দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১০১২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বশেষ তিনটি মৃত্যুকেই সন্দেহভাজন হাম মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
এই তিনজন যুক্ত হওয়ায় সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯১২ জনে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে ১০০ জনে। একই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৭৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে সারা দেশে সন্দেহভাজন আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৩৪ জন, ফলে নিশ্চিত সংক্রমণের মোট সংখ্যা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অর্থাৎ ভর্তি রোগীদের বড় অংশই চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠেছেন। তবু দৈনিক এক হাজারের বেশি নতুন সন্দেহভাজন রোগী যুক্ত হওয়া দেখাচ্ছে, সংক্রমণের শৃঙ্খল এখনো ভাঙেনি।

হাম একটি টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য রোগ। শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং অপুষ্টি বা কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে জটিলতা বাড়ে। মার্চ থেকে টানা ছয় মাস ধরে যে সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তা টিকাদান কর্মসূচির বিস্তার ও ফলোআপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হিসাবের বড় ব্যবধানও ইঙ্গিত দেয়, পরীক্ষার সক্ষমতা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। সন্দেহভাজন আক্রান্ত ১ লাখ ৬৯ হাজারের বিপরীতে পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিনই এই হালনাগাদ প্রকাশ করছে। সংখ্যাগুলো এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে দৈনিক তিনটি মৃত্যুও আর ব্যতিক্রম মনে হয় না। বছরের শুরুতে যা ছিল কয়েকটি জেলার খবর, সেপ্টেম্বরে এসে তা দাঁড়িয়েছে চার অঙ্কের হিসাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















