১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাইমস স্কয়ারে পুলিশের গুলিবর্ষণ, জনসাধারণকে এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ জি-২০ বৈঠকে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তনে ইউরোপের তীব্র আপত্তি বিলাসবহুল শরীরচর্চার বাজারে বড় বাজি ধরছে দিপতিক রে ডালিওর দেউলিয়া হওয়ার পথে যাত্রা, বাবার কাছ থেকে ৪ হাজার ডলার ঋণ এবং কোটিপতি হওয়ার দুই শিক্ষা দুই মাস পর আবার বিটকয়েন কিনল সেলরের স্ট্র্যাটেজি, ৩৭ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সুন্দরবনে ফেরার প্রস্তুতি, জেলে পল্লিতে স্বস্তির সঙ্গে ডাকাতের চাঁদাবাজির আতঙ্ক ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও কেন দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারেন, জানুন ঘুমের সঠিক সময়ের গুরুত্ব ৬১ বছর পর রহস্যের জট খুলল, জঙ্গলে পাওয়া দেহটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ নৌসেনার পর্তুগালের ‘হ্যাম্পটনস’ কমপোর্তা: সমুদ্র, বন আর বিলাসিতার এক গোপন স্বর্গ শরতের আগমনী বার্তা সেলেনা গোমেজ ও বেনি ব্লাঙ্কোর ভেনিস ভ্রমণে

ঘর গোছাতে গিয়ে যে ৬ ভুলে আরও বাড়ে অগোছালোভাব

ঘর গোছানো মানেই শুধু জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে রাখা নয়। বরং কোন জিনিস সত্যিই প্রয়োজন, কোনটি ব্যবহার হয় এবং কোনটি শুধু জায়গা দখল করে আছে—সেটি আগে বুঝতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঘর গোছানোর কাজ করা এক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রায় সব বাড়িতেই কিছু সাধারণ ভুল দেখা যায়। এসব ভুলের কারণে ঘর গোছানোর পরও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার এলোমেলো হয়ে যায়।

প্রয়োজনহীন জিনিস না সরিয়েই গোছাতে শুরু করা

অনেকেই ঘর গোছানোর সময় সরাসরি আলমারি, তাক কিংবা ড্রয়ার সাজাতে শুরু করেন। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস রেখে দিলে যত সুন্দর করেই সাজানো হোক, জায়গাটি বেশিদিন গোছানো থাকে না।

তাই প্রথমে একটি নির্দিষ্ট জায়গার সব জিনিস বের করে দেখা ভালো। এরপর যেগুলো সত্যিই প্রয়োজনীয় কিংবা প্রিয়, শুধু সেগুলো আবার জায়গায় রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলতে পারলেই গোছানোর কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

‘কখনো প্রয়োজন হতে পারে’ ভেবে সবকিছু রেখে দেওয়া

Getty Images Tidying can be a daunting task which is perhaps why professional "organisers" have gained popularity in recent years (Credit: Getty Images)

‘পরে কাজে লাগতে পারে’—এই চিন্তা অনেক সময় ঘর অগোছালো হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন অনেক জিনিস আমরা বছরের পর বছর রেখে দিই, অথচ সেগুলো ব্যবহারই করি না।

নিজেকে দুটি প্রশ্ন করা যেতে পারে। গত এক বছরে কি জিনিসটি ব্যবহার করেছি? আর আজ যদি জিনিসটি আমার কাছে না থাকত, তাহলে কি আবার এটি কিনতাম? দুটি প্রশ্নের উত্তরই যদি ‘না’ হয়, তাহলে সেটি দান, পুনর্ব্যবহার কিংবা ফেলে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।

স্মৃতির সঙ্গে জড়িত সবকিছু রেখে দেওয়া

ভ্রমণের স্মারক, পুরোনো চিঠি, ছবি কিংবা ছোটখাটো উপহার অনেকের কাছেই আবেগের বিষয়। ফলে এসব জিনিস ফেলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতিটি বস্তু সংরক্ষণ করার প্রয়োজন নেই।

বিশেষ কোনো ভ্রমণ বা অনুষ্ঠানের একটি-দুটি স্মারক রেখে বাকিগুলো সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে স্মৃতিও থাকবে, আবার ঘরের ওপর অপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাপও তৈরি হবে না।

