০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

হাসির আড়ালে হতাশার স্বীকারোক্তি, আত্মজীবনীতে নিজেকেই বিদ্ধ করলেন হলিউডের সুরকার মার্ক শাইমান

কেউ জীবনের গ্লাসটাকে অর্ধেক ভরা দেখে, কেউ অর্ধেক খালি। কিন্তু হলিউড ও ব্রডওয়ের খ্যাতনামা সুরকার ও গীতিকার মার্ক শাইমানের কাছে গ্লাসটাই পছন্দ নয়। হাসতে হাসতেই নিজেকে তিনি বলেন চিরন্তন হতাশাবাদী, এমন একজন মানুষ যিনি ভালো কিছু ঘটলেই খারাপ কিছুর অপেক্ষায় থাকেন। জীবনের সেই দৃষ্টিভঙ্গিই উঠে এসেছে তাঁর নতুন আত্মজীবনীতে।

আত্মজীবনীতে সাফল্যের আড়ালের অস্বস্তি

নেভার মাইন্ড দ্য হ্যাপি শিরোনামের এই আত্মজীবনীতে শাইমান তুলে ধরেছেন তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, সাফল্য আর ভেতরের অস্থিরতা। নিউ জার্সিতে জন্ম নেওয়া এই সঙ্গীত প্রতিভা কৈশোরেই বেট মিডলারের সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে পৌঁছে যান হলিউড ও ব্রডওয়ের শীর্ষে। স্লিপলেস ইন সিয়াটল কিংবা মেরি পপিন্স রিটার্নস এর মতো ছবির সুর থেকে শুরু করে হেয়ার স্প্রে, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যানের মতো মঞ্চনাটক—সবখানেই রয়েছে তাঁর ছাপ।

Broadway and Hollywood songwriter Marc Shaiman looks back with pessimistic  humor in memoir

খ্যাতিমানদের মানবিক মুখ

এই বইয়ে শাইমান শুধু নিজের গল্প বলেননি। তুলে ধরেছেন মেরিল স্ট্রিপ এর অনুশীলনের নিষ্ঠা, বিলি ক্রিস্টাল ও মার্টিন শর্ট এর সঙ্গে বন্ধুত্ব, এমনকি নোরা ইফ্রনের সঙ্গে তিক্ত স্মৃতিও। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে কিংবদন্তি সুরকার স্টিফেন সন্ডহাইমের সঙ্গে এক রাতের হাস্যকর অথচ মানবিক অভিজ্ঞতা। শাইমানের ভাষায়, নামের জৌলুসের আড়ালে ও সবাই মানুষ, ভয় আর দুর্বলতা নিয়ে বাঁচে।

নিজেকে নিয়ে নির্মম রসিকতা

শাইমান নিজেকেও ছাড় দেননি। মাদকাসক্তির কথা অকপটে লিখেছেন, নিজের ওজন বাড়ার বিষয়টি নিয়েও করেছেন ব্যঙ্গ। বারবারা স্ট্রাইস্যান্ড কিংবা হ্যারি কনিক জুনিয়রের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাগুলো উঠে এসেছে তাঁর স্মৃতিচারণে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে যেমন কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেমনি শিখিয়েছে সম্পর্কের ভাঙাগড়ার বাস্তবতা।

Broadway and Hollywood songwriter Marc Shaiman looks back with pessimistic  humor in memoir - Athabasca, Barrhead & Westlock News

তরুণ শিল্পীদের জন্য শিক্ষা

এই আত্মজীবনীর মাধ্যমে নতুন শিল্পীদের উদ্দেশ্যে শাইমানের বার্তা স্পষ্ট। সুযোগ এলে উপস্থিত থাকতে হবে, না বলতে নেই। বেট মিডলারের সঙ্গে কাজ পাওয়ার জন্য নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে হঠাৎ উড়ে যাওয়ার গল্প সেই মনোভাবেরই উদাহরণ। তাঁর মতে, একটি দরজা বন্ধ হলেও অন্য কোনো দরজা খোলার স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

ব্রডওয়ে নিয়ে হতাশা, অবসর ভাবনা

টনি পুরস্কার জয়ী হয়েও ব্রডওয়ে নিয়ে শাইমানের অস্বস্তি কাটেনি। সাম্প্রতিক দুটি প্রশংসিত কাজ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ। তবু তিনি মনে করেন, প্রমাণ করার আর কিছু নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া শক্ত না হয়ে বরং আরও সংবেদনশীল হয়েছে। অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন, যদিও নিজেকে চেনা হতাশাবাদীদের পক্ষে সেটি কতটা সম্ভব, তা নিয়েই সংশয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

হাসির আড়ালে হতাশার স্বীকারোক্তি, আত্মজীবনীতে নিজেকেই বিদ্ধ করলেন হলিউডের সুরকার মার্ক শাইমান

১১:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কেউ জীবনের গ্লাসটাকে অর্ধেক ভরা দেখে, কেউ অর্ধেক খালি। কিন্তু হলিউড ও ব্রডওয়ের খ্যাতনামা সুরকার ও গীতিকার মার্ক শাইমানের কাছে গ্লাসটাই পছন্দ নয়। হাসতে হাসতেই নিজেকে তিনি বলেন চিরন্তন হতাশাবাদী, এমন একজন মানুষ যিনি ভালো কিছু ঘটলেই খারাপ কিছুর অপেক্ষায় থাকেন। জীবনের সেই দৃষ্টিভঙ্গিই উঠে এসেছে তাঁর নতুন আত্মজীবনীতে।

আত্মজীবনীতে সাফল্যের আড়ালের অস্বস্তি

নেভার মাইন্ড দ্য হ্যাপি শিরোনামের এই আত্মজীবনীতে শাইমান তুলে ধরেছেন তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, সাফল্য আর ভেতরের অস্থিরতা। নিউ জার্সিতে জন্ম নেওয়া এই সঙ্গীত প্রতিভা কৈশোরেই বেট মিডলারের সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে পৌঁছে যান হলিউড ও ব্রডওয়ের শীর্ষে। স্লিপলেস ইন সিয়াটল কিংবা মেরি পপিন্স রিটার্নস এর মতো ছবির সুর থেকে শুরু করে হেয়ার স্প্রে, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যানের মতো মঞ্চনাটক—সবখানেই রয়েছে তাঁর ছাপ।

Broadway and Hollywood songwriter Marc Shaiman looks back with pessimistic  humor in memoir

খ্যাতিমানদের মানবিক মুখ

এই বইয়ে শাইমান শুধু নিজের গল্প বলেননি। তুলে ধরেছেন মেরিল স্ট্রিপ এর অনুশীলনের নিষ্ঠা, বিলি ক্রিস্টাল ও মার্টিন শর্ট এর সঙ্গে বন্ধুত্ব, এমনকি নোরা ইফ্রনের সঙ্গে তিক্ত স্মৃতিও। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে কিংবদন্তি সুরকার স্টিফেন সন্ডহাইমের সঙ্গে এক রাতের হাস্যকর অথচ মানবিক অভিজ্ঞতা। শাইমানের ভাষায়, নামের জৌলুসের আড়ালে ও সবাই মানুষ, ভয় আর দুর্বলতা নিয়ে বাঁচে।

নিজেকে নিয়ে নির্মম রসিকতা

শাইমান নিজেকেও ছাড় দেননি। মাদকাসক্তির কথা অকপটে লিখেছেন, নিজের ওজন বাড়ার বিষয়টি নিয়েও করেছেন ব্যঙ্গ। বারবারা স্ট্রাইস্যান্ড কিংবা হ্যারি কনিক জুনিয়রের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাগুলো উঠে এসেছে তাঁর স্মৃতিচারণে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে যেমন কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেমনি শিখিয়েছে সম্পর্কের ভাঙাগড়ার বাস্তবতা।

Broadway and Hollywood songwriter Marc Shaiman looks back with pessimistic  humor in memoir - Athabasca, Barrhead & Westlock News

তরুণ শিল্পীদের জন্য শিক্ষা

এই আত্মজীবনীর মাধ্যমে নতুন শিল্পীদের উদ্দেশ্যে শাইমানের বার্তা স্পষ্ট। সুযোগ এলে উপস্থিত থাকতে হবে, না বলতে নেই। বেট মিডলারের সঙ্গে কাজ পাওয়ার জন্য নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে হঠাৎ উড়ে যাওয়ার গল্প সেই মনোভাবেরই উদাহরণ। তাঁর মতে, একটি দরজা বন্ধ হলেও অন্য কোনো দরজা খোলার স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

ব্রডওয়ে নিয়ে হতাশা, অবসর ভাবনা

টনি পুরস্কার জয়ী হয়েও ব্রডওয়ে নিয়ে শাইমানের অস্বস্তি কাটেনি। সাম্প্রতিক দুটি প্রশংসিত কাজ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ। তবু তিনি মনে করেন, প্রমাণ করার আর কিছু নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া শক্ত না হয়ে বরং আরও সংবেদনশীল হয়েছে। অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন, যদিও নিজেকে চেনা হতাশাবাদীদের পক্ষে সেটি কতটা সম্ভব, তা নিয়েই সংশয়।