বাস ভাঙচুর, চালক-স্টাফদের ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে টার্মিনালে এসে আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী।
বাস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাগামী সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে সকালে টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর বাস ভাঙচুর
জানা গেছে, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি অটোরিকশার ওপর উল্টে পড়ে। এতে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয় কিছু মানুষ রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন চলাকালে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তার দাবিতে বাস বন্ধ
বাস চালকদের অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন বাসে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি বাসের স্টাফদের মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় চালক ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
বাস ভাঙচুর ও স্টাফদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জামালপুর বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি।
বাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, লোকজন তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করছেন এবং চালকদের মারধর করছেন। কোনো চালক ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে
বেসরকারি চাকরিজীবী আলিফ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় ঢাকায় হেড অফিসে জেলার লোকজনকে নিয়ে তার একটি বৈঠক রয়েছে। সকালে বাসে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে তিনি জানতে পারেন বাস চলাচল বন্ধ। ট্রেনও না থাকায় বিকল্প হিসেবে মাইক্রোবাসে যেতে গেলে ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। অথচ বাসে তার ভাড়া লাগত ৫০০ টাকা। তার মতো আরও অনেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, বাস চালকদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলবে এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে রাজীব পরিবহনের বাসের বেপরোয়া গতির কারণে জামালপুর-ময়মনসিংহ রুটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জামালপুর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















