নীরবতাই বড় ঝড়ের আগাম সংকেত হয়ে ওঠে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

হরমুজ প্রণালিতে স্বস্তি নাকি নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস?

১১:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। তেলের দামও তাৎক্ষণিকভাবে কমেছে। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হওয়ার পথে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সমঝোতাকে অনেকেই স্থায়ী শান্তির পথ নয়, বরং নতুন সংকটের আগে সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছেন।

কূটনৈতিক অগ্রগতি, কিন্তু সমাধান নয়

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি। কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। বরং এটি এমন একটি কাঠামো, যেখানে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

A toll for using Hormuz would be a 'dangerous precedent', UN's ship agency  says - The Economic Times

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

সমঝোতার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট সমাধানের অভাব। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা চালানোর কথা বলা হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। নতুন আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হলে বর্তমান সমঝোতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা বড় ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি ইসরায়েল ও লেবাননকে ঘিরে। অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। ইরান ও ইসরায়েলের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে বিরোধ নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা হলেও আঞ্চলিক বাস্তবতা পরিস্থিতিকে আবার অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Fragile Iran deal offers oil relief, but Hormuz risks remain | Ron Bousso |  MEO

বাজারের আশাবাদ কতটা বাস্তব?

সমঝোতার ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তেলের দাম কমে গেছে এবং বাজারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অস্পষ্ট।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সামান্য কোনো উত্তেজনাও বাজারে নতুন ধাক্কা তৈরি করতে পারে।

৬০ দিনের পরীক্ষার সামনে চুক্তি

বর্তমান সমঝোতার পেছনে উভয় পক্ষের বাস্তব প্রয়োজন কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে চায়, আর ইরান চায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হোক এবং আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাক।

তবে এই সমঝোতার প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে আগামী ৬০ দিনের ওপর। যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালির বর্তমান শান্ত পরিবেশ দ্রুতই নতুন উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বলছে, অনেক সময় নীরবতাই বড় ঝড়ের আগাম সংকেত হয়ে ওঠে।