১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মুম্বাইয়ে জেন-জির মুখোমুখি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, ছাত্র বিক্ষোভের পর বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সুপারমার্কেটে বিস্ফোরণ: ধর্মীয় আলেম নিহত, লক্ষ্য করেই বোমা পাতা হয়েছিল সন্দেহ জেন জি বিক্ষোভের রেশের মধ্যেই ব্যাংকিপুর-১৫৬ আসনে প্রশান্ত কিশোরের জয়, তিন উপনির্বাচনে দুই ধাক্কা বিজেপির রূপপুর প্রকল্পের আবাসিকে দুই রুশ নাগরিকের সংঘর্ষ, নিহত ১ রাজবাড়ীতে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, একই পরিবারের চার সদস্যসহ আহত ৮ শেখ হাসিনা ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: এনসিপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্য গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে পাবনার যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্র, চলছে যৌথ উদ্ধার অভিযান

তরুণ ভোটারদের নতুন বার্তা: কর্মদক্ষতার রাজনীতিই ভবিষ্যৎ

ভারতের তরুণ প্রজন্মকে এতদিন মূলত অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে। কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন কিংবা ভোগব্যয়ের প্রসঙ্গে তাদের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও যে এই বিশাল জনগোষ্ঠী একটি শক্তিশালী পরিবর্তনের মাধ্যম হতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

তরুণদের ক্ষোভ কেন বাড়ছে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, বেকারত্বের চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই ক্ষোভকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। তবে কেবল অনলাইন প্রচারণা দিয়ে হাজার হাজার তরুণকে রাস্তায় নামানো সম্ভব নয়। এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশা ও আস্থার সংকট।

যে কোনো গণআন্দোলনের শক্তি কেবল তার দাবিতে নয়, বরং মানুষের মনে সেই দাবির প্রতি বিশ্বাস তৈরিতে। তাই তরুণদের ক্ষোভকে শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা দরকার।

গণতন্ত্রে জবাবদিহির প্রশ্ন

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি। কিন্তু ভোটের পর নাগরিকরা প্রায়ই মনে করেন, তাদের মতামতের গুরুত্ব পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সীমিত। এই বাস্তবতা থেকে প্রশ্ন উঠছে—জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করার আরও কার্যকর উপায় কী হতে পারে?

শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মূল্যায়নও এখন নাগরিকদের প্রত্যাশার অংশ হয়ে উঠছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে জানতে চায়, তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিতর্ক নয়, সমাধানের রাজনীতি

গণতন্ত্রে মতভেদ স্বাভাবিক। কিন্তু মতভেদ যদি স্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়, তাহলে নীতিনির্ধারণ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো পিছিয়ে পড়ে। সংসদ থেকে শুরু করে টেলিভিশনের বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই অনেক সময় যুক্তির চেয়ে উচ্চস্বরে কথা বলাই যেন বেশি গুরুত্ব পায়।

অথচ পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সমস্যার সমাধান হয় আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে। রাজনীতিও যদি একই সংস্কৃতি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে গণতন্ত্র আরও কার্যকর হতে পারে।

After 12 years at the helm, the BJP finds limited legroom for its political  calculations - The Hindu

তরুণ ভোটারদের শক্তি

ভারতের জনসংখ্যার বড় একটি অংশই তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠী যদি সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক কৌশল—দুটিই বদলে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবর্তনের জন্য সব সময় রাস্তায় নামার প্রয়োজন হয় না। ভোটকেন্দ্রে সচেতন সিদ্ধান্তও একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বার্তা হতে পারে। তরুণ ভোটাররা যদি দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে ভাবতে হবে।

আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষার্থী বা তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কোনো আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি। যদি সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা জন্মায় যে আন্দোলনটি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠেছে, তাহলে তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল হতে পারে।

অন্যদিকে সরকারেরও উচিত নাগরিকদের প্রকৃত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ উপেক্ষা করলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে

পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল নয়; অনেক ক্ষেত্রে সমাজের একটি অংশও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। নাগরিকদেরও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভবিষ্যতের গণতন্ত্র কোন পথে?

