০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

হারিয়ে যাওয়া নৌপথ: গাজিখালী কি ফিরে আসবে?

মানিকগঞ্জের জীবনযাত্রা ও কৃষিকে বহুদিন ধরে চালিত করে চলা গাজিখালী নদী এখন দখল, ভরাট ও দূষণে ক্ষয়ে যাচ্ছে। একসময় নদীপথ হয়ে এটি ছিল স্থানীয় বাণিজ্য, পরিবহন ও সংস্কৃতির কেন্দ্র; আজ সেই জীবনীশক্তি হারিয়ে অন্তত সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের তাগিদ ছাড়া পরিস্থিতি বদলানো মুশকিল।

গাজিখালী মূলত মানিকগঞ্জ সদর ও ঘিওর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছিল; ধলেশ্বরী ও স্থানীয় খালগুলোর সঙ্গে সংযোগ করে এটি বর্ষা-শুকনো দুই মৌসুমে কৃষি ও জলনিড়াচলকে সমর্থন করত। নদীর পুরনো গতিপথ ফিরে এলে স্থানীয় জলবায়ু ও সেচ ব্যবস্থায় সুবিধা আসতে পারে।

নদীর পানির ওপর নির্ভর করে ধান, পাট, তিলসহ বহু ফসল চাষ হতো; তীরবর্তী জেলেরা ছোট নৌকায় জীবিকা নির্বাহ করতেন। নৌপথ বন্ধ হলে ফসল পরিবহন, মাছ ধরা ও গ্রামীণ হাটবাজারগুলোর কার্যক্রম সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাণিজ্য ও পরিবহন ক্ষতি

একসময় গাজিখালী ছিল ঘিওর, সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদরের পণ্যের রফতানির এক গুরুত্বপূর্ণ পথ। নাব্যতা কমে নৌচলাচল স্থবির হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি আর গতিশীলতা হারাচ্ছে।

নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত হতো মেলা, নৌকাবাইচ ও লোকজ অনুষ্ঠান—এগুলো গ্রামীণ সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলত। প্রবীণরা তাদের শৈশবের নৌকা-ভিত্তিক স্কুলযাত্রা ও বর্ষার খেলার কথা স্মরণ করেন—এগুলো এখন স্মৃতিতেই রয়ে গেছে।

ভরাট, দখল ও দূষণের ফলে নদীর পানি প্রবাহ রুক্ষ হয়েছে; ফলত সেচ সংকট, মাছের প্রজাতি হ্রাস এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার সমস্যা বেড়েছে। কিছু স্থানে জমি তৈরির কারণে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বদলে গেছে।

স্থানীয় জনগণ, গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন—সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী খনন ও দখলমুক্তকরণ করলে গাজিখালী পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। প্রয়োজন সঠিক রোডম্যাপ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংরক্ষণ কর্মসূচি।

স্থানীয়রা মনে করে গাজিখালী নামটি ‘গাজী’ সম্প্রদায়ের বসতির সঙ্গে যুক্ত—অথবা স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে হয়তো নামকরণ। প্রবীণদের বর্ণনা নদীর সমাজ-সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

হারিয়ে যাওয়া নৌপথ: গাজিখালী কি ফিরে আসবে?

০৮:০৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

মানিকগঞ্জের জীবনযাত্রা ও কৃষিকে বহুদিন ধরে চালিত করে চলা গাজিখালী নদী এখন দখল, ভরাট ও দূষণে ক্ষয়ে যাচ্ছে। একসময় নদীপথ হয়ে এটি ছিল স্থানীয় বাণিজ্য, পরিবহন ও সংস্কৃতির কেন্দ্র; আজ সেই জীবনীশক্তি হারিয়ে অন্তত সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের তাগিদ ছাড়া পরিস্থিতি বদলানো মুশকিল।

গাজিখালী মূলত মানিকগঞ্জ সদর ও ঘিওর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছিল; ধলেশ্বরী ও স্থানীয় খালগুলোর সঙ্গে সংযোগ করে এটি বর্ষা-শুকনো দুই মৌসুমে কৃষি ও জলনিড়াচলকে সমর্থন করত। নদীর পুরনো গতিপথ ফিরে এলে স্থানীয় জলবায়ু ও সেচ ব্যবস্থায় সুবিধা আসতে পারে।

নদীর পানির ওপর নির্ভর করে ধান, পাট, তিলসহ বহু ফসল চাষ হতো; তীরবর্তী জেলেরা ছোট নৌকায় জীবিকা নির্বাহ করতেন। নৌপথ বন্ধ হলে ফসল পরিবহন, মাছ ধরা ও গ্রামীণ হাটবাজারগুলোর কার্যক্রম সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাণিজ্য ও পরিবহন ক্ষতি

একসময় গাজিখালী ছিল ঘিওর, সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদরের পণ্যের রফতানির এক গুরুত্বপূর্ণ পথ। নাব্যতা কমে নৌচলাচল স্থবির হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি আর গতিশীলতা হারাচ্ছে।

নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত হতো মেলা, নৌকাবাইচ ও লোকজ অনুষ্ঠান—এগুলো গ্রামীণ সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলত। প্রবীণরা তাদের শৈশবের নৌকা-ভিত্তিক স্কুলযাত্রা ও বর্ষার খেলার কথা স্মরণ করেন—এগুলো এখন স্মৃতিতেই রয়ে গেছে।

ভরাট, দখল ও দূষণের ফলে নদীর পানি প্রবাহ রুক্ষ হয়েছে; ফলত সেচ সংকট, মাছের প্রজাতি হ্রাস এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার সমস্যা বেড়েছে। কিছু স্থানে জমি তৈরির কারণে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বদলে গেছে।

স্থানীয় জনগণ, গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন—সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী খনন ও দখলমুক্তকরণ করলে গাজিখালী পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। প্রয়োজন সঠিক রোডম্যাপ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংরক্ষণ কর্মসূচি।

স্থানীয়রা মনে করে গাজিখালী নামটি ‘গাজী’ সম্প্রদায়ের বসতির সঙ্গে যুক্ত—অথবা স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে হয়তো নামকরণ। প্রবীণদের বর্ণনা নদীর সমাজ-সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।