ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন বিজেপির সাবেক মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, মোদি “ঠিকমতো স্বৈরশাসক হতে পারেননি” এবং এ জন্য তাঁকে রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে “শেখার” পরামর্শ দেন। তাঁর এই মন্তব্য মূলত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জরুরি অবস্থার (ইমার্জেন্সি) প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।
ক্ষমা করার প্রসঙ্গ টেনে ব্যঙ্গ
ভিডিওতে শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর পার করেও নরেন্দ্র মোদি “একজন প্রকৃত স্বৈরশাসকের মতো আচরণ করতে ব্যর্থ” হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সম্প্রতি যেসব তরুণ বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী, সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিদের এবং তাঁর মাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে মোদি তাঁদের “দুষ্টুমি করা বাচ্চা” বলে উল্লেখ করে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
তিনি এ মন্তব্যের মাধ্যমে ৩১ জুলাই রাতে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওর প্রসঙ্গ টানেন। ওই ভিডিওতে মোদি সাম্প্রতিক জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অশালীন ভাষা ব্যবহারকারীদের ক্ষমা করার কথা বলেন।
রাহুল ও নেহরু-গান্ধী পরিবারকে টেনে মন্তব্য
শেহজাদ পুনাওয়ালা তাঁর বক্তব্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী ইন্দিরা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর উত্তরসূরি। তাই “প্রকৃত স্বৈরশাসন” এবং “জরুরি অবস্থা” সম্পর্কে তাঁদের ইতিহাস থেকেই শেখার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ করেন এবং অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার উদাহরণ টানেন। এর মধ্যে ২০১১-১২ সালের আন্না হাজারে আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতির কথাও বলেন। পাশাপাশি কংগ্রেস-শাসিত কেরালা ও তেলেঙ্গানায় ইনস্টাগ্রাম পোস্ট এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ও তুলে ধরেন।
ভিডিওর শেষ অংশে পুনাওয়ালা আবারও ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি স্বৈরশাসক হতে পারেননি, আপনি ব্যর্থ হয়েছেন।”

জরুরি অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ
শেহজাদ পুনাওয়ালার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারতে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
গত ২৯ জুলাই রাজ্যসভায় উত্তপ্ত আলোচনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ২০ জুলাইয়ের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার সময় ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁকে একাধিকবার শ্রেণিকক্ষ থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সে সময় এমন ঘটনা “খুবই স্বাভাবিক” ছিল।
নাড্ডার এই বক্তব্য আসে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সমালোচনার জবাবে। খাড়গে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে নাড্ডার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পুনরায় শেয়ার করেন। দলটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও মন্তব্য করেন, এর অর্থ কি গত ৫০ বছরে দেশের পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনই ঘটেনি?
মোদিকে ‘স্বৈরশাসক হতে শেখার’ কটাক্ষ; শেহজাদ পুনাওয়ালার ভিডিও ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















