পুরুষ মানেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, শক্ত থাকতে হবে, আবেগ প্রকাশ করা যাবে না, সংসারের বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন প্রচলিত ধারণা এখনো সমাজে শক্তভাবে টিকে আছে। বরং সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণ পুরুষদের একটি অংশের মধ্যে পুরুষত্ব ও নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে পুরোনো ধারণাগুলো নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে এক হাজার ৮৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, তরুণ পুরুষদের মধ্যে আবেগ চেপে রাখা, নারীকেই সংসার ও সন্তান পালনের প্রধান দায়িত্বশীল মনে করা এবং পুরুষের উপার্জনক্ষমতাকে তার মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য।
পুরুষ মানেই উপার্জনকারী ও রক্ষাকর্তা
১৯ বছর বয়সী এক তরুণের কাছে একজন পুরুষের মূল্য নির্ধারিত হয় পরিবারকে আর্থিকভাবে চালানোর সক্ষমতা এবং সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে। তার বেড়ে ওঠার পরিবেশও ছিল এমন, যেখানে বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এবং মা মূলত সন্তান পালন ও ঘরের দায়িত্ব সামলাতেন।
ছেলেটির ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা ছোটবেলা থেকেই তাকে বলে এসেছেন, বাবার অনুপস্থিতিতে তাকেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে এবং দুর্বল হওয়া যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিও তার এই ধারণাকে আরও শক্ত করেছে। অনলাইনে প্রচারিত এমন বক্তব্যে পুরুষকে শক্ত, কর্তৃত্বশীল এবং আবেগহীন হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
তবে একই সমাজে এমন পুরুষও আছেন, যারা নিজেদের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন শিক্ষা নিয়েছেন।
৪৪ বছর বয়সী এক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক ঐতিহ্যগত পরিবারে বড় হলেও নিজের দুই কিশোর ছেলেকে পুরুষত্বের অন্য একটি ধারণা শেখানোর চেষ্টা করছেন। তার মতে, দায়িত্বশীল, দৃঢ় ও সহনশীল হওয়ার পাশাপাশি একজন পুরুষের যত্নশীল, আবেগপ্রবণ এবং নিজের দুর্বলতা প্রকাশে সক্ষম হওয়াও স্বাভাবিক।
আবেগ প্রকাশকে দুর্বলতা ভাবার প্রবণতা
জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের ৭২ শতাংশ মনে করেন, একজন পুরুষের মূল্য তার উপার্জন ও পরিবারকে সরবরাহ করার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। আবার ৫৫ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, তারা নিজেদের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন না, কারণ এতে তাদের দুর্বল মনে হয়।
১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই ধারণার সমর্থন সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিপরীতে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে তা প্রায় ৪৯ শতাংশ।
প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, পুরুষত্বের প্রচলিত আদর্শ পূরণ করার জন্য তারা চাপ অনুভব করেন। তরুণদের মধ্যে এই চাপ আরও বেশি। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ৭০ শতাংশ এমন চাপের কথা জানিয়েছেন।
এক তরুণের অভিজ্ঞতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ছেলেদের স্কুলে পড়ার সময় তিনি দেখেছেন, আবেগ প্রকাশ করা বা নিজের কষ্টের কথা বলা ছেলেদের মধ্যে প্রায়ই উপহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়াত। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বুঝতেই পারেননি যে নিজের মন খারাপের কথা বলা বা দুর্বলতা স্বীকার করাও স্বাভাবিক আচরণ হতে পারে।
সংসারের দায়িত্ব কি শুধু নারীর?
