ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী একটি জাহাজ উল্টে যাওয়ার পর এখনো ১২৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ৬২২ জন উদ্ধারকর্মী এবং প্রায় ১২টি জাহাজ নিয়ে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছয়জনেই রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ভারগো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি রোববার ভোরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিখোঁজ হয়। জাহাজটিতে মোট ২৪৩ জন মানুষ ছিলেন। এখন পর্যন্ত ১০৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জাহাজটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রাপথে জাভা সাগরে প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
বানজারমাসিন উদ্ধার সংস্থার প্রধান ই পুতু সুদায়ানা রয়টার্সকে বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে সোমবার ভোর থেকেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজে ৬২২ জন কর্মী এবং প্রায় ১২টি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি জানান, সোমবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছয়জনের বেশি হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু এবং ১০৮ জনের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নিখোঁজ ১২৯ জনের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
উদ্ধার সংস্থার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বড় একটি লাল-কালো জাহাজটি উত্তাল নীল পানিতে কাত হয়ে উল্টে আছে এবং আংশিকভাবে পানিতে ডুবে গেছে। জাহাজটির লাল রঙের নিচের অংশ পানির ওপরে দেখা যাচ্ছিল। এর আশপাশে যাত্রী বহনকারী দুটি ছোট নৌকাও ভাসতে দেখা যায়।
জাতীয় উদ্ধার সংস্থার আরেক কর্মকর্তা এডি প্রাকোসো রোববার জানিয়েছিলেন, জাহাজটির ডান পাশের দিকে প্রবল ঢেউ আঘাত করার পর সেটি একদিকে মারাত্মকভাবে কাত হয়ে পড়ে। পরে জাহাজটি উল্টে যায়।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, একটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিকে উল্টে থাকতে দেখতে পায়। তবে ঠিক কী কারণে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন।

১৭ হাজারের মতো দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ফেরি ও নৌযান। আকাশপথের তুলনায় সমুদ্রপথে যাতায়াত তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য হওয়ায় দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজ ব্যবহার করেন। তবে দেশটিতে নৌযান দুর্ঘটনার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে।
গত মাসেও ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় শত শত যাত্রী বহনকারী দুটি ফেরিতে আগুন লাগার পৃথক ঘটনা ঘটে। মাদুরা দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লাগার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আর পর্যটন দ্বীপ বালি থেকে লম্বক যাওয়ার পথে আরেকটি ফেরিতে আগুন লাগার ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়।
নতুন এই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। উত্তাল সমুদ্র ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 














