বয়স আশির ঘর পেরিয়েছে, কিন্তু মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহে যেন বয়সের কোনো ছাপ নেই। বরং অন্যকে সাহায্য করাই তাদের মনে এনে দিয়েছে নতুন উদ্যম ও তারুণ্যের অনুভূতি।
স্ত্রীকে হারানোর পর স্বেচ্ছাসেবায় ৮৬ বছরের রিচার্ড
রিচার্ড ওং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন ২০২৩ সালে। একাধিকবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর তাঁর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জীবনের কঠিন সময় কাটিয়ে তিনি অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেন।
৮৬ বছর বয়সেও সপ্তাহে তিন দিন তিনি প্রবীণদের বাড়ির ছোটখাটো মেরামতের কাজ করে দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও সহযোগিতা করেন। তাঁর কাছে বয়স কোনো বাধা নয়।
হাসতে হাসতে রিচার্ড বলেন, বয়স আসলে শুধু একটি সংখ্যা। তিনি অনেক সময় যাদের সাহায্য করতে যান, তাদের বলেন তাঁর বয়স ৬৮ বছর। এতে তারা স্বস্তি পান, কারণ তখন মনে করেন তিনি তাদের চেয়ে বয়সে ছোট।
নিজের দক্ষতা দিয়ে মানুষের পাশে লোকে
একই ধরনের মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন ৮৩ বছর বয়সী লোকে ওয়ান হিং। একসময় তিনি চুল কাটার সেলুনে কাজ করতেন। এখন সেই দক্ষতাকেই মানুষের উপকারে কাজে লাগাচ্ছেন।
তিনি স্বেচ্ছায় রেন সি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিনা মূল্যে চুল কেটে দেন। বয়স বাড়লেও নিজের শেখা দক্ষতা যে অন্যের কাজে লাগানো যায়, সেটিই তাকে এই কাজের প্রতি আগ্রহী করে রেখেছে।
লোকে বলেন, তাঁর যদি কোনো দক্ষতা থাকে, সেটি অন্যকে সাহায্য করার কাজে ব্যবহার করতে পারাটা আনন্দের।
সেবার মধ্যেই তারুণ্যের অনুভূতি
রিচার্ড ও লোকে—দুজনের জীবনই দেখিয়ে দেয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বয়স কোনো সীমা নয়। অবসরজীবনেও নিজের সময়, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অন্যের কাজে লাগানো যায়।
তাদের কাছে স্বেচ্ছাসেবা শুধু অন্যকে সহযোগিতা করা নয়; এটি নিজের জীবনেও নতুন অর্থ, আনন্দ ও প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনার একটি পথ।
আশির কোঠায় দাঁড়িয়েও তাই তারা যেন একটি সহজ বার্তাই দিচ্ছেন—মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে হৃদয়ের তারুণ্য কখনো হারিয়ে যায় না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