একসঙ্গে পুরো ঘর গোছানোর চেষ্টা করা

একদিনে পুরো বাড়ি গোছানোর পরিকল্পনা অনেকের কাছেই পরে অসম্ভব মনে হতে পারে। কারণ অগোছালো জিনিস বাছাই করতে সময়ের পাশাপাশি মানসিক শক্তিও প্রয়োজন।

তাই ছোট জায়গা দিয়ে শুরু করাই ভালো। একটি তাক, একটি ড্রয়ার কিংবা ঘরের একটি কোণ বেছে নেওয়া যেতে পারে। এমনকি প্রথমে শুধু একটি ময়লার ব্যাগ নিয়ে ঘুরে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, পুরোনো কাগজ কিংবা ভাঙা খেলনার মতো স্পষ্ট আবর্জনাগুলো সরিয়ে ফেলা যায়।

Denise Crew/Netflix Marie Kondo's approach to tidying has attracted millions of fans around the world (Credit: Denise Crew/Netflix)

ছোট ছোট অংশ শেষ করতে পারলে কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিও কম চাপের মনে হয়।

সঙ্গীর জিনিস গোপনে ফেলে দেওয়া

একজন যদি খুব অল্প জিনিস রাখতে চান আর অন্যজন যদি সবকিছু জমিয়ে রাখতে পছন্দ করেন, তাহলে ঘর গোছানো নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তবে সঙ্গীর অজান্তে তার জিনিস ফেলে দেওয়া কোনো ভালো সমাধান নয়। এতে ঘর কিছুটা ফাঁকা হলেও সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হতে পারে।

বরং প্রত্যেকে আগে নিজের ব্যক্তিগত জায়গা গুছিয়ে নিতে পারেন। এরপর দুজন মিলে ঘরের যৌথ জায়গাগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য, আলোচনা এবং পারস্পরিক সমঝোতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গোছানোর আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বস্তির ঘর

ঘর গোছানোর উদ্দেশ্য শুধু দেখতে সুন্দর একটি বাড়ি তৈরি করা নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে পাওয়া যায় এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি না করে।

তাই একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলার চেয়ে ধীরে ধীরে প্রয়োজনহীন জিনিস বাদ দিয়ে, ব্যবহারযোগ্য জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করাই বেশি কার্যকর।

ঘর গোছানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আগে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমান, তারপর গোছান।

Netflix Marie Kondo's approach to organisation, such as discarding books and placing smaller boxes inside drawers, has been met with horror by some householders (Credit: Netflix)

 

Getty Images Once read most books will sit unused on shelves, or even the floor, for years, yet many of us are reluctant to discard them (Credit: Getty Images)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইমস স্কয়ারে পুলিশের গুলিবর্ষণ, জনসাধারণকে এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ

ঘর গোছাতে গিয়ে যে ৬ ভুলে আরও বাড়ে অগোছালোভাব

১২:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘর গোছানো মানেই শুধু জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে রাখা নয়। বরং কোন জিনিস সত্যিই প্রয়োজন, কোনটি ব্যবহার হয় এবং কোনটি শুধু জায়গা দখল করে আছে—সেটি আগে বুঝতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঘর গোছানোর কাজ করা এক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রায় সব বাড়িতেই কিছু সাধারণ ভুল দেখা যায়। এসব ভুলের কারণে ঘর গোছানোর পরও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার এলোমেলো হয়ে যায়।

প্রয়োজনহীন জিনিস না সরিয়েই গোছাতে শুরু করা

অনেকেই ঘর গোছানোর সময় সরাসরি আলমারি, তাক কিংবা ড্রয়ার সাজাতে শুরু করেন। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস রেখে দিলে যত সুন্দর করেই সাজানো হোক, জায়গাটি বেশিদিন গোছানো থাকে না।

তাই প্রথমে একটি নির্দিষ্ট জায়গার সব জিনিস বের করে দেখা ভালো। এরপর যেগুলো সত্যিই প্রয়োজনীয় কিংবা প্রিয়, শুধু সেগুলো আবার জায়গায় রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলতে পারলেই গোছানোর কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

