বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটরের বৈশ্বিক বিক্রি টানা পঞ্চম মাসের মতো কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, চীনের বাজারে মন্দা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতে এই পতন দেখা দিয়েছে।
টয়োটা মোটর জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে তাদের বৈশ্বিক বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৮ ইউনিটে নেমে এসেছে। এই হিসাবের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী সংস্থা দাইহাতসু মোটরের বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উৎপাদন বাড়লেও বিক্রিতে ধাক্কা
বিক্রি কমলেও জুন মাসে টয়োটার মোট উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই মাসে তারা ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৮টি গাড়ি উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
তবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে গাড়ি নির্মাতারা চাপের মুখে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের বাজারে বড় পতন
টয়োটা ও লেক্সাস ব্র্যান্ডের বিক্রি জুন মাসে মধ্যপ্রাচ্যে আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ এবং চীনে ২৭ শতাংশ কমেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা ও জাপানের বাজারে ভালো চাহিদা থাকলেও চীনের বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
টয়োটা এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর আমেরিকার বাজারে হাইব্রিড গাড়ি ও অন্যান্য মডেলের চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে রপ্তানিতে ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। টয়োটা এর আগে জানিয়েছিল, প্রতি বছর তারা মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ গাড়ি রপ্তানি করে।
প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই রপ্তানির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে টয়োটার নির্ভরতা বেশি হওয়ায় আঞ্চলিক অস্থিরতা সরাসরি বিক্রিতে প্রভাব ফেলছে।
চীনের তীব্র প্রতিযোগিতাও বড় কারণ
চীনের গাড়ির বাজারে স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা টয়োটার জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির বাজারে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বড় গাড়ি কোম্পানিগুলো নতুন কৌশল গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও চীনের বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে টয়োটাসহ জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের সামনে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















