১০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি চুলে রুপালি ঝিলিক, মুকুটে রাজকীয় ছোঁয়া—সুকি ওয়াটারহাউসের নতুন ‘ডিস্কো’ লুক ৫৫ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার, ৫৬-তে আকাশে উড়ছেন ক্রেইগ এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দ্বিতীয় পর্বশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষক দিবসে কচি-কাঁচা একাডেমিতে অভিভাবক সভা নতুন মুখ, নতুন অর্থ: মিয়ানমারের বদলে যাওয়া সম্পদের গল্প উজবেকিস্তানে মিলল প্রাচীন অগ্নিবেদির সন্ধান, জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মা হলেই কেন এত বিচার? ‘খারাপ মা’ হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি-সম্পর্কের অভিযোগে আটক ২৩ জনের ১১ জন মুক্ত, ১২ জন আদালতে ভারতে ২০২৭ সালেই আসছে প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। নির্ধারিত ১৭টি লক্ষ্যের বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি উঠেছে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক জনসম্মিলনে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে দেশের সব মানুষের জন্য কার্যকর ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের কারিতাস কার্যালয়ে ‘রিজিওনাল পিপলস অ্যাসেম্বলি ২০২৬’ শীর্ষক এ জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক কার্যক্রম ও বৈষম্য অবসানে জনগণের উদ্যোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং এসডিজি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক কর্মসপ্তাহ উপলক্ষে এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরডিএস ও আইএসডিই বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

এসডিজি বাস্তবায়নে ধীরগতি

জনসম্মিলনে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অঙ্গীকার করেছিল। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গসমতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই নগর ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তবে অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋণের চাপ, সংঘাত ও বৈষম্যসহ বিভিন্ন সংকটে এসডিজির অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে হচ্ছে না। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত প্রবণতাগত তথ্য পাওয়া ১৩৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৩৬ শতাংশ অনুকূল বা মাঝারি অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে। সামগ্রিক অগ্রগতি এখনো ধীর ও অসম।

আগামী চার বছর গুরুত্বপূর্ণ

বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিদ্যমান অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সেই ঘাটতি পূরণে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় আনতে হবে।

তাঁদের মতে, এসডিজি বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন।

স্থানীয় পর্যায়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার তাগিদ

জনসম্মিলনে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসডিজির সূচকভিত্তিক অগ্রগতি প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে উন্নয়নের সুফল কোথায় পৌঁছাচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী এখনো পিছিয়ে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, ‘কাউকে পিছনে না রাখা’ নীতিকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব

বক্তারা বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এসডিজি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

জনসম্মিলনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিইর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। সঞ্চালনা করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের সমন্বয়ক ও এনআরডিএসের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আওয়াল। শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, কলামিস্ট, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

গ্লোবাল গোলস উইক ২০২৬

১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল গোলস উইক ২০২৬ পালিত হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ, জনসচেতনতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে নাগরিক সমাজ, ব্যবসা, শিক্ষাঙ্গন ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি

এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা

০৯:২৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। নির্ধারিত ১৭টি লক্ষ্যের বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি উঠেছে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক জনসম্মিলনে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে দেশের সব মানুষের জন্য কার্যকর ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের কারিতাস কার্যালয়ে ‘রিজিওনাল পিপলস অ্যাসেম্বলি ২০২৬’ শীর্ষক এ জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক কার্যক্রম ও বৈষম্য অবসানে জনগণের উদ্যোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং এসডিজি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক কর্মসপ্তাহ উপলক্ষে এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরডিএস ও আইএসডিই বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

এসডিজি বাস্তবায়নে ধীরগতি

জনসম্মিলনে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অঙ্গীকার করেছিল। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গসমতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই নগর ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তবে অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋণের চাপ, সংঘাত ও বৈষম্যসহ বিভিন্ন সংকটে এসডিজির অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে হচ্ছে না। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত প্রবণতাগত তথ্য পাওয়া ১৩৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৩৬ শতাংশ অনুকূল বা মাঝারি অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে। সামগ্রিক অগ্রগতি এখনো ধীর ও অসম।

আগামী চার বছর গুরুত্বপূর্ণ

বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিদ্যমান অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সেই ঘাটতি পূরণে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় আনতে হবে।

তাঁদের মতে, এসডিজি বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন।

স্থানীয় পর্যায়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার তাগিদ

জনসম্মিলনে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসডিজির সূচকভিত্তিক অগ্রগতি প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে উন্নয়নের সুফল কোথায় পৌঁছাচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী এখনো পিছিয়ে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, ‘কাউকে পিছনে না রাখা’ নীতিকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব

বক্তারা বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এসডিজি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

জনসম্মিলনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিইর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। সঞ্চালনা করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের সমন্বয়ক ও এনআরডিএসের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আওয়াল। শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, কলামিস্ট, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

গ্লোবাল গোলস উইক ২০২৬

১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল গোলস উইক ২০২৬ পালিত হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ, জনসচেতনতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে নাগরিক সমাজ, ব্যবসা, শিক্ষাঙ্গন ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।