১২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা, প্রাণহানির খবর নেই তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক বার্তা ও উত্তেজনার টানাপোড়েন হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে, হামলার হুমকিতে পাল্টা জবাবের সতর্কতা ইরানের বেক্সিমকো ফার্মা নির্মিত শিশু হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ চালু মার্চে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ১৯.৭৮ শতাংশ কমেছে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে মার্কিন নীতি: বিশ্বকে সতর্কবার্তা তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, লেবাননে নিহত শিশুদের ছবি নিয়ে প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে জ্বালানি পাস ব্যবস্থা এই মাসেই চালু হচ্ছে, কিউআর কোডে নজরদারি

বর্ষার বন্যার সঙ্গে বসবাস: সুরমা–কুশিয়ারা প্রকল্প কি বদলাতে পারবে সিলেটের ভাগ্য?

ইউএনবি

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী সিলেট ও হবিগঞ্জের জীবনধারাকে গড়ে তুলেছে। একদিকে উর্বর বন্যাপ্লাবিত ভূমি উপহার দিয়েছে, অন্যদিকে নিয়মিত বিরতিতে ভয়াবহ ধ্বংসও ডেকে এনেছে।

প্রতি বর্ষায় সুরমা ও কুশিয়ারার পানিতে ভরে ওঠা তীর উপচে পড়ে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও সড়ক ভেসে যায় এবং হাজারো মানুষকে ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের এক অন্তহীন চক্রে ঠেলে দেয়।

এই চক্র ভাঙতে সরকার ১ হাজার ২৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য বন্যা সুরক্ষা জোরদার করা, নদীতীর স্থিতিশীল করা এবং সুরমা–কুশিয়ারা অববাহিকায় সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা চালু করা।

Surma, Kushiyara rivers flow above danger level in Sylhet; flood fears loom

‘সুরমা–কুশিয়ারা নদী অববাহিকা উন্নয়ন ও বন্যা এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত।

সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলায় কার্যকর হবে, যেখানে কৃষিই এখনো মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি।

এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বড় পরিসরের নদী খনন। মোট ১২১ কিলোমিটারেরও বেশি নদীপথ খনন করা হবে এবং আনুমানিক ১২ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হবে।

এ ছাড়া নদীভাঙনপ্রবণ ১৭ কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে। এসব এলাকাই বারবার নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুরমা ও কুশিয়ারা গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা অববাহিকার অংশ। এই নদীগুলোর উৎপত্তি ভারতের বরাক নদী থেকে, সেখান থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

সীমান্ত অতিক্রমের পর নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সিলেটের পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে আবার মিলিত হয়ে কালনী নদী নামে পরিচিত হয়। পরে এটি ভৈরব বাজারের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।

কুশিয়ারার ভাঙনে বদলে যাচ্ছে জকিগঞ্জের মানচিত্র!

পাহাড়ি উৎসের কারণে এই দুই নদী স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত প্রবাহমান ও অত্যন্ত বাঁকানো প্রকৃতির। বিশেষ করে নদীর অবতল বাঁকে নিয়মিত ভাঙন ঘটে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি এবং উজানে পাহাড়ি বনভূমি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হওয়ায় নদীতে পলির পরিমাণ বেড়েছে।

প্রাপ্ত প্রকল্প নথি অনুযায়ী, এই পলি নদীর উত্তল বাঁকে জমে নদীপথ সংকুচিত করে এবং বিপরীত তীরে ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করে।

বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অনেক সময় নদীর ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

এতে ফসল নষ্ট হয়, বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায় এবং সড়ক, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের সরকারি অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই অববাহিকায় সারিগোয়াইন, সোনাই ও পিয়াইনসহ আরও কয়েকটি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যেগুলো ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

এই নদীগুলোর তীব্র ভাঙনে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের জরুরি প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই প্রকল্পটি সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করবে। খননের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, ভাঙন কমানো, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো রক্ষা—সবই এর লক্ষ্য।

Floods feared as rain-fed rivers in Sylhet cross danger mark | The Business  Standard

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাঙনপ্রবণ এলাকায়। সেখানে তীর সংরক্ষণ কাজ বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় সহায়ক হবে, যা আন্তঃসীমান্ত নদীর ভাঙনের একটি প্রায় উপেক্ষিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে অঞ্চলজুড়ে আগাম ও চূড়ান্ত বর্ষাকালীন বন্যা থেকে ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাৎক্ষণিক সুরক্ষার পাশাপাশি এই প্রকল্প সুষ্ঠু পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতার ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায়।

২০২২ সালের বর্ষায় উত্তর ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে নজিরবিহীন বন্যা দেখা দেয়, যা গত ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হয়।

এই দুর্যোগে ১৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। বন্যায় ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৭২ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়।

সিলেট শহরের বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, যদি এই প্রকল্প সত্যিই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বন্যা কমায়, তাহলে আমাদের মতো মানুষের জন্য এটা অনেকটা স্বস্তির হবে। তবে আমরা চাই কাজটি যেন সঠিকভাবে হয় এবং সময়মতো শেষ হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে

বর্ষার বন্যার সঙ্গে বসবাস: সুরমা–কুশিয়ারা প্রকল্প কি বদলাতে পারবে সিলেটের ভাগ্য?

