১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে যুদ্ধ, সংঘাত কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষের আবেদন স্থগিত থাকলেও আফ্রিকানারদের জন্য দরজা তুলনামূলকভাবে বেশি খোলা রয়েছে।

গত বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচির অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। পরে কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানার ও কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়। সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের জন্য তাদের কোটা আরও ১০ হাজার বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করা হয়েছে।

নিপীড়নের দাবি নিয়ে বিতর্ক

শরণার্থী মর্যাদা পেতে হলে আবেদনকারীকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি নিপীড়নের আশঙ্কায় আছেন। অনেক আফ্রিকানার দাবি করছেন, তারা সহিংস অপরাধ ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরি এবং সরকারি চুক্তিতে কৃষ্ণাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির কারণে তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বাস্তবতা আরও জটিল। দেশটিতে সহিংস অপরাধ সব সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে। পাশাপাশি বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনের ঐতিহাসিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য কিছু বিশেষ নীতি চালু করা হয়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে।

নতুন জীবনের আশা, নতুন চ্যালেঞ্জ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া কিছু আফ্রিকানার মনে করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা প্রচলিত শরণার্থী ধারণার সঙ্গে মেলে না। অনেকেই শিক্ষিত, ইংরেজিতে দক্ষ এবং দ্রুত নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তারা আরেক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শরণার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়ায় নতুন আগতদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, নতুন জীবনের সুযোগ থাকলেও এটি কোনো সহজ বা স্বপ্নময় যাত্রা নয়।

আফ্রিকানার নেতৃত্বের ভিন্ন অবস্থান

দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানার অধিকার নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন শুরু থেকেই গণহারে দেশত্যাগকে সমাধান হিসেবে দেখেনি। তাদের মতে, আফ্রিকানারদের ভবিষ্যৎ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গেই জড়িত এবং দেশের সমস্যার সমাধান দেশের ভেতরেই খুঁজতে হবে।

তাদের আশঙ্কা, শরণার্থী হিসেবে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা রাজনৈতিক আলোচনার শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে আফ্রিকানারদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যে বিতর্ক চলছে, সেটিও নতুন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

নীতির রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু মানবিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে সমতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, যেখানে বিশ্বের নানা সংকটপূর্ণ অঞ্চল থেকে আসা হাজারো আবেদনকারী অপেক্ষায় আছেন, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, শরণার্থী নীতি এখন শুধু মানবিক সহায়তার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অভিবাসন এবং পরিচয়ভিত্তিক বিতর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা

১১:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে যুদ্ধ, সংঘাত কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষের আবেদন স্থগিত থাকলেও আফ্রিকানারদের জন্য দরজা তুলনামূলকভাবে বেশি খোলা রয়েছে।

গত বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচির অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। পরে কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানার ও কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়। সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের জন্য তাদের কোটা আরও ১০ হাজার বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করা হয়েছে।

নিপীড়নের দাবি নিয়ে বিতর্ক

শরণার্থী মর্যাদা পেতে হলে আবেদনকারীকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি নিপীড়নের আশঙ্কায় আছেন। অনেক আফ্রিকানার দাবি করছেন, তারা সহিংস অপরাধ ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরি এবং সরকারি চুক্তিতে কৃষ্ণাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির কারণে তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বাস্তবতা আরও জটিল। দেশটিতে সহিংস অপরাধ সব সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে। পাশাপাশি বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনের ঐতিহাসিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য কিছু বিশেষ নীতি চালু করা হয়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে।

নতুন জীবনের আশা, নতুন চ্যালেঞ্জ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া কিছু আফ্রিকানার মনে করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা প্রচলিত শরণার্থী ধারণার সঙ্গে মেলে না। অনেকেই শিক্ষিত, ইংরেজিতে দক্ষ এবং দ্রুত নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তারা আরেক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শরণার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়ায় নতুন আগতদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, নতুন জীবনের সুযোগ থাকলেও এটি কোনো সহজ বা স্বপ্নময় যাত্রা নয়।

আফ্রিকানার নেতৃত্বের ভিন্ন অবস্থান

দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানার অধিকার নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন শুরু থেকেই গণহারে দেশত্যাগকে সমাধান হিসেবে দেখেনি। তাদের মতে, আফ্রিকানারদের ভবিষ্যৎ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গেই জড়িত এবং দেশের সমস্যার সমাধান দেশের ভেতরেই খুঁজতে হবে।

তাদের আশঙ্কা, শরণার্থী হিসেবে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা রাজনৈতিক আলোচনার শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে আফ্রিকানারদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যে বিতর্ক চলছে, সেটিও নতুন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

নীতির রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু মানবিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে সমতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, যেখানে বিশ্বের নানা সংকটপূর্ণ অঞ্চল থেকে আসা হাজারো আবেদনকারী অপেক্ষায় আছেন, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, শরণার্থী নীতি এখন শুধু মানবিক সহায়তার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অভিবাসন এবং পরিচয়ভিত্তিক বিতর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।