রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ রোববার অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন শুক্রবার জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহকারী জ্বালানি বহনকারী ট্রাকে হামলা চালিয়েছে। এতে দুই রুশ সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
লিখাচেভের দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী শুক্রবার জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলো লক্ষ্য করে ‘সমন্বিত হামলা’ চালায়। হামলাগুলো কেন্দ্রটির সীমানার খুব কাছাকাছি আঘাত হানে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ও আহত রুশ সেনারা কেন্দ্রটিতে বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছিলেন।
জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখানে ছয়টি চুল্লি রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুদ্ধের শুরুর দিকেই রুশ বাহিনী কেন্দ্রটি দখলে নেয়। এরপর থেকে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন নিয়মিত পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। উভয় পক্ষই দাবি করে, প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ড কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে এবং পারমাণবিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
কেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য ডিজেল জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেন্দ্রটির দুটি বহিরাগত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে চুল্লিতে থাকা পারমাণবিক জ্বালানি ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা চালু রাখতে হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এই দুটি বহিরাগত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ ছিল।
তবে কেন্দ্রটি বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না। ইউক্রেন রাশিয়াকে কেন্দ্রটি ছেড়ে দিয়ে এর পরিচালনার দায়িত্ব কিয়েভের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। মস্কো সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জাপোরিঝঝিয়া কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে একটি পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন রেখেছে। ইউক্রেনের আরও তিনটি কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও সংস্থাটির পর্যবেক্ষক রয়েছে। কেন্দ্রটিকে ঘিরে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আইএইএ একাধিকবার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।
গত মাসেও কেন্দ্রটির বহিরাগত বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত ও পুনরুদ্ধারের জন্য আইএইএ স্থানীয় একটি যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিল।
তবে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 














