সুকি ওয়াটারহাউসের সাজে বরাবরই দেখা যায় পুরোনো দিনের রোমান্টিক আবহ, একটু এলোমেলো চুল আর সত্তরের দশকের রক তারকাদের অনুপ্রেরণা। এবার সেই পরিচিত সাজে নতুন মাত্রা যোগ করলেন এই ব্রিটিশ গায়িকা ও অভিনেত্রী। চুলে জুড়ে নিলেন সূক্ষ্ম রুপালি ঝিলিক, সঙ্গে মাথায় পরলেন ঝকঝকে একটি টায়রা। ফলে তার পুরো উপস্থিতিতেই ফুটে উঠল এক ধরনের আধুনিক ডিস্কো আবহ।
সাম্প্রতিক সময়ে দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি ফ্যালন-এ নিজের গান ‘উইয়ার্ডো’ পরিবেশন করেন ওয়াটারহাউস। সেই অনুষ্ঠানের জন্য তার স্বাভাবিক ঢেউখেলানো সোনালি চুলে যোগ করা হয় চিকন রুপালি টিনসেল। চুল ছিল সোজা, সামান্য লম্বা এবং বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ‘ক্ল্যাভি-কাট’-এর কাছাকাছি। কপালের ওপর এসে পড়া ছোট ছোট অসমান চুলের গোছা বা চপ্পি ব্যাংসও ছিল আগের মতোই।
চুলের লম্বা স্তরগুলোর মধ্যে খুব যত্ন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ধাতব ঝিলমিলে সুতো। বিশেষ করে মাথার পেছনের ওপরের অংশে এর ঘনত্ব ছিল বেশি। ফলে দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল, চুলের চারপাশে আলোর একটি উল্টো বলয় তৈরি হয়েছে। তার ওপর বসানো ঝলমলে টায়রাটি পুরো সাজে যোগ করেছে রাজকীয়তার ছোঁয়া।
চুলের এই ঝিলমিলে সাজের সঙ্গে পোশাকেও ছিল একই ধরনের কল্পনাময় আবহ। ওয়াটারহাউস পরেছিলেন হালকা নীল রঙের ছোট কার্ডিগান এবং ক্রিম রঙের উঁচু কোমরের ছোট প্যান্ট। গয়নায় ছিল টিফানি অ্যান্ড কোম্পানির অলংকার, যা তার সাজে আরও কিছুটা ঝলক যোগ করে। সব মিলিয়ে তার উপস্থিতিকে বলা যায় আধুনিক সময়ের এক ‘ডিস্কো ডললি’ রূপ।
ওয়াটারহাউসের এই সাজের বিশেষ আকর্ষণ হলো এর সূক্ষ্মতা। চুলে থাকা রুপালি টিনসেল এতটাই হালকা করে ব্যবহার করা হয়েছে যে প্রথম দেখায় তা চোখে নাও পড়তে পারে। সোনালি চুলের ভেতর থেকে মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসা ছোট ছোট ঝিলিকই এই সাজের মূল সৌন্দর্য।
চুলে টিনসেল অবশ্য নতুন কোনো প্রবণতা নয়। এর জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে বেড়েছিল ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে, যখন চুলে এক্সটেনশন ব্যবহারের চল দ্রুত বাড়ছিল। সে সময় রঙিন চোখের সাজ, ঝকঝকে পাথরের নকশা এবং আলো প্রতিফলিত করে এমন নানা ধরনের সৌন্দর্যসামগ্রীর সঙ্গে টিনসেলও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তবে চুলে ঝিলমিল যোগ করার ধারণার ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে ফ্ল্যাপার ও বার্লেস্ক পরিবেশনার শিল্পীদের সাজে দেখা যেত স্ফটিক-খচিত মাথার অলংকার এবং সাজানো পরচুলা। পরে ডিস্কো যুগে চুল ও পোশাকে ঝলমলে উপাদানের ব্যবহার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চেরের মতো তারকারাও সে সময় ঝিলমিল চুলের মাধ্যমে আলাদা ধরনের মঞ্চসজ্জা তৈরি করেছিলেন।
অর্থাৎ চুলে আলো ছড়ানো এই প্রবণতা কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর রূপ বদলেছে, আবার নতুন প্রজন্মের তারকাদের হাত ধরে ফিরে এসেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও চুলের ছোট ছোট ধাতব সুতো আবার জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিচ্ছে। ২০২৪ সালের অ্যানোরা সিনেমায় মিকি ম্যাডিসনের চরিত্র অ্যানির গোলাপি ও বেগুনি টিনসেল-সজ্জিত চুল আলোচনায় আসে। একইভাবে জারা লারসনও তার মিডনাইট সান পর্বে ঝলমলে ও তুলনামূলক বেশি চোখে পড়ার মতো চুলের সাজকে নিজের চেহারার অংশ করে তুলেছেন।
ওয়াটারহাউসের পছন্দ অবশ্য অনেকটাই সংযত। তার চুলে টিনসেল এত কম ও সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যে পুরো চুল ঝলমলে না হয়ে বরং নড়াচড়ার সঙ্গে মাঝে মাঝে আলো ধরে। এতে তার পরিচিত এলোমেলো সোনালি চুলের স্বাভাবিকতাও বজায় থাকে।
সুকি ওয়াটারহাউস তার চুলের সাজে প্রায়ই হেয়ারস্টাইলিস্ট জ্যাকব রোজেনবার্গের সঙ্গে কাজ করেন। তার তৈরি করা ওয়াটারহাউসের স্বাভাবিক, খানিকটা এলোমেলো অথচ আকর্ষণীয় সোনালি চুলের সাজই গায়িকার পরিচিত চেহারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ওয়াটারহাউসের অ্যালবামের নাম ছিল মেমোয়ার অব আ স্পার্কলমাফিন। এবার তার মঞ্চসজ্জাতেও সেই ঝিলমিলে কল্পনার ছোঁয়া যেন আরও একবার ফিরে এল—তবে এবার তা অ্যালবামের নামের মতো জোরালো নয়, বরং চুলের ভেতর লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট রুপালি আলোর ঝলক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