একটি পরিণত গণতন্ত্রে সরকার ভুল স্বীকার করতে পারে, বিরোধী দল শুধু সমালোচনা নয়, সমাধানের পথও দেখায়, আর ভোটাররা দল নয়—কাজকে মূল্যায়ন করেন। এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, অনেক বড় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনই একসময় অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল।

আজকের তরুণ প্রজন্ম সেই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে। তাদের প্রত্যাশা স্পষ্ট—প্রতিশ্রুতি নয়, ফলাফল; স্লোগান নয়, সুশাসন; বিভাজন নয়, জবাবদিহি। আর সেই বার্তাই আগামী দিনের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুম্বাইয়ে জেন-জির মুখোমুখি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, ছাত্র বিক্ষোভের পর বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক

তরুণ ভোটারদের নতুন বার্তা: কর্মদক্ষতার রাজনীতিই ভবিষ্যৎ

০৭:০৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের তরুণ প্রজন্মকে এতদিন মূলত অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে। কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন কিংবা ভোগব্যয়ের প্রসঙ্গে তাদের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও যে এই বিশাল জনগোষ্ঠী একটি শক্তিশালী পরিবর্তনের মাধ্যম হতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

তরুণদের ক্ষোভ কেন বাড়ছে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, বেকারত্বের চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই ক্ষোভকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। তবে কেবল অনলাইন প্রচারণা দিয়ে হাজার হাজার তরুণকে রাস্তায় নামানো সম্ভব নয়। এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশা ও আস্থার সংকট।

যে কোনো গণআন্দোলনের শক্তি কেবল তার দাবিতে নয়, বরং মানুষের মনে সেই দাবির প্রতি বিশ্বাস তৈরিতে। তাই তরুণদের ক্ষোভকে শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা দরকার।

গণতন্ত্রে জবাবদিহির প্রশ্ন

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি। কিন্তু ভোটের পর নাগরিকরা প্রায়ই মনে করেন, তাদের মতামতের গুরুত্ব পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সীমিত। এই বাস্তবতা থেকে প্রশ্ন উঠছে—জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করার আরও কার্যকর উপায় কী হতে পারে?

শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মূল্যায়নও এখন নাগরিকদের প্রত্যাশার অংশ হয়ে উঠছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে জানতে চায়, তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিতর্ক নয়, সমাধানের রাজনীতি

গণতন্ত্রে মতভেদ স্বাভাবিক। কিন্তু মতভেদ যদি স্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়, তাহলে নীতিনির্ধারণ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো পিছিয়ে পড়ে। সংসদ থেকে শুরু করে টেলিভিশনের বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই অনেক সময় যুক্তির চেয়ে উচ্চস্বরে কথা বলাই যেন বেশি গুরুত্ব পায়।

অথচ পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সমস্যার সমাধান হয় আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে। রাজনীতিও যদি একই সংস্কৃতি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে গণতন্ত্র আরও কার্যকর হতে পারে।

After 12 years at the helm, the BJP finds limited legroom for its political  calculations - The Hindu

তরুণ ভোটারদের শক্তি

ভারতের জনসংখ্যার বড় একটি অংশই তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠী যদি সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক কৌশল—দুটিই বদলে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবর্তনের জন্য সব সময় রাস্তায় নামার প্রয়োজন হয় না। ভোটকেন্দ্রে সচেতন সিদ্ধান্তও একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বার্তা হতে পারে। তরুণ ভোটাররা যদি দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে ভাবতে হবে।

আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষার্থী বা তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কোনো আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি। যদি সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা জন্মায় যে আন্দোলনটি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠেছে, তাহলে তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল হতে পারে।

অন্যদিকে সরকারেরও উচিত নাগরিকদের প্রকৃত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ উপেক্ষা করলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে

পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল নয়; অনেক ক্ষেত্রে সমাজের একটি অংশও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। নাগরিকদেরও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভবিষ্যতের গণতন্ত্র কোন পথে?

একটি পরিণত গণতন্ত্রে সরকার ভুল স্বীকার করতে পারে, বিরোধী দল শুধু সমালোচনা নয়, সমাধানের পথও দেখায়, আর ভোটাররা দল নয়—কাজকে মূল্যায়ন করেন। এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, অনেক বড় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনই একসময় অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল।

আজকের তরুণ প্রজন্ম সেই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে। তাদের প্রত্যাশা স্পষ্ট—প্রতিশ্রুতি নয়, ফলাফল; স্লোগান নয়, সুশাসন; বিভাজন নয়, জবাবদিহি। আর সেই বার্তাই আগামী দিনের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।