০১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং ও প্রতারণা  

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদন নয়, বরং যোগাযোগ, ব্যবসা ও পারিবারিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্র বারবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করছে এবং ভুক্তভোগীর পরিচিতদের কাছে টাকা দাবি করছে। বিশেষ করে “জরুরি ভিত্তিতে ১৫ হাজার টাকা পাঠান”—এই ধরনের বার্তা এখন প্রতারণার অন্যতম প্রচলিত কৌশল।

প্রতারণার ধরণ

হ্যাকিংয়ের পর ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করে প্রতারকরা এক ধরনের জরুরি বার্তা পাঠায়। বার্তাগুলোতে সাধারণত বলা হয়, ভুক্তভোগী বিপদে আছেন, এখনই আর্থিক সাহায্য দরকার। যেহেতু বার্তাটি পরিচিত নাম্বার থেকেই আসে, প্রাপকরা সন্দেহ না করে দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন। প্রতারকরা মোবাইল ব্যাংকিং বা নগদ, বিকাশ, রকেটের মাধ্যমে টাকা নেয়।

বাস্তব উদাহরণ

ঢাকার গুলশানের এক ব্যবসায়ী জানান, তার এক বন্ধুর নম্বর হ্যাক হওয়ার পর তিনি রাত ১০টার দিকে বার্তা পান—“আমি খুব বিপদে আছি, দয়া করে ১৫ হাজার টাকা পাঠান।” পরিচিতজন ভেবে তিনি টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে ফোন করে বুঝতে পারেন এটি প্রতারণা। একইভাবে, চট্টগ্রামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীও হ্যাকারদের ফাঁদে পড়ে বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠান।

Protect your WhatsApp account from theft using two-factor authentication

বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে দুই-স্তরের ভেরিফিকেশন (two-step verification) বাধ্যতামূলক করা উচিত। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষ সচেতন হলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে কমে যাবে। প্রতারকরা মূলত মানুষের আতঙ্ক ও বিশ্বাসকে কাজে লাগায়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করছেন, হ্যাকাররা এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যাংকিং তথ্য বা ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট হাতিয়ে নিতেও সক্রিয় হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে।

কেন বাংলাদেশে বাড়ছে

প্রচুর মোবাইল ব্যবহারকারী ও সহজ লক্ষ্য
অনেকেই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন না
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করেন না
অনেকে অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করেন
প্রতারণা ধরা পড়লেও খুব কম ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়

প্রতিরোধের উপায়

  • • হোয়াটসঅ্যাপের টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা
  • • অচেনা লিঙ্ক বা ফাইল কখনোই না খোলা
  • • টাকা পাঠানোর আগে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলা
  • • পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা
  • • পরিবারের বয়স্ক বা প্রযুক্তি-অসচেতন সদস্যদের সচেতন করা

 হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং এখন বাংলাদেশের একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতারকরা একদিকে মানুষের আস্থা ভেঙে দিচ্ছে, অন্যদিকে অনেককে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। তবে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা জোরদার করলে এই প্রতারণা রোধ করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং ও প্রতারণা  

০৩:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদন নয়, বরং যোগাযোগ, ব্যবসা ও পারিবারিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্র বারবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করছে এবং ভুক্তভোগীর পরিচিতদের কাছে টাকা দাবি করছে। বিশেষ করে “জরুরি ভিত্তিতে ১৫ হাজার টাকা পাঠান”—এই ধরনের বার্তা এখন প্রতারণার অন্যতম প্রচলিত কৌশল।

প্রতারণার ধরণ

হ্যাকিংয়ের পর ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করে প্রতারকরা এক ধরনের জরুরি বার্তা পাঠায়। বার্তাগুলোতে সাধারণত বলা হয়, ভুক্তভোগী বিপদে আছেন, এখনই আর্থিক সাহায্য দরকার। যেহেতু বার্তাটি পরিচিত নাম্বার থেকেই আসে, প্রাপকরা সন্দেহ না করে দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন। প্রতারকরা মোবাইল ব্যাংকিং বা নগদ, বিকাশ, রকেটের মাধ্যমে টাকা নেয়।

বাস্তব উদাহরণ

ঢাকার গুলশানের এক ব্যবসায়ী জানান, তার এক বন্ধুর নম্বর হ্যাক হওয়ার পর তিনি রাত ১০টার দিকে বার্তা পান—“আমি খুব বিপদে আছি, দয়া করে ১৫ হাজার টাকা পাঠান।” পরিচিতজন ভেবে তিনি টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে ফোন করে বুঝতে পারেন এটি প্রতারণা। একইভাবে, চট্টগ্রামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীও হ্যাকারদের ফাঁদে পড়ে বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠান।

Protect your WhatsApp account from theft using two-factor authentication

বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে দুই-স্তরের ভেরিফিকেশন (two-step verification) বাধ্যতামূলক করা উচিত। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষ সচেতন হলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে কমে যাবে। প্রতারকরা মূলত মানুষের আতঙ্ক ও বিশ্বাসকে কাজে লাগায়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করছেন, হ্যাকাররা এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যাংকিং তথ্য বা ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট হাতিয়ে নিতেও সক্রিয় হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে।

কেন বাংলাদেশে বাড়ছে

প্রচুর মোবাইল ব্যবহারকারী ও সহজ লক্ষ্য
অনেকেই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন না
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করেন না
অনেকে অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করেন
প্রতারণা ধরা পড়লেও খুব কম ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়

প্রতিরোধের উপায়

  • • হোয়াটসঅ্যাপের টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা
  • • অচেনা লিঙ্ক বা ফাইল কখনোই না খোলা
  • • টাকা পাঠানোর আগে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলা
  • • পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা
  • • পরিবারের বয়স্ক বা প্রযুক্তি-অসচেতন সদস্যদের সচেতন করা

 হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং এখন বাংলাদেশের একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতারকরা একদিকে মানুষের আস্থা ভেঙে দিচ্ছে, অন্যদিকে অনেককে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। তবে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা জোরদার করলে এই প্রতারণা রোধ করা সম্ভব।