১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের

ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা

ইরান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের দিকে তাকাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ নিরাপদ করা। তবে এই প্রচেষ্টা চীনের প্রকৃত প্রভাব ও ইচ্ছাশক্তির সীমা কতটা, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সীমাবদ্ধতা, চীনের দিকে নজর

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত পারস্য উপসাগরের দেশগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আঘাত করলেও এর প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে।

আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই তারা চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং সব পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে সংঘাত বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

চীনের জন্য এই সংকট একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ চীন উপসাগরীয় দেশগুলোর অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি।

উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রত্যাশা, বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করছে, চীন ইরানকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা এটাও জানে, চীন সাধারণত ধীরে ও সতর্কভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।

একটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, চীন আরও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং সহযোগিতার আগ্রহ দেখাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে বড় শক্তিগুলোর হিসাব-নিকাশ পুরো পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। তাই বেইজিং প্রকাশ্যে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পক্ষ নিতে চাইছে না।

অর্থনৈতিক প্রভাব আছে, কিন্তু সামরিক ভূমিকা সীমিত

চীন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় দেশ—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক শক্তিশালী করেছে।

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত চীন-উপসাগরীয় সম্মেলনের পর এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এমন চীনা কৌশলগত প্রভাব কেনা তাদের জন্য কঠিন।

The Illusion of Control: Miscalculation and the Road to War with Iran -  Open Canada

সৌদি-ইরান সম্পর্ক পুনর্গঠনের পরীক্ষা

চীন ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক কূটনৈতিক সমঝোতা করিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই কূটনৈতিক সাফল্য বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

চীন পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনে উৎসাহ দিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া চীন ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

চীনের স্বার্থ রক্ষা বনাম আঞ্চলিক শান্তি

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন পর্যন্ত মূলত নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার মধ্যেই সীমিত রয়েছে। চীনা সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা গেলেও পুরো অঞ্চলে হামলা বন্ধে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বেইজিং।

ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন দীর্ঘদিন ধরে কম দামে দেশটির তেল কিনে এসেছে। পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা খাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামরিক সহায়তার অভিযোগ চীন বারবার অস্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চীনের অবস্থান

চীন জানিয়েছে, তারা সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথে যেতে প্রস্তুত নয়। বেইজিং মনে করে, সংকটের সমাধান কেবল কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীনের কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সামরিক দায়িত্ব মধ্যপ্রাচ্যে নেই। তাই বিশ্লেষকদের মতে, চীন বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেই নিজের প্রভাব বাড়াতে চায়।

বর্তমান সংকট তাই শুধু ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা কতটা কার্যকর হতে পারে—সেই প্রশ্নেরও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস

ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা

০৯:১০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইরান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের দিকে তাকাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ নিরাপদ করা। তবে এই প্রচেষ্টা চীনের প্রকৃত প্রভাব ও ইচ্ছাশক্তির সীমা কতটা, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সীমাবদ্ধতা, চীনের দিকে নজর

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত পারস্য উপসাগরের দেশগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আঘাত করলেও এর প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে।

আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই তারা চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং সব পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে সংঘাত বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

চীনের জন্য এই সংকট একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ চীন উপসাগরীয় দেশগুলোর অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি।

উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রত্যাশা, বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করছে, চীন ইরানকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা এটাও জানে, চীন সাধারণত ধীরে ও সতর্কভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।

একটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, চীন আরও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং সহযোগিতার আগ্রহ দেখাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে বড় শক্তিগুলোর হিসাব-নিকাশ পুরো পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। তাই বেইজিং প্রকাশ্যে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পক্ষ নিতে চাইছে না।

অর্থনৈতিক প্রভাব আছে, কিন্তু সামরিক ভূমিকা সীমিত

চীন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় দেশ—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক শক্তিশালী করেছে।

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত চীন-উপসাগরীয় সম্মেলনের পর এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এমন চীনা কৌশলগত প্রভাব কেনা তাদের জন্য কঠিন।

The Illusion of Control: Miscalculation and the Road to War with Iran -  Open Canada

সৌদি-ইরান সম্পর্ক পুনর্গঠনের পরীক্ষা

চীন ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক কূটনৈতিক সমঝোতা করিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই কূটনৈতিক সাফল্য বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

চীন পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনে উৎসাহ দিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া চীন ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

চীনের স্বার্থ রক্ষা বনাম আঞ্চলিক শান্তি

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন পর্যন্ত মূলত নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার মধ্যেই সীমিত রয়েছে। চীনা সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা গেলেও পুরো অঞ্চলে হামলা বন্ধে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বেইজিং।

ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন দীর্ঘদিন ধরে কম দামে দেশটির তেল কিনে এসেছে। পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা খাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামরিক সহায়তার অভিযোগ চীন বারবার অস্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চীনের অবস্থান

চীন জানিয়েছে, তারা সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথে যেতে প্রস্তুত নয়। বেইজিং মনে করে, সংকটের সমাধান কেবল কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীনের কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সামরিক দায়িত্ব মধ্যপ্রাচ্যে নেই। তাই বিশ্লেষকদের মতে, চীন বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেই নিজের প্রভাব বাড়াতে চায়।

বর্তমান সংকট তাই শুধু ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা কতটা কার্যকর হতে পারে—সেই প্রশ্নেরও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।