একসময় গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনতেন তিনি। সন্তানদের আবার স্কুলে পাঠাতে পারলে যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অনুভূতি বদলে গেছে। এখন তাঁর দুই ছোট সন্তান একাদশ শ্রেণিতে উঠছে, আর স্কুল খোলার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই মনে হচ্ছে—আর যদি এক সপ্তাহ ছুটি থাকত!
মা হওয়ার অভিজ্ঞতা সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলে যায়, সেই অনুভূতির কথাই তুলে ধরেছেন এক মার্কিন মা।
ছোটবেলার গ্রীষ্ম ছিল অন্যরকম
সন্তানরা যখন ছোট ছিল, তখন গ্রীষ্মের ছুটি যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি ছিল ক্লান্তিকরও। সারাদিনের হৈচৈ, বারবার খাবারের আবদার, ঘরের অগোছালো অবস্থা আর একের পর এক ছোটখাটো দুষ্টুমি—সব মিলিয়ে আগস্ট এলেই তিনি আবার স্কুল খোলার অপেক্ষা করতেন।
বন্ধু মায়েদের সঙ্গে সন্তানদের স্কুলে ফেরার দিন উদ্যাপনের পরিকল্পনাও করতেন। তখন মনে হতো, নিয়মিত রুটিনে ফিরে যাওয়াই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
এখন ঘরে থাকুক আরও কিছুদিন
কিন্তু কিশোর বয়সে পৌঁছানোর পর সন্তানদের নিয়ে তাঁর অনুভূতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন আর নিরিবিলি বাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন না। বরং মনে হয়, গ্রীষ্মের এই ধীরগতির দিনগুলো আরও কিছুটা দীর্ঘ হোক।
সকালের তাড়াহুড়া নেই, নির্দিষ্ট সময়ের চাপ নেই। পরিবারের সবাই মিলে সময় কাটানো, বাইরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা অলস বিকেল উপভোগ করার সুযোগ থাকে। তাঁর কাছে এই সময়গুলো এখন অনেক বেশি মূল্যবান।
কিশোর সন্তান মানেই সব সহজ নয়
তবে এর অর্থ এই নয় যে কিশোর সন্তানদের নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। তারা উচ্চস্বরে কথা বলে, প্রায় সব সময়ই কিছু না কিছু খেতে চায়, আর ঘরের কাজও অনেক বেড়ে যায়।
তিনি বাসা থেকেই কাজ করেন। তাই সন্তানরা সারাদিন বাড়িতে থাকলে কাজের পরিবেশেও প্রভাব পড়ে। তবু আগে যেসব বিষয় তাঁকে দ্রুত স্কুল খোলার অপেক্ষায় রাখত, এখন সেগুলো আর তেমন বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে না।

নতুন শিক্ষাবর্ষ মানেই নতুন চাপ
তাঁর কাছে স্কুলে ফেরার সময়টা আনন্দের চেয়ে চাপের বেশি। নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হওয়া, নতুন শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয়, বিভিন্ন কাগজপত্র পূরণ করা, ক্লাসের সময়সূচি ঠিক করা—সব মিলিয়ে পুরো পরিবারকেই নতুন ছন্দে ফিরতে হয়।
গ্রীষ্মের আরামদায়ক দিন থেকে হঠাৎ ব্যস্ত জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর কাছে যেন ঠান্ডা পানির ঝাপটার মতোই অস্বস্তিকর।
বড় হয়ে ওঠা আনন্দের, তবু সময়টা একটু ধীরে যাক
তিনি চান না সন্তানরা চিরকাল ছোটই থেকে যাক। বরং তাদের বড় হতে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যেতে দেখার আনন্দও তাঁর আছে।
তবু যখন ভাবেন, কলেজে যাওয়ার দিনও খুব দূরে নয়, তখন মনে হয় সময় যেন অনেক দ্রুত চলে যাচ্ছে। তাই এখন তাঁর একটাই ইচ্ছা—গ্রীষ্মের ছুটিটা যদি আর মাত্র এক সপ্তাহ দীর্ঘ হতো!
গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হওয়ার এই অনুভূতি হয়তো শুধু একজন মায়ের নয়; সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়ের মূল্য নতুন করে উপলব্ধি করা অনেক অভিভাবকেরই পরিচিত এক আবেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 