‘কখনো প্রয়োজন হতে পারে’ ভেবে সবকিছু রেখে দেওয়া

Getty Images Tidying can be a daunting task which is perhaps why professional "organisers" have gained popularity in recent years (Credit: Getty Images)

‘পরে কাজে লাগতে পারে’—এই চিন্তা অনেক সময় ঘর অগোছালো হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন অনেক জিনিস আমরা বছরের পর বছর রেখে দিই, অথচ সেগুলো ব্যবহারই করি না।

নিজেকে দুটি প্রশ্ন করা যেতে পারে। গত এক বছরে কি জিনিসটি ব্যবহার করেছি? আর আজ যদি জিনিসটি আমার কাছে না থাকত, তাহলে কি আবার এটি কিনতাম? দুটি প্রশ্নের উত্তরই যদি ‘না’ হয়, তাহলে সেটি দান, পুনর্ব্যবহার কিংবা ফেলে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।

স্মৃতির সঙ্গে জড়িত সবকিছু রেখে দেওয়া

ভ্রমণের স্মারক, পুরোনো চিঠি, ছবি কিংবা ছোটখাটো উপহার অনেকের কাছেই আবেগের বিষয়। ফলে এসব জিনিস ফেলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতিটি বস্তু সংরক্ষণ করার প্রয়োজন নেই।

বিশেষ কোনো ভ্রমণ বা অনুষ্ঠানের একটি-দুটি স্মারক রেখে বাকিগুলো সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে স্মৃতিও থাকবে, আবার ঘরের ওপর অপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাপও তৈরি হবে না।

একসঙ্গে পুরো ঘর গোছানোর চেষ্টা করা

একদিনে পুরো বাড়ি গোছানোর পরিকল্পনা অনেকের কাছেই পরে অসম্ভব মনে হতে পারে। কারণ অগোছালো জিনিস বাছাই করতে সময়ের পাশাপাশি মানসিক শক্তিও প্রয়োজন।

তাই ছোট জায়গা দিয়ে শুরু করাই ভালো। একটি তাক, একটি ড্রয়ার কিংবা ঘরের একটি কোণ বেছে নেওয়া যেতে পারে। এমনকি প্রথমে শুধু একটি ময়লার ব্যাগ নিয়ে ঘুরে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, পুরোনো কাগজ কিংবা ভাঙা খেলনার মতো স্পষ্ট আবর্জনাগুলো সরিয়ে ফেলা যায়।

Denise Crew/Netflix Marie Kondo's approach to tidying has attracted millions of fans around the world (Credit: Denise Crew/Netflix)

ছোট ছোট অংশ শেষ করতে পারলে কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিও কম চাপের মনে হয়।

সঙ্গীর জিনিস গোপনে ফেলে দেওয়া

একজন যদি খুব অল্প জিনিস রাখতে চান আর অন্যজন যদি সবকিছু জমিয়ে রাখতে পছন্দ করেন, তাহলে ঘর গোছানো নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তবে সঙ্গীর অজান্তে তার জিনিস ফেলে দেওয়া কোনো ভালো সমাধান নয়। এতে ঘর কিছুটা ফাঁকা হলেও সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হতে পারে।

বরং প্রত্যেকে আগে নিজের ব্যক্তিগত জায়গা গুছিয়ে নিতে পারেন। এরপর দুজন মিলে ঘরের যৌথ জায়গাগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য, আলোচনা এবং পারস্পরিক সমঝোতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গোছানোর আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বস্তির ঘর

ঘর গোছানোর উদ্দেশ্য শুধু দেখতে সুন্দর একটি বাড়ি তৈরি করা নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে পাওয়া যায় এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি না করে।

তাই একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলার চেয়ে ধীরে ধীরে প্রয়োজনহীন জিনিস বাদ দিয়ে, ব্যবহারযোগ্য জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করাই বেশি কার্যকর।

ঘর গোছানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আগে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমান, তারপর গোছান।

Netflix Marie Kondo's approach to organisation, such as discarding books and placing smaller boxes inside drawers, has been met with horror by some householders (Credit: Netflix)

 

Getty Images Once read most books will sit unused on shelves, or even the floor, for years, yet many of us are reluctant to discard them (Credit: Getty Images)