রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে লড়তে গিয়ে বিদেশি নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশ ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মরদেহ, তীব্র গোলাবর্ষণ এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব নিয়ে তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা।
বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের নাগরিককে নানা ধরনের প্রলোভন, চাকরির প্রতিশ্রুতি বা অর্থনৈতিক সুবিধার কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের কেউ কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছেন।
এ ধরনের বিদেশি নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, তিনি এত বেশি মরদেহ দেখেছিলেন যে প্রথমে সেগুলোকে পুতুল বা মানেকুইন মনে হয়েছিল। পরে বুঝতে পারেন, সেগুলো আসলে নিহত সেনাদের মরদেহ।
তার বর্ণনায়, যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর পর বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে হয়েছিল। প্রচণ্ড লড়াই, চারপাশে ধ্বংসস্তূপ এবং একের পর এক হতাহতের ঘটনা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়।
বিদেশি যোদ্ধাদের অনেকেরই সামরিক অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ছাড়াই তাদের সামনের সারিতে পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়া বিদেশিদের মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের নাগরিকদের থাকার তথ্য বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। কেউ অর্থের আশায়, কেউ চাকরির প্রলোভনে আবার কেউ রাশিয়ায় বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার মতো সুবিধার আশায় এই নিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে তাদের অনেকেই বুঝতে পারেন, প্রতিশ্রুত সুবিধার আড়ালে রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব। বিশেষ করে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তীব্র লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা সেনাদের মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বিদেশি নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো—তাদের কতটা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং কোন ধরনের দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি বিপজ্জনক এলাকায় পাঠানো হলে হতাহতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
একই সঙ্গে এসব নিয়োগ নিয়ে মানবপাচার, প্রতারণা ও জোরপূর্বক সামরিক অংশগ্রহণের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার জনবল সংকট মোকাবিলায় বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই নিয়োগের বিনিময়ে কতজন বিদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন বা গুরুতর আহত হচ্ছেন, তার পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
বিদেশি যোদ্ধাদের এসব অভিজ্ঞতা যুদ্ধের আরেকটি অন্ধকার দিক সামনে নিয়ে এসেছে। অর্থ, চাকরি বা ভবিষ্যৎ সুবিধার আশায় যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া অনেক মানুষের জন্য শেষ পর্যন্ত তা পরিণত হচ্ছে জীবন-মৃত্যুর ভয়াবহ লড়াইয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 














