১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিলাসবহুল শরীরচর্চার বাজারে বড় বাজি ধরছে দিপতিক রে ডালিওর দেউলিয়া হওয়ার পথে যাত্রা, বাবার কাছ থেকে ৪ হাজার ডলার ঋণ এবং কোটিপতি হওয়ার দুই শিক্ষা দুই মাস পর আবার বিটকয়েন কিনল সেলরের স্ট্র্যাটেজি, ৩৭ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সুন্দরবনে ফেরার প্রস্তুতি, জেলে পল্লিতে স্বস্তির সঙ্গে ডাকাতের চাঁদাবাজির আতঙ্ক ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও কেন দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারেন, জানুন ঘুমের সঠিক সময়ের গুরুত্ব ৬১ বছর পর রহস্যের জট খুলল, জঙ্গলে পাওয়া দেহটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ নৌসেনার পর্তুগালের ‘হ্যাম্পটনস’ কমপোর্তা: সমুদ্র, বন আর বিলাসিতার এক গোপন স্বর্গ শরতের আগমনী বার্তা সেলেনা গোমেজ ও বেনি ব্লাঙ্কোর ভেনিস ভ্রমণে ইউএস ওপেন শুরুর আগেই নিউইয়র্কে তারকাদের ঝলমলে পার্টির আসর শৈশবের বার্বি থেকে ভবিষ্যতের মানবাকৃতি—ইউন আহনের কল্পনায় বদলে গেল চেনা পুতুলের জগৎ

কৃষ্ণসাগরে শস্য রপ্তানি ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা তুরস্কের, যোগাযোগ রাশিয়া-ইউক্রেনের সঙ্গে

যুদ্ধের মধ্যেও কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য নিরাপদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তুরস্ক একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং পরিকল্পনাটি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ করছে।

সোমবার ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে তুরস্ক আবারও আগের মতো একটি শস্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, দুই পক্ষের সঙ্গে পরিকল্পনাটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেও শস্য রপ্তানির উদ্যোগ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয় এবং দরিদ্র ও খাদ্যনির্ভর দেশগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগের মধ্যে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগ নামে একটি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। এর আওতায় যুদ্ধ চললেও ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে নিরাপদে শস্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়।

Turkey wants to restore the grain corridor in the Black Sea: Ankara has  prepared a new plan for Ukraine and Russia | УНН

চুক্তিটির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন ইউক্রেনীয় শস্য কৃষ্ণসাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই উদ্যোগ।

২০২৩ সালে চুক্তি থেকে সরে যায় রাশিয়া

তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। মস্কোর অভিযোগ ছিল, চুক্তিতে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলেও রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর বাধা রয়ে গেছে।

এর পর থেকেই কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিরাপদে ইউক্রেনীয় শস্য পরিবহনের আগের ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। তুরস্ক অবশ্য বারবার এই উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

Turkey says it has Black Sea grain plan and is in contact with Russia,  Ukraine – EUalive

নতুন উদ্যোগে তুরস্কের ভূমিকা

নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে তুরস্ক মূলত এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে, যাতে যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেও কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহন নিরাপদ রাখা যায় এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সম্মতি পাওয়া সম্ভব হয়।

হাকান ফিদানের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, তুরস্ক এখনই কোনো নতুন চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করছে না। বরং দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে আগের শস্য চুক্তির মতো একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি পুনরায় চালু হলে তা শুধু ইউক্রেনের কৃষি ও রপ্তানি খাতের জন্য নয়, বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হলে এই ধরনের একটি নিরাপদ রপ্তানি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিলাসবহুল শরীরচর্চার বাজারে বড় বাজি ধরছে দিপতিক

কৃষ্ণসাগরে শস্য রপ্তানি ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা তুরস্কের, যোগাযোগ রাশিয়া-ইউক্রেনের সঙ্গে

১১:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের মধ্যেও কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য নিরাপদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তুরস্ক একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং পরিকল্পনাটি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ করছে।

সোমবার ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে তুরস্ক আবারও আগের মতো একটি শস্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, দুই পক্ষের সঙ্গে পরিকল্পনাটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেও শস্য রপ্তানির উদ্যোগ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয় এবং দরিদ্র ও খাদ্যনির্ভর দেশগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগের মধ্যে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগ নামে একটি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। এর আওতায় যুদ্ধ চললেও ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে নিরাপদে শস্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়।

Turkey wants to restore the grain corridor in the Black Sea: Ankara has  prepared a new plan for Ukraine and Russia | УНН

চুক্তিটির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন ইউক্রেনীয় শস্য কৃষ্ণসাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই উদ্যোগ।

২০২৩ সালে চুক্তি থেকে সরে যায় রাশিয়া

তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। মস্কোর অভিযোগ ছিল, চুক্তিতে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলেও রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর বাধা রয়ে গেছে।

এর পর থেকেই কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিরাপদে ইউক্রেনীয় শস্য পরিবহনের আগের ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। তুরস্ক অবশ্য বারবার এই উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

Turkey says it has Black Sea grain plan and is in contact with Russia,  Ukraine – EUalive

নতুন উদ্যোগে তুরস্কের ভূমিকা

নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে তুরস্ক মূলত এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে, যাতে যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেও কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহন নিরাপদ রাখা যায় এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সম্মতি পাওয়া সম্ভব হয়।

হাকান ফিদানের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, তুরস্ক এখনই কোনো নতুন চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করছে না। বরং দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে আগের শস্য চুক্তির মতো একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি পুনরায় চালু হলে তা শুধু ইউক্রেনের কৃষি ও রপ্তানি খাতের জন্য নয়, বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হলে এই ধরনের একটি নিরাপদ রপ্তানি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে।