০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে গোপনে ভিডিও ধারণের ভয় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বিদেশি যোদ্ধারা, সামনে ভয়াবহ মৃত্যুর গল্প ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবা, স্বস্তি মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ‘নেতিবাচক শক্তি’ আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে আবারও ট্রাম্প, স্কটল্যান্ড নিয়ে এখনই কথা নয় চীনের প্রতিরক্ষা ফোরামে নিরাপত্তার নতুন বার্তা, নজরে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান আফ্রিকার সামনে সুযোগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দৌড়ে কি বদলাবে মহাদেশটির ভাগ্য?

আফ্রিকার সামনে সুযোগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দৌড়ে কি বদলাবে মহাদেশটির ভাগ্য?

বিশ্ব অর্থনীতি এখন এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সঞ্চয় ব্যবস্থা, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে এসব খনিজের প্রয়োজন বাড়ছে। আর এই চাহিদার কারণে আফ্রিকার জন্য সামনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ।

আফ্রিকা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের একটি বড় ভাণ্ডার। মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে তামা, কোবাল্ট, লিথিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, গ্রাফাইটসহ এমন অনেক খনিজ রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতের শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো আফ্রিকার খনিজ সম্পদের দিকে নতুন করে নজর দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার অনেক দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানি করলেও সেই সম্পদের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয়ভাবে বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি। কাঁচামাল বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির বড় অংশ হয়েছে অন্য দেশে। এতে সম্পদের মালিক হয়েও আফ্রিকার বহু দেশ তুলনামূলক কম অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।

Can Africa seize its moment in the race for critical minerals? | The Daily  Star

এখন পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে। এর ফলে আফ্রিকার দেশগুলো চাইলে শুধু খনিজ উত্তোলন ও রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দেশেই খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তুলতে পারে।

বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি শিল্পের প্রসারের সঙ্গে লিথিয়াম, কোবাল্ট, গ্রাফাইট ও নিকেলের মতো খনিজের গুরুত্ব বেড়েছে। একইভাবে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে তামা ও অন্যান্য ধাতুর চাহিদাও বাড়ছে। ফলে এসব সম্পদের মালিক আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো সহজ নয়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোর ঘাটতি, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব কারণে খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ এখনো তার পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, বিদেশি বিনিয়োগ থেকে আফ্রিকার দেশগুলো আসলে কতটা লাভ পাবে। যদি বিদেশি কোম্পানিগুলো শুধু খনিজ উত্তোলন করে কাঁচামাল নিয়ে যায়, তাহলে পুরোনো কাঠামোর খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। কিন্তু স্থানীয় শিল্প, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আফ্রিকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Africa's Critical Minerals: Key to Global Battery Race

এ কারণে আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু বেশি খনিজ উত্তোলন নয়; বরং খনিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি শিল্পভিত্তি তৈরি করা। স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন বাড়াতে পারলে একই খনিজ থেকে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে।

বিশ্ব যখন চীননির্ভর সরবরাহব্যবস্থা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প উৎস খুঁজছে, তখন আফ্রিকা সেই পরিবর্তনের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে আফ্রিকার দেশগুলো নিজেদের সম্পদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং কাঁচামাল রপ্তানির বদলে স্থানীয় শিল্প ও মূল্য সংযোজনকে কতটা গুরুত্ব দেয় তার ওপর।

অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক দৌড় আফ্রিকার জন্য শুধু খনিজ বিক্রির নতুন বাজার নয়; এটি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন সুযোগও হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আফ্রিকা এই ঐতিহাসিক সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের শক্তিতে পরিণত করতে পারে কি না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী

আফ্রিকার সামনে সুযোগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দৌড়ে কি বদলাবে মহাদেশটির ভাগ্য?

১২:৪০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতি এখন এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সঞ্চয় ব্যবস্থা, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে এসব খনিজের প্রয়োজন বাড়ছে। আর এই চাহিদার কারণে আফ্রিকার জন্য সামনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ।

আফ্রিকা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের একটি বড় ভাণ্ডার। মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে তামা, কোবাল্ট, লিথিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, গ্রাফাইটসহ এমন অনেক খনিজ রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতের শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো আফ্রিকার খনিজ সম্পদের দিকে নতুন করে নজর দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার অনেক দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানি করলেও সেই সম্পদের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয়ভাবে বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি। কাঁচামাল বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির বড় অংশ হয়েছে অন্য দেশে। এতে সম্পদের মালিক হয়েও আফ্রিকার বহু দেশ তুলনামূলক কম অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।

Can Africa seize its moment in the race for critical minerals? | The Daily  Star

এখন পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে। এর ফলে আফ্রিকার দেশগুলো চাইলে শুধু খনিজ উত্তোলন ও রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দেশেই খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তুলতে পারে।

বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি শিল্পের প্রসারের সঙ্গে লিথিয়াম, কোবাল্ট, গ্রাফাইট ও নিকেলের মতো খনিজের গুরুত্ব বেড়েছে। একইভাবে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে তামা ও অন্যান্য ধাতুর চাহিদাও বাড়ছে। ফলে এসব সম্পদের মালিক আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো সহজ নয়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোর ঘাটতি, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব কারণে খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ এখনো তার পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, বিদেশি বিনিয়োগ থেকে আফ্রিকার দেশগুলো আসলে কতটা লাভ পাবে। যদি বিদেশি কোম্পানিগুলো শুধু খনিজ উত্তোলন করে কাঁচামাল নিয়ে যায়, তাহলে পুরোনো কাঠামোর খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। কিন্তু স্থানীয় শিল্প, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আফ্রিকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Africa's Critical Minerals: Key to Global Battery Race

এ কারণে আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু বেশি খনিজ উত্তোলন নয়; বরং খনিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি শিল্পভিত্তি তৈরি করা। স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন বাড়াতে পারলে একই খনিজ থেকে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে।

বিশ্ব যখন চীননির্ভর সরবরাহব্যবস্থা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প উৎস খুঁজছে, তখন আফ্রিকা সেই পরিবর্তনের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে আফ্রিকার দেশগুলো নিজেদের সম্পদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং কাঁচামাল রপ্তানির বদলে স্থানীয় শিল্প ও মূল্য সংযোজনকে কতটা গুরুত্ব দেয় তার ওপর।

অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক দৌড় আফ্রিকার জন্য শুধু খনিজ বিক্রির নতুন বাজার নয়; এটি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন সুযোগও হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আফ্রিকা এই ঐতিহাসিক সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের শক্তিতে পরিণত করতে পারে কি না।