০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

হিনা জাভেদ হত্যা মামলায় স্বামী ও গৃহকর্মীর রিমান্ড বাড়ল

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ডিজিটাল মিডিয়া নির্বাহী হিনা জাভেদ হত্যা মামলায় তার স্বামী ফয়সাল আসগর ও গৃহকর্মী জিশানের শারীরিক রিমান্ড আরও চার দিন বাড়িয়েছেন আদালত। শনিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই আদেশ দেন। আগামী ২ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।

হিনা জাভেদকে গত ২০ আগস্ট রাওয়ালপিন্ডির লালকুর্তি এলাকার নিজ বাসার বাথরুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মরদেহ ঝরনার সঙ্গে বাঁধা ছিল। ওই ঘটনায় তার স্বামী ফয়সাল আসগর ও গৃহকর্মী জিশানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ড বাড়ানোর আবেদন

আগের তিন দিনের শারীরিক রিমান্ড শেষ হওয়ার পর শনিবার পুলিশ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে। পুলিশের পক্ষে ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর রেহমান শওকত ভাট্টি সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।

A duty magistrate has extended the physical remand of Hina Javed's husband  and domestic servant for another three days for further investigation into  her murder case.

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফয়সাল আসগরের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এবং হিনা জাভেদের সঙ্গে তার বিয়ের সম্পর্কিত নথি উদ্ধারের জন্য আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের বদলে চার দিনের শারীরিক রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৬ আগস্ট নিহতের পরিবারের আইনজীবী শাহ খাওয়ার জানিয়েছিলেন, পুলিশ তদন্তে এরই মধ্যে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়েছে। তার মতে, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

গৃহকর্মীর স্বীকারোক্তি

মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে গৃহকর্মী জিশানের দেওয়া স্বীকারোক্তি। দুই দিন আগে তদন্তকারীদের কাছে তিনি হিনা জাভেদকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জিশানের ভাষ্য অনুযায়ী, হিনা ও তার স্বামীর মধ্যে দাম্পত্য বিরোধের সময় তাকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। একপর্যায়ে হিনা পালানোর চেষ্টা করলে ফয়সাল ও জিশান তাকে ধরে ফেলেন। হিনা প্রতিরোধ করলে জিশান তার গলা চেপে ধরেন বলে তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই বাসা থেকে নিয়মিত চুরি করার কথাও স্বীকার করেছেন।

Hina Javed murder case: court extends remand of husband, domestic worker -  HUM News English

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় হিনার শ্বশুর পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে বাসায় চোর ঢুকেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুমে হিনার মরদেহ ঝরনার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়।

ময়নাতদন্তে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হিনা জাভেদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার ঘাড়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। পাঁজর ও নিতম্বের হাড়েও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ছাড়া হৃদপিণ্ডের চারপাশের আবরণ ও হৃদপিণ্ডে রক্ত জমে থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর চিকিৎসক মারিয়া খালিদ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

হিনার মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য নমুনাও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

হিনা জাভেদ হত্যা মামলায় স্বামী ও গৃহকর্মীর রিমান্ড বাড়ল

১২:১২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ডিজিটাল মিডিয়া নির্বাহী হিনা জাভেদ হত্যা মামলায় তার স্বামী ফয়সাল আসগর ও গৃহকর্মী জিশানের শারীরিক রিমান্ড আরও চার দিন বাড়িয়েছেন আদালত। শনিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই আদেশ দেন। আগামী ২ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।

হিনা জাভেদকে গত ২০ আগস্ট রাওয়ালপিন্ডির লালকুর্তি এলাকার নিজ বাসার বাথরুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মরদেহ ঝরনার সঙ্গে বাঁধা ছিল। ওই ঘটনায় তার স্বামী ফয়সাল আসগর ও গৃহকর্মী জিশানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ড বাড়ানোর আবেদন

আগের তিন দিনের শারীরিক রিমান্ড শেষ হওয়ার পর শনিবার পুলিশ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে। পুলিশের পক্ষে ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর রেহমান শওকত ভাট্টি সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।

A duty magistrate has extended the physical remand of Hina Javed's husband  and domestic servant for another three days for further investigation into  her murder case.

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফয়সাল আসগরের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এবং হিনা জাভেদের সঙ্গে তার বিয়ের সম্পর্কিত নথি উদ্ধারের জন্য আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের বদলে চার দিনের শারীরিক রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৬ আগস্ট নিহতের পরিবারের আইনজীবী শাহ খাওয়ার জানিয়েছিলেন, পুলিশ তদন্তে এরই মধ্যে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়েছে। তার মতে, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

গৃহকর্মীর স্বীকারোক্তি

মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে গৃহকর্মী জিশানের দেওয়া স্বীকারোক্তি। দুই দিন আগে তদন্তকারীদের কাছে তিনি হিনা জাভেদকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জিশানের ভাষ্য অনুযায়ী, হিনা ও তার স্বামীর মধ্যে দাম্পত্য বিরোধের সময় তাকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। একপর্যায়ে হিনা পালানোর চেষ্টা করলে ফয়সাল ও জিশান তাকে ধরে ফেলেন। হিনা প্রতিরোধ করলে জিশান তার গলা চেপে ধরেন বলে তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই বাসা থেকে নিয়মিত চুরি করার কথাও স্বীকার করেছেন।

Hina Javed murder case: court extends remand of husband, domestic worker -  HUM News English

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় হিনার শ্বশুর পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে বাসায় চোর ঢুকেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুমে হিনার মরদেহ ঝরনার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়।

ময়নাতদন্তে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হিনা জাভেদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার ঘাড়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। পাঁজর ও নিতম্বের হাড়েও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ছাড়া হৃদপিণ্ডের চারপাশের আবরণ ও হৃদপিণ্ডে রক্ত জমে থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর চিকিৎসক মারিয়া খালিদ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

হিনার মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য নমুনাও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।