আগামী ১০ বছরের মধ্যে জাপানি মূলধনের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হয়ে উঠবে ভারত। বিশেষ করে আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, নতুন উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক উদ্যোগে জাপানের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের সংগঠন এএমএফআই-এর চেয়ারম্যান এবং নিপ্পন লাইফ ইন্ডিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ সিক্কা।
জাপানের অর্থ, ভারতের প্রবৃদ্ধি
সন্দীপ সিক্কার মতে, জাপানের হাতে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিত মূলধন রয়েছে, কিন্তু দেশটির অভ্যন্তরে সেই অর্থ বিনিয়োগের মতো পর্যাপ্ত প্রবৃদ্ধির সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই দুই বাস্তবতা ভারত ও জাপানকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আদর্শ অংশীদারে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, বড় কোনো নীতিগত ভুল না হলে ভবিষ্যতে জাপানের মূলধনের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত।
নতুন খাতে বাড়ছে জাপানের আগ্রহ
সিক্কা জানান, এতদিন জাপানি বিনিয়োগের প্রধান লক্ষ্য ছিল উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো। তবে এখন সেই ধারা বদলাচ্ছে। আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, রাসায়নিক শিল্প এবং বিভিন্ন সেবাখাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
তার ভাষ্য, জাপানের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ভারতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ খুঁজছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও রাসায়নিক খাতে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী।
![]()
বছরে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ
গত বছরে জাপান প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার ভারতে বিনিয়োগ করেছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন সিক্কা।
তিনি বলেন, জাপানের অর্থনীতি ক্রমেই বয়স্ক জনসংখ্যানির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে দেশটির বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় বাজার খুঁজছেন, যেখানে ভারত সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।
স্বল্পমেয়াদি নয়, প্রজন্মভিত্তিক পরিকল্পনা
সিক্কার মতে, জাপানি ব্যবসায়িক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তারা কয়েক মাস বা কয়েক বছরের লাভের চেয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে—এমন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ কারণেই ভারতের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।
বর্তমানে ভারত ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪০০০ কোটি মার্কিন ডলার।
দেশীয় বিনিয়োগে শেয়ারবাজার আরও শক্তিশালী
সন্দীপ সিক্কার মতে, ভারতে নিয়মিত কিস্তিভিত্তিক বিনিয়োগের জনপ্রিয়তা শেয়ারবাজারকে নতুন শক্তি দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেশীয় বিনিয়োগকারী নিয়মিত অর্থ বিনিয়োগ করায় বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলেও বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা ভারতের পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