সন্তান পালন ও গৃহস্থালির কাজ নারী-পুরুষের সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত—এমন মতই জরিপে সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরুষের। তবে বয়সভেদে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় ২৯ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের প্রায় ২৬ শতাংশ মনে করেন, এসব দায়িত্ব নারীর ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি থাকা উচিত। ৪৫ থেকে ৫৪ বছর এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ১০ শতাংশ।
তরুণদের কেউ কেউ মনে করেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে নারীর মধ্যেই সন্তান ও পরিবারের যত্ন নেওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা বেশি। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে নারীরা জৈবিকভাবে পরিবারের বেশি দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্বভাবগতভাবে প্রস্তুত—এমন বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য নেই।
অন্যদিকে, কিছু পুরুষ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সমতার দিকে ঝুঁকেছেন। একজন তরুণ বলেছেন, তার মা সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও কাজে ফিরে গিয়েছিলেন। পরে তিনি দেখেছেন, বিয়ের পর বিশেষ করে এশীয় সমাজে নারীদের ওপর সন্তান, পরিবার ও সামাজিক প্রত্যাশার চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে।
স্ত্রীর সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে তার নিজের ইচ্ছা ও শারীরিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন নিজের পরিবার ও কাছের নারীদের অভিজ্ঞতা থেকে।
বাস্তব জীবন বদলে দিচ্ছে পুরুষদের ধারণা
কিছু বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতাও দেখাচ্ছে, বাস্তব জীবনের প্রয়োজন অনেক সময় প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার ধারণা বদলে দেয়।
৪৫ বছর বয়সী এক গণমাধ্যমকর্মী জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তার পরিবারে পুরুষের দায়িত্ব ছিল বাইরে কাজ করে অর্থ উপার্জন করা, আর নারীর দায়িত্ব ছিল সন্তান পালন, রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঘর সামলানো।
কিন্তু বর্তমানে তিনি ও তার সঙ্গী দুজনেই কাজ করেন এবং তাদের সন্তান নেই। ফলে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ঘরের কাজ ও অন্যান্য দায়িত্ব তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
একইভাবে, ৩১ বছর বয়সী এক গবেষক জানিয়েছেন, তার পরিবারেও বাবা-মায়ের দায়িত্ব আলাদা ছিল। মা রান্না ও ঘরের কাজ করতেন, বাবা সামলাতেন অর্থনৈতিক বিষয়। কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি এমন সংসার চান, যেখানে দুজনেই ঘরের যেকোনো দায়িত্ব সামলাতে পারবেন।
যৌন সম্মতি নিয়েও উদ্বেগজনক ধারণা
জরিপের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো যৌন সম্মতি ও নারীর শারীরিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে পুরুষদের কিছু ধারণা।
প্রায় ৩৪ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, যৌন উত্তেজিত অবস্থায় একজন পুরুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। প্রায় ৩৭ শতাংশ মনে করেন, কোনো নারী কোনো যৌন কর্মকাণ্ডে সম্মতি দেওয়ার পর মত পরিবর্তন করলে পুরুষকে থেমে যাওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না।
এ ছাড়া ৫৫ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, স্থায়ী সম্পর্কে থাকা একজন পুরুষ তার সঙ্গীর কাছ থেকে যৌন সম্পর্ক পাওয়ার অধিকার রাখেন। বিয়ের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—প্রায় ৭২ শতাংশ।
নারীর পোশাক বা আচরণকে হয়রানির জন্য দায়ী করার প্রবণতাও জরিপে উঠে এসেছে। প্রায় ৬৭ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, কোনো নারী পুরুষের সঙ্গে রসিকতা বা ঘনিষ্ঠ আচরণ করলে পরে হয়রানির শিকার হলে তারও আংশিক দায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারণা যৌন সহিংসতা ও নারীর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
তরুণ পুরুষদের মধ্যে পুরুষত্ব নিয়ে পুরোনো ধারণা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
অনলাইনে এমন একটি পরিসর তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু পুরুষ নিজেদের আধুনিক সমাজ, নারীবাদ কিংবা সম্পর্কের কাছে বঞ্চিত মনে করেন। এই অনলাইন গোষ্ঠীগুলোকে সামগ্রিকভাবে পুরুষকেন্দ্রিক অনলাইন জগত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এ ধরনের গোষ্ঠীতে ব্যক্তিগত হতাশা ও একাকিত্বের জন্য নারীদের, আধুনিক সম্পর্ক কিংবা সমাজব্যবস্থাকে দায়ী করার প্রবণতা দেখা যায়। এতে একজন তরুণ সাময়িকভাবে নিজের হতাশার স্বীকৃতি পেলেও তার নেতিবাচক ধারণা আরও শক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ, রাগ ও বিতর্কিত বক্তব্য বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রবণতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে দায়ী করলেই পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। একাকিত্ব, বন্ধুত্বের অভাব, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পারার হতাশাও তরুণদের এসব গোষ্ঠীর দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তরুণদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কেন?
