০৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ভালোবাসার ভিড়েও কেন মানুষ একা? নিঃসঙ্গতার বীজ লুকিয়ে থাকে শৈশবের অদৃশ্য ক্ষতে যেখানে পাহাড়ই শিল্পশালা: লাদাখের আকাশছোঁয়া প্রান্তরে শিল্পের নতুন ভাষা পুরুষের চোখে নারীর প্রতিচ্ছবি: গভীর বিশ্লেষণের শক্তি, সময়ের সঙ্গে সংলাপের অপূর্ণতা স্ক্রিনের ক্লান্তি ছেড়ে আবার চিঠির টানে তরুণেরা: হাতে লেখা খামে ফিরছে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি শুল্ক কমতেই চীনে ফিরছে মার্কিন কোম্পানিগুলোর উৎপাদন পরিকল্পনা ভারতের কলেজে ভর্তির স্বপ্ন এখন ব্যয়বহুল, বাড়ছে পরিবারের আর্থিক চাপ টানা ধাক্কায় অনোয়ারের জোট, নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে মালয়েশিয়া প্রতিবাদের ময়দানে এক সাংবাদিকের যাত্রা: কৌতূহল, সংশয় ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন নগরায়ণের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে বেঙ্গালুরুর ঐতিহ্যবাহী ফলের ঝুড়ি, সংকটে দেশি ফল ও সবজির চাষ যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় বাধা: চিকিৎসা চলছে, কিন্তু সরকারি সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না

আগামী দশকে জাপানি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত

আগামী ১০ বছরের মধ্যে জাপানি মূলধনের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হয়ে উঠবে ভারত। বিশেষ করে আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, নতুন উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক উদ্যোগে জাপানের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের সংগঠন এএমএফআই-এর চেয়ারম্যান এবং নিপ্পন লাইফ ইন্ডিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ সিক্কা।

জাপানের অর্থ, ভারতের প্রবৃদ্ধি

সন্দীপ সিক্কার মতে, জাপানের হাতে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিত মূলধন রয়েছে, কিন্তু দেশটির অভ্যন্তরে সেই অর্থ বিনিয়োগের মতো পর্যাপ্ত প্রবৃদ্ধির সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই দুই বাস্তবতা ভারত ও জাপানকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আদর্শ অংশীদারে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, বড় কোনো নীতিগত ভুল না হলে ভবিষ্যতে জাপানের মূলধনের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত।

নতুন খাতে বাড়ছে জাপানের আগ্রহ

সিক্কা জানান, এতদিন জাপানি বিনিয়োগের প্রধান লক্ষ্য ছিল উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো। তবে এখন সেই ধারা বদলাচ্ছে। আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, রাসায়নিক শিল্প এবং বিভিন্ন সেবাখাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।

তার ভাষ্য, জাপানের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ভারতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ খুঁজছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও রাসায়নিক খাতে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী।

India will be the biggest destination for Japanese capital in a decade:  AMFI chairman Sundeep Sikka - The Hindu

বছরে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ

গত বছরে জাপান প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার ভারতে বিনিয়োগ করেছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন সিক্কা।

তিনি বলেন, জাপানের অর্থনীতি ক্রমেই বয়স্ক জনসংখ্যানির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে দেশটির বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় বাজার খুঁজছেন, যেখানে ভারত সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

স্বল্পমেয়াদি নয়, প্রজন্মভিত্তিক পরিকল্পনা

সিক্কার মতে, জাপানি ব্যবসায়িক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তারা কয়েক মাস বা কয়েক বছরের লাভের চেয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে—এমন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ কারণেই ভারতের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

বর্তমানে ভারত ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪০০০ কোটি মার্কিন ডলার।

দেশীয় বিনিয়োগে শেয়ারবাজার আরও শক্তিশালী

সন্দীপ সিক্কার মতে, ভারতে নিয়মিত কিস্তিভিত্তিক বিনিয়োগের জনপ্রিয়তা শেয়ারবাজারকে নতুন শক্তি দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেশীয় বিনিয়োগকারী নিয়মিত অর্থ বিনিয়োগ করায় বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলেও বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা ভারতের পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালোবাসার ভিড়েও কেন মানুষ একা? নিঃসঙ্গতার বীজ লুকিয়ে থাকে শৈশবের অদৃশ্য ক্ষতে

আগামী দশকে জাপানি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত

০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ১০ বছরের মধ্যে জাপানি মূলধনের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হয়ে উঠবে ভারত। বিশেষ করে আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, নতুন উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক উদ্যোগে জাপানের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের সংগঠন এএমএফআই-এর চেয়ারম্যান এবং নিপ্পন লাইফ ইন্ডিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ সিক্কা।

জাপানের অর্থ, ভারতের প্রবৃদ্ধি

সন্দীপ সিক্কার মতে, জাপানের হাতে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিত মূলধন রয়েছে, কিন্তু দেশটির অভ্যন্তরে সেই অর্থ বিনিয়োগের মতো পর্যাপ্ত প্রবৃদ্ধির সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই দুই বাস্তবতা ভারত ও জাপানকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আদর্শ অংশীদারে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, বড় কোনো নীতিগত ভুল না হলে ভবিষ্যতে জাপানের মূলধনের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত।

নতুন খাতে বাড়ছে জাপানের আগ্রহ

সিক্কা জানান, এতদিন জাপানি বিনিয়োগের প্রধান লক্ষ্য ছিল উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো। তবে এখন সেই ধারা বদলাচ্ছে। আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, রাসায়নিক শিল্প এবং বিভিন্ন সেবাখাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।

তার ভাষ্য, জাপানের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ভারতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ খুঁজছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও রাসায়নিক খাতে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী।

India will be the biggest destination for Japanese capital in a decade:  AMFI chairman Sundeep Sikka - The Hindu

বছরে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ

গত বছরে জাপান প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার ভারতে বিনিয়োগ করেছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন সিক্কা।

তিনি বলেন, জাপানের অর্থনীতি ক্রমেই বয়স্ক জনসংখ্যানির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে দেশটির বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় বাজার খুঁজছেন, যেখানে ভারত সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

স্বল্পমেয়াদি নয়, প্রজন্মভিত্তিক পরিকল্পনা

সিক্কার মতে, জাপানি ব্যবসায়িক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তারা কয়েক মাস বা কয়েক বছরের লাভের চেয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে—এমন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ কারণেই ভারতের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

বর্তমানে ভারত ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪০০০ কোটি মার্কিন ডলার।

দেশীয় বিনিয়োগে শেয়ারবাজার আরও শক্তিশালী

সন্দীপ সিক্কার মতে, ভারতে নিয়মিত কিস্তিভিত্তিক বিনিয়োগের জনপ্রিয়তা শেয়ারবাজারকে নতুন শক্তি দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেশীয় বিনিয়োগকারী নিয়মিত অর্থ বিনিয়োগ করায় বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলেও বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা ভারতের পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল করে তুলছে।