১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ গোপন তহবিলের নামে জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই নতুন বিশ্বব্যবস্থা আসছে, কিন্তু আমরা কি তার জন্য প্রস্তুত? ঢাকায় কমছে দুপুরের খাবার, বাড়ছে খরচের চাপ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে ট্যাক্স ছাড়, স্বস্তি ছোট ব্যবসায়ীদের সিলেট সীমান্তে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বিএসইসির নতুন খসড়া: আইপিও ছাড়াই সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ চুয়াডাঙ্গায় পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় দম্পতিসহ ৪ জনের মৃত্যু চলন্ত ট্রেনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ক্যান্টিনবয় গ্রেপ্তার

বিএসইসির নতুন খসড়া: আইপিও ছাড়াই সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যোগ্য কোম্পানিগুলোকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে একটি খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে কমিশন।

মঙ্গলবার বিএসইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১,০২৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

আইপিও ছাড়াই তালিকাভুক্তির সুযোগ

‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, যোগ্য কোম্পানিগুলো নতুন মূলধন সংগ্রহের জন্য আইপিওতে না গিয়ে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাজারে ছাড়তে পারবে।

অর্থাৎ, সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে না। বরং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমেই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

যেসব কোম্পানি যোগ্য হবে

খসড়া বিধিমালায় সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য কয়েক ধরনের কোম্পানিকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা সরকারের হাতে থাকা কোম্পানি। এছাড়া যেসব কোম্পানিতে সরকার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশের মালিক, তারাও এই সুযোগের আওতায় আসতে পারে।

বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিকেও যোগ্যতার তালিকায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বা অবকাঠামো খাতের কোম্পানি, যাদের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা, তারাও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পেতে পারে।

এ ছাড়া কমপক্ষে তিন বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি এবং বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা এমন কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

স্টক এক্সচেঞ্জের শর্তও মানতে হবে

তবে শুধু নির্ধারিত শ্রেণির কোম্পানি হলেই সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন মিলবে না। সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও কেন্দ্রীয় কাউন্টারপার্টি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অতিরিক্ত শর্তও পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত কমিশনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, খসড়া বিধিমালাটি শিগগিরই সংবাদপত্র এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে।

সরাসরি তালিকাভুক্তি

বিএসইসির খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে যোগ্য কোম্পানিগুলোর সরাসরি শেয়ারবাজারে প্রবেশের পথ তৈরি হবে। আইপিও ছাড়াই তালিকাভুক্তির এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নির্ধারিত যোগ্যতার কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে আসার একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালু হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম?

বিএসইসির নতুন খসড়া: আইপিও ছাড়াই সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ

০৯:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যোগ্য কোম্পানিগুলোকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে একটি খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে কমিশন।

মঙ্গলবার বিএসইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১,০২৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

আইপিও ছাড়াই তালিকাভুক্তির সুযোগ

‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, যোগ্য কোম্পানিগুলো নতুন মূলধন সংগ্রহের জন্য আইপিওতে না গিয়ে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাজারে ছাড়তে পারবে।

অর্থাৎ, সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে না। বরং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমেই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

যেসব কোম্পানি যোগ্য হবে

খসড়া বিধিমালায় সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য কয়েক ধরনের কোম্পানিকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা সরকারের হাতে থাকা কোম্পানি। এছাড়া যেসব কোম্পানিতে সরকার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশের মালিক, তারাও এই সুযোগের আওতায় আসতে পারে।

বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিকেও যোগ্যতার তালিকায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বা অবকাঠামো খাতের কোম্পানি, যাদের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা, তারাও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পেতে পারে।

এ ছাড়া কমপক্ষে তিন বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি এবং বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা এমন কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

স্টক এক্সচেঞ্জের শর্তও মানতে হবে

তবে শুধু নির্ধারিত শ্রেণির কোম্পানি হলেই সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন মিলবে না। সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও কেন্দ্রীয় কাউন্টারপার্টি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অতিরিক্ত শর্তও পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত কমিশনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, খসড়া বিধিমালাটি শিগগিরই সংবাদপত্র এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে।

সরাসরি তালিকাভুক্তি

বিএসইসির খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে যোগ্য কোম্পানিগুলোর সরাসরি শেয়ারবাজারে প্রবেশের পথ তৈরি হবে। আইপিও ছাড়াই তালিকাভুক্তির এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নির্ধারিত যোগ্যতার কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে আসার একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালু হবে।