তবে সিঙ্গাপুরের সমাজবিজ্ঞানীদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, শুধু একটি জরিপের ফল দেখে তরুণ পুরুষরা আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি রক্ষণশীল হয়ে পড়ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
দীর্ঘ সময়ের বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, তরুণ সিঙ্গাপুরীয়রা সামগ্রিকভাবে নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি উদার। যেমন চাকরির সংকটের সময় পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, ছেলেদের শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত কিংবা মায়ের চাকরি সন্তানের ক্ষতি করে—এমন ধারণার সমর্থন তরুণদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্ক পুরুষরা দীর্ঘ বিবাহিত জীবন, সন্তান পালন এবং সংসার পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে দায়িত্ব ভাগাভাগির বাস্তব প্রয়োজন বুঝতে পারেন। অন্যদিকে অবিবাহিত তরুণরা অনেক সময় বাস্তব অভিজ্ঞতার বদলে সমাজে প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সংসার সম্পর্কে মত দেন।
স্বাস্থ্যকর পুরুষত্বের প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরুষত্বের ধারণাকে বাতিল করার প্রয়োজন নেই; বরং এর সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা দরকার।
শক্তি, সাহস, দায়িত্বশীলতা, পরিবারকে রক্ষা করা কিংবা উপার্জন করা—এসব গুণের মধ্যে নিজে থেকে সমস্যা নেই। সমস্যা তৈরি হয় যখন শক্তিকে সহিংসতার সঙ্গে, দায়িত্বকে কর্তৃত্বের সঙ্গে এবং আবেগকে দুর্বলতার সঙ্গে এক করে দেখা হয়।
পুরুষদের জন্য এমন পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তারা নিজেদের ভয়, কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন। একই সঙ্গে নারীর সম্মতি, শারীরিক স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদার বিষয়েও ছোটবেলা থেকেই স্পষ্ট শিক্ষা প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আবেগ বোঝার শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং সহায়তা নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রেও বাবাদের সন্তান পালনে অংশ নেওয়াকে স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বদল শুরু হতে পারে পরিবার থেকেই
পুরুষত্বের ধারণা বদলের সবচেয়ে কার্যকর জায়গাগুলোর একটি হতে পারে পরিবার।
এক বাবা তার দুই কিশোর ছেলের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেন পুরুষ হওয়া মানে কী, শক্ত হওয়া মানে কী এবং রাগ বা বিরক্তির সঙ্গে কীভাবে স্বাস্থ্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।
ছেলেরা ঝগড়ায় জড়িয়ে শারীরিকভাবে মারামারি করতে চাইলে তিনি তাদের প্রশ্ন করেন, কাউকে আঘাত করাই কি সত্যিই পুরুষত্বের প্রমাণ? এভাবে তিনি সন্তানদের শেখাতে চান, শক্তিশালী হওয়া মানে অন্যকে আঘাত করা নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের সামনে এমন ইতিবাচক আদর্শ তুলে ধরা জরুরি, যেখানে একজন পুরুষ একই সঙ্গে দৃঢ় ও কোমল, দায়িত্বশীল ও যত্নশীল, আত্মবিশ্বাসী ও নিজের দুর্বলতা প্রকাশে সক্ষম হতে পারেন।
কারণ পুরুষত্বের পুরোনো ধারণার ক্ষতি শুধু নারীদের ওপর পড়ে না। আবেগ চেপে রাখা, সবসময় শক্ত থাকার চাপ এবং নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে না পারা পুরুষদের সম্পর্ক, মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক জীবনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সুস্থ পুরুষত্বের অর্থ হয়তো পুরোনো কোনো ছাঁচে নিজেকে ঢেলে দেওয়া নয়; বরং নিজের দায়িত্ব স্বীকার করা, অন্যের মর্যাদা ও সম্মতিকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময়ে নিজের দুর্বলতাকেও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শেখা।
প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণা বদলের এই আলোচনা তাই শুধু নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নয়; এটি পরিবার, সম্পর্ক, মানসিক সুস্থতা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রশ্নও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















