বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেককে (বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ) বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও জানিয়েছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বিমসটেকের ভূমিকা নেপালের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে নেপাল সফর করেন। এ সময় তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নেপালের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন খাত নিয়ে আলোচনা হয়।
সংস্কৃতি, পর্যটন ও দারিদ্র্য বিমোচনে নেপালের নেতৃত্ব
বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় সংস্কৃতি, পর্যটন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম। এসব খাতে বিমসটেকের মধ্যে নেপাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানানো হয়।
বিমসটেকের সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে নেপালের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে মহাসচিব ও নেপালের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা
বিমসটেকের মহাসচিব নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী খড়ক রাজ পৌডেল গণেশের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেখানে পর্যটন, সংস্কৃতি, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিমসটেকের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বিমসটেকের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টিও উঠে আসে।
বিমসটেকের প্রতি নেপালের অব্যাহত অঙ্গীকার
নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাইয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন ইন্দ্র মণি পাণ্ডে। এ সময় নেপালের পক্ষ থেকে বিমসটেকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নেপাল জানিয়েছে, আঞ্চলিক উন্নয়ন, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমসটেকের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে তারা সক্রিয় থাকবে।
নেপালে বিমসটেক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা
সফরকালে নেপালের পররাষ্ট্রবিষয়ক ইনস্টিটিউট আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিগত আলোচনায় অংশ নেন বিমসটেক মহাসচিব। সেখানে বিমসটেকের বিকাশ, লক্ষ্য, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিবিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন চিন্তাধারার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে একটি বক্তৃতা দেন মহাসচিব পাণ্ডে। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিমসটেকের লক্ষ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সংযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।
আঞ্চলিক সংযোগে বিমসটেকের ভূমিকা
সফরের সময় এশিয়া-প্যাসিফিক ব্রডকাস্টিং উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী ফিলোমেনা জ্ঞানপ্রাগাসামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন বিমসটেক মহাসচিব।
এ ছাড়া নেপাল টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা এবং বিমসটেকের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেক
বিমসটেকের সাত সদস্য দেশের একটি হলো নেপাল। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটি এই জোটে যোগ দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড নিয়ে গঠিত বিমসটেক বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে।
Sarakhon Report 

















