বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবার কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। একটি উপকেন্দ্রে সফল পরীক্ষার পর দেশটি ধাপে ধাপে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
সফল পরীক্ষার পর বড় পরিকল্পনা
চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই শহরের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে টানা ১৮ মাস ধরে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি বা সম্ভাব্য সমস্যা খুব দ্রুত শনাক্ত ও নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই সাফল্যের ভিত্তিতেই চীন এখন দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোয়ান্টামভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি
এই উদ্যোগে উচ্চ-নির্ভুলতা সম্পন্ন সংবেদক, উন্নত গণনাভিত্তিক অনুকরণ ব্যবস্থা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির বিভিন্ন সক্ষমতা একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরঞ্জামের অবস্থা আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং সম্ভাব্য ত্রুটি অনেক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে এবং আকস্মিক বিভ্রাটের ঝুঁকি কমে আসতে পারে।
কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ
কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এমন এক পদার্থবিজ্ঞানের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে ক্ষুদ্রতম কণাগুলো পরিমাপের আগে একই সময়ে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সুপারপজিশন।
এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে তথ্য পরিমাপ, গণনা ও আদান-প্রদানে প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুলতা, গতি এবং নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব। যদিও প্রযুক্তিটি এখনও গবেষণাগার থেকে বাস্তব ব্যবহারের পর্যায়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে, তবু এর সম্ভাবনা অত্যন্ত বিস্তৃত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যতের স্মার্ট বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পথে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ গ্রিডে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সফল ব্যবহার ভবিষ্যতে স্মার্ট অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে শুধু বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে না, বরং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কমতে পারে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
চীনের এই উদ্যোগ সফল হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করতে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















