০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

হিমালয়ে হারিয়ে যাওয়া পরমাণু যন্ত্র, ছয় দশক পরও আতঙ্কে গঙ্গার উৎস

১৯৬৫ সালের এক গোপন অভিযানের ছায়া আজও তাড়া করে ফিরছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে। হিমালয়ের দুর্গম শৃঙ্গে নন্দা দেবীতে বসানো এক পরমাণু শক্তিচালিত যন্ত্র আজও নিখোঁজ। পাহাড়ের বরফ আর পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকা সেই যন্ত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে গঙ্গার উৎস ও আশপাশের জনপদের নিরাপত্তা ঘিরে।

গোপন অভিযানের শুরু
চীনের প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর নজরদারির তাগিদে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এক অসম্ভব পরিকল্পনা নেয়। লক্ষ্য ছিল হিমালয়ের চূড়ায় এমন এক যন্ত্র বসানো, যা দূর থেকে রেডিও সংকেত ধরে ফেলতে পারে। সেই যন্ত্র চালাতে ব্যবহার করা হয়েছিল তেজস্ক্রিয় পদার্থ ভিত্তিক শক্তির উৎস। অভিযানে যুক্ত হন মার্কিন পর্বতারোহী ও ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ সদস্যরা। সবকিছুই ছিল চরম গোপনীয়তায় মোড়া।

ঝড়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত
চূড়ার ঠিক নিচে পৌঁছে আচমকা আবহাওয়া ভয়াবহ রূপ নেয়। তুষারঝড়, প্রবল বাতাস আর শূন্য দৃশ্যমানতায় জীবন বাঁচানো হয়ে ওঠে একমাত্র লক্ষ্য। সেই মুহূর্তে অভিযানের নেতৃত্ব দেন যিনি, তিনি সিদ্ধান্ত নেন যন্ত্রটি সেখানেই রেখে সবাইকে দ্রুত নামিয়ে আনতে। সেই সিদ্ধান্তই ইতিহাসের এক বিপজ্জনক অধ্যায়ের জন্ম দেয়। যন্ত্রটি আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বরফের নিচে চাপা আতঙ্ক
পরের বছরগুলোতে একাধিকবার অনুসন্ধান চালানো হয়। তেজস্ক্রিয়তা মাপার যন্ত্র, তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি—সবই ব্যর্থ হয়। ধারণা করা হয়, উষ্ণতা ছড়ানো যন্ত্রটি বরফ গলিয়ে আরও গভীরে ঢুকে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, বিস্ফোরণের ঝুঁকি না থাকলেও তেজস্ক্রিয় পদার্থ মানবদেহে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। বরফ গলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেটি বেরিয়ে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গঙ্গার উৎস নিয়ে দুশ্চিন্তা
নন্দা দেবীর হিমবাহ থেকেই গঙ্গার বহু উপনদীর জন্ম। এই নদীর ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষ। তাই যন্ত্রটি কোন ভাবে পানির প্রবাহে মিশে পড়লে কী হতে পারে, সেই প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খায়। অতীতে নেওয়া পানির নমুনায় দূষণের প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদদের আশঙ্কা কাটেনি।

রাজনীতি ও নীরবতা
সত্তরের দশকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভারতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সংসদে প্রশ্ন ওঠে, রাস্তায় নামে প্রতিবাদ। তবু দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পথ বেছে নেয়। আজও সরকারি পর্যায়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি নেই। নথিপত্রে ঘটনাটি শুধু হিমালয় ঘটনা বা নন্দা দেবী কাণ্ড নামেই উল্লেখিত।

গলছে হিমবাহ, ফিরছে প্রশ্ন
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে। সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর আবারও সন্দেহের তীর ঘুরছে সেই হারিয়ে যাওয়া যন্ত্রের দিকে। স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, যদি মানুষ চাঁদে যেতে পারে, তবে এই যন্ত্র খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কেন।

শেষ না হওয়া অধ্যায়
ছয় দশক পরও নন্দা দেবীর বরফে চাপা সেই পরমাণু যন্ত্র এক অমীমাংসিত আতঙ্ক হয়ে আছে। প্রযুক্তি এগিয়েছে, সময় বদলেছে, কিন্তু প্রশ্ন একই রয়ে গেছে—এই বিপজ্জনক উত্তরাধিকার থেকে মুক্তি কবে মিলবে।

#হিমালয় #নন্দাদেবী #পরমাণুআতঙ্ক #গঙ্গানদী #গোপনঅভিযান #তেজস্ক্রিয়ঝুঁকি #পরিবেশউদ্বেগ #ইতিহাসেররহস্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

হিমালয়ে হারিয়ে যাওয়া পরমাণু যন্ত্র, ছয় দশক পরও আতঙ্কে গঙ্গার উৎস

১১:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৬৫ সালের এক গোপন অভিযানের ছায়া আজও তাড়া করে ফিরছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে। হিমালয়ের দুর্গম শৃঙ্গে নন্দা দেবীতে বসানো এক পরমাণু শক্তিচালিত যন্ত্র আজও নিখোঁজ। পাহাড়ের বরফ আর পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকা সেই যন্ত্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে গঙ্গার উৎস ও আশপাশের জনপদের নিরাপত্তা ঘিরে।

গোপন অভিযানের শুরু
চীনের প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর নজরদারির তাগিদে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এক অসম্ভব পরিকল্পনা নেয়। লক্ষ্য ছিল হিমালয়ের চূড়ায় এমন এক যন্ত্র বসানো, যা দূর থেকে রেডিও সংকেত ধরে ফেলতে পারে। সেই যন্ত্র চালাতে ব্যবহার করা হয়েছিল তেজস্ক্রিয় পদার্থ ভিত্তিক শক্তির উৎস। অভিযানে যুক্ত হন মার্কিন পর্বতারোহী ও ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ সদস্যরা। সবকিছুই ছিল চরম গোপনীয়তায় মোড়া।

ঝড়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত
চূড়ার ঠিক নিচে পৌঁছে আচমকা আবহাওয়া ভয়াবহ রূপ নেয়। তুষারঝড়, প্রবল বাতাস আর শূন্য দৃশ্যমানতায় জীবন বাঁচানো হয়ে ওঠে একমাত্র লক্ষ্য। সেই মুহূর্তে অভিযানের নেতৃত্ব দেন যিনি, তিনি সিদ্ধান্ত নেন যন্ত্রটি সেখানেই রেখে সবাইকে দ্রুত নামিয়ে আনতে। সেই সিদ্ধান্তই ইতিহাসের এক বিপজ্জনক অধ্যায়ের জন্ম দেয়। যন্ত্রটি আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বরফের নিচে চাপা আতঙ্ক
পরের বছরগুলোতে একাধিকবার অনুসন্ধান চালানো হয়। তেজস্ক্রিয়তা মাপার যন্ত্র, তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি—সবই ব্যর্থ হয়। ধারণা করা হয়, উষ্ণতা ছড়ানো যন্ত্রটি বরফ গলিয়ে আরও গভীরে ঢুকে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, বিস্ফোরণের ঝুঁকি না থাকলেও তেজস্ক্রিয় পদার্থ মানবদেহে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। বরফ গলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেটি বেরিয়ে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গঙ্গার উৎস নিয়ে দুশ্চিন্তা
নন্দা দেবীর হিমবাহ থেকেই গঙ্গার বহু উপনদীর জন্ম। এই নদীর ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষ। তাই যন্ত্রটি কোন ভাবে পানির প্রবাহে মিশে পড়লে কী হতে পারে, সেই প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খায়। অতীতে নেওয়া পানির নমুনায় দূষণের প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদদের আশঙ্কা কাটেনি।

রাজনীতি ও নীরবতা
সত্তরের দশকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভারতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সংসদে প্রশ্ন ওঠে, রাস্তায় নামে প্রতিবাদ। তবু দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পথ বেছে নেয়। আজও সরকারি পর্যায়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি নেই। নথিপত্রে ঘটনাটি শুধু হিমালয় ঘটনা বা নন্দা দেবী কাণ্ড নামেই উল্লেখিত।

গলছে হিমবাহ, ফিরছে প্রশ্ন
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে। সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর আবারও সন্দেহের তীর ঘুরছে সেই হারিয়ে যাওয়া যন্ত্রের দিকে। স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, যদি মানুষ চাঁদে যেতে পারে, তবে এই যন্ত্র খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কেন।

শেষ না হওয়া অধ্যায়
ছয় দশক পরও নন্দা দেবীর বরফে চাপা সেই পরমাণু যন্ত্র এক অমীমাংসিত আতঙ্ক হয়ে আছে। প্রযুক্তি এগিয়েছে, সময় বদলেছে, কিন্তু প্রশ্ন একই রয়ে গেছে—এই বিপজ্জনক উত্তরাধিকার থেকে মুক্তি কবে মিলবে।

#হিমালয় #নন্দাদেবী #পরমাণুআতঙ্ক #গঙ্গানদী #গোপনঅভিযান #তেজস্ক্রিয়ঝুঁকি #পরিবেশউদ্বেগ #ইতিহাসেররহস্য