০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা, ‘জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেব’ হুঁশিয়ারি—ছোট নৌকার বহর নামিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শত শত ছোট নৌকা নামিয়ে কৌশলগত এই জলপথে নতুন চাপ তৈরি করছে তেহরান। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল যে পথ দিয়ে যায়, সেখানে ইরানের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হরমুজে ছোট নৌকার কৌশল

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হাতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার ছোট নৌকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই বাহিনী বড় জাহাজকে ঘিরে চাপ সৃষ্টি বা হয়রানি করার কৌশল হিসেবে এসব নৌকা ব্যবহার করে আসছে। অতীতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজও এই কৌশলের মুখে পড়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে এসব ছোট নৌকা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইরান বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Iran's sea mines raise fears of Strait of Hormuz oil disruption - France 24

যুদ্ধের পরই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই তেহরান ঘোষণা দেয়, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয়।

এর প্রভাব পড়ে তেলের বাজারেও। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়।

মার্চের শুরুতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে এবং প্রয়োজনে “জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে”।

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) | ইতিহাস, বৃদ্ধি, ভিত্তি, নেতৃত্ব, এবং  নিষেধাজ্ঞা | ব্রিটানিকা

মাইন বসানোর অভিযোগ

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর চেষ্টা শুরু করেছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেছেন, প্রণালিতে মাইন বসানোর কোনো পদক্ষেপ তাদের নেই।

তবু মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন প্রণালিতে ইরানের প্রতিটি নৌগতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তেল চলাচল বন্ধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র “বিশ গুণ বেশি শক্তি দিয়ে” পাল্টা আঘাত হানবে। পরে আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, যদি প্রণালিতে কোনো মাইন বসানো হয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।

Heed Trump's Warning - POLITICO Magazine

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ

পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত।

ইতিহাস বলছে, ১৯৮০-এর দশকে ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে পাতা মাইন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ব্যাপক ক্ষতি করেছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনায়ও সেই আশঙ্কা আবার সামনে এসেছে। বুধবার ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজে প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে—যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা, ‘জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেব’ হুঁশিয়ারি—ছোট নৌকার বহর নামিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

০৪:২৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শত শত ছোট নৌকা নামিয়ে কৌশলগত এই জলপথে নতুন চাপ তৈরি করছে তেহরান। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল যে পথ দিয়ে যায়, সেখানে ইরানের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হরমুজে ছোট নৌকার কৌশল

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হাতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার ছোট নৌকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই বাহিনী বড় জাহাজকে ঘিরে চাপ সৃষ্টি বা হয়রানি করার কৌশল হিসেবে এসব নৌকা ব্যবহার করে আসছে। অতীতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজও এই কৌশলের মুখে পড়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে এসব ছোট নৌকা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইরান বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Iran's sea mines raise fears of Strait of Hormuz oil disruption - France 24

যুদ্ধের পরই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই তেহরান ঘোষণা দেয়, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয়।

এর প্রভাব পড়ে তেলের বাজারেও। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়।

মার্চের শুরুতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে এবং প্রয়োজনে “জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে”।

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) | ইতিহাস, বৃদ্ধি, ভিত্তি, নেতৃত্ব, এবং  নিষেধাজ্ঞা | ব্রিটানিকা

মাইন বসানোর অভিযোগ

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর চেষ্টা শুরু করেছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেছেন, প্রণালিতে মাইন বসানোর কোনো পদক্ষেপ তাদের নেই।

তবু মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন প্রণালিতে ইরানের প্রতিটি নৌগতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তেল চলাচল বন্ধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র “বিশ গুণ বেশি শক্তি দিয়ে” পাল্টা আঘাত হানবে। পরে আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, যদি প্রণালিতে কোনো মাইন বসানো হয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।

Heed Trump's Warning - POLITICO Magazine

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ

পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত।

ইতিহাস বলছে, ১৯৮০-এর দশকে ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে পাতা মাইন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ব্যাপক ক্ষতি করেছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনায়ও সেই আশঙ্কা আবার সামনে এসেছে। বুধবার ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজে প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে—যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।