১০:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউএনবি

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী সিলেট ও হবিগঞ্জের জীবনধারাকে গড়ে তুলেছে। একদিকে উর্বর বন্যাপ্লাবিত ভূমি উপহার দিয়েছে, অন্যদিকে নিয়মিত বিরতিতে ভয়াবহ ধ্বংসও ডেকে এনেছে।

প্রতি বর্ষায় সুরমা ও কুশিয়ারার পানিতে ভরে ওঠা তীর উপচে পড়ে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও সড়ক ভেসে যায় এবং হাজারো মানুষকে ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের এক অন্তহীন চক্রে ঠেলে দেয়।

এই চক্র ভাঙতে সরকার ১ হাজার ২৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য বন্যা সুরক্ষা জোরদার করা, নদীতীর স্থিতিশীল করা এবং সুরমা–কুশিয়ারা অববাহিকায় সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা চালু করা।

Surma, Kushiyara rivers flow above danger level in Sylhet; flood fears loom

‘সুরমা–কুশিয়ারা নদী অববাহিকা উন্নয়ন ও বন্যা এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত।

সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলায় কার্যকর হবে, যেখানে কৃষিই এখনো মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি।

এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বড় পরিসরের নদী খনন। মোট ১২১ কিলোমিটারেরও বেশি নদীপথ খনন করা হবে এবং আনুমানিক ১২ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হবে।

এ ছাড়া নদীভাঙনপ্রবণ ১৭ কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে। এসব এলাকাই বারবার নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুরমা ও কুশিয়ারা গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা অববাহিকার অংশ। এই নদীগুলোর উৎপত্তি ভারতের বরাক নদী থেকে, সেখান থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

সীমান্ত অতিক্রমের পর নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সিলেটের পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে আবার মিলিত হয়ে কালনী নদী নামে পরিচিত হয়। পরে এটি ভৈরব বাজারের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।

কুশিয়ারার ভাঙনে বদলে যাচ্ছে জকিগঞ্জের মানচিত্র!

পাহাড়ি উৎসের কারণে এই দুই নদী স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত প্রবাহমান ও অত্যন্ত বাঁকানো প্রকৃতির। বিশেষ করে নদীর অবতল বাঁকে নিয়মিত ভাঙন ঘটে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি এবং উজানে পাহাড়ি বনভূমি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হওয়ায় নদীতে পলির পরিমাণ বেড়েছে।

প্রাপ্ত প্রকল্প নথি অনুযায়ী, এই পলি নদীর উত্তল বাঁকে জমে নদীপথ সংকুচিত করে এবং বিপরীত তীরে ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করে।

বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অনেক সময় নদীর ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

এতে ফসল নষ্ট হয়, বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায় এবং সড়ক, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের সরকারি অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই অববাহিকায় সারিগোয়াইন, সোনাই ও পিয়াইনসহ আরও কয়েকটি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যেগুলো ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

এই নদীগুলোর তীব্র ভাঙনে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের জরুরি প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই প্রকল্পটি সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করবে। খননের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, ভাঙন কমানো, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো রক্ষা—সবই এর লক্ষ্য।

Floods feared as rain-fed rivers in Sylhet cross danger mark | The Business  Standard

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাঙনপ্রবণ এলাকায়। সেখানে তীর সংরক্ষণ কাজ বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় সহায়ক হবে, যা আন্তঃসীমান্ত নদীর ভাঙনের একটি প্রায় উপেক্ষিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে অঞ্চলজুড়ে আগাম ও চূড়ান্ত বর্ষাকালীন বন্যা থেকে ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাৎক্ষণিক সুরক্ষার পাশাপাশি এই প্রকল্প সুষ্ঠু পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতার ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায়।

২০২২ সালের বর্ষায় উত্তর ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে নজিরবিহীন বন্যা দেখা দেয়, যা গত ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হয়।

এই দুর্যোগে ১৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। বন্যায় ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৭২ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়।

সিলেট শহরের বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, যদি এই প্রকল্প সত্যিই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বন্যা কমায়, তাহলে আমাদের মতো মানুষের জন্য এটা অনেকটা স্বস্তির হবে। তবে আমরা চাই কাজটি যেন সঠিকভাবে হয় এবং সময়মতো শেষ হয